বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বর্তমান সরকার গোটা বিশ্বে উন্নয়নের রুল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোন চ্যালেঞ্জকেই এখন আমরা ভয় পাই না। বিনা যুদ্ধে সমুদ্র জয়, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কার্যক্রম শুরু এসব তারই প্রমাণ। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শেল সোনার বাংলা গড়তে প্রস্তুত রয়েছি। জনগণ আমাদের পাশে আছে। ইনশা আল্লাহ ডিসেম্বরে ভোট দিয়েই তারা সেটা প্রমাণ করবেন।
মন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ বলে দেশে নির্বাচন হবে না। যারা সংবিধানের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আসেন নির্বাচনে। জনগণ যদি আপনাদের গ্রহণ করে তাহলে আমাদের আপত্তি নাই। আর যদি আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে, তাহলে আপনাদেরও যেন আপত্তি না থাকে। সংবিধানের বাইরে প্রধানমন্ত্রী কিছু করবেন না। ডিসেম্বরেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলেন, বিচার বিভাগে নাকী স্বাধীনতা নাই। ৭৫ এর পর যখন বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলা না নিতে সংসদে আইন পাশ করানো হলো, তখন কি বিচার বিভাগ স্বাধীন ছিল? গোটা আইনাঙ্গন তখন বিষ্মিত ছিল। যখন ২১ বছরেও বঙ্গবন্ধু হত্যার এফআইআর হয় নাই, তখন কি বিচার বিভাগ স্বাধীন ছিল? প্রধান বিচারপতি নির্বাচিত করতে কলমের এক খোঁচায় বয়স ৬৫ থেকে ৬৭ করা হয়েছিল, তখন কি বিচার বিভাগ স্বাধীন ছিল? আর এখন যখন ৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে, এখন বলে বিচার বিভাগ স্বাধীন না। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ এখন যতোটা স্বাধীন, ৭৫ এর পর বিএনপি’র শাসনামলেও ততোটা স্বাধীন ছিল না।
নারায়ণগঞ্জের সাংসদ এবং আইনজীবীদের দাবীর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এতো সুন্দর ভাবে আমার কাছে দাবী গুলো উত্থাপন করা হয়েছে যে মন চাইছে গায়ের কালো কোট টা খুলে আপনাদের দিয়ে দেই। তবে কথা যখন দিয়েছি তখন সিজিএম কোর্ট এবং বার ভবন হবেই। পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট এর সাথে আলোচনা হয়েছে। তারা সিজিএম কোর্ট করার জন্য জায়গা দিতে রাজী হয়েছে তবে বর্তমান যে সিজিএম কোর্ট রয়েছে সেই জায়গাটা তারা দাবী করেছে। এছাড়াও দুই কোর্ট একত্রে করার জন্য ত্রিপাক্ষিক বৈঠকও হয়েছে। আশা করি নির্বাচনের আগেই পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিচারপ্রার্থী জনগণ ও আইনজীবীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এবং বিচার ব্যবস্থা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আমরা এই বিষয়টিকে নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি দিয়েছি।
আইনমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের বিষয়টি উল্লেখ্য থাকলেও ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সেটি করা হয় নাই। এতে করে আদালত প্রাঙ্গনে ভাগাভাগি করে কাজ করতে হতো। ফলে মামলার পরিমাণ দিনকে দিন বেড়েই যাচ্ছিল। যদিও ২০০৭ সালে ক্ষমতার শেষ প্রান্তে এসে একটি নীতিমালা করা হয়েছিল। তবে সেটি কার্যকর হয়নি। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কাজ শুরু করে।
নারায়ণগঞ্জ বার ভবন নির্মানে সেলিম ওসমানের অর্থায়নের মহতি উদ্যোগের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, আইনজীবীরা দেশের বিবেক। কাজে ও আচরণে সেটা ধরে রাখতে হবে। সেলিম ওসমান জনগণের উপকার করতে যে নিদর্শন দেখিয়েছে তা অনুকরনীয় হয়ে থাকবে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়েই আগামীতে অনেকে এমন মহতি উদ্যোগে এগিয়ে আসবে। ভবন স্থাপনে প্রয়োজনীয় ৫ কোটির মধ্যে ৩ কোটি যেহেতু সেলিম ওসমান দিচ্ছেন, আমি আমার পক্ষ থেকে সেখানে এক কোটি টাকা শরিক হলাম। বাকী যে এক কোটি টাকা প্রয়োজন সেটার ব্যবস্থা করবেন আমাদের গাজী ভাই। কেননা আজকাল টেলিভিশনে, বাড়ির ছাদে, গাড়ীর চাকায় যেদিকেই তাকাই খালি গাজী পণ্যের ছড়াছড়ি। সুতরাং আইনজীবীদের স্বার্থে বাকী টাকার ব্যবস্থাটা তিনিই করবেন বলে আশা করি। মন্ত্রীর এমন আহবানে তাৎক্ষণিক সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী সগযোগীতার আশ্বাস দেন।
আদালত অঙ্গনে পিপি, এপিপিদের বেতন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে তাদের বেতন খুবই অল্প। তবে এটি চলতে দেয়া যাবে না। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট ক্যাটাগড়িতে আমরা একটি চার্ট তৈরি করতে যাচ্ছি যাতে করে পিপি, এপিপিরা তাদের সম্মানজনক বেতন পান।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোহসীন মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক, যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলী, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আনিসুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া, চিফ জুুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আতিফ বিন কাদের ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন, আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আঃ রশিদ, জিপি এডভোকেট মেরিনা বেগম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, নাসিক ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, শেখ শাফায়েত আলম সানি, বর্তমান সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, সাধারণ সম্পাদক রাফেল প্রধান, মহানগরের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ প্রমুখ ।


