বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ ও জেলার প্রভাবশালী নেতা একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, খেলা শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে নরপশুরা এক হয়েছে। সামনেও খেলা চলবে। ডক্টর ফক্টর সব এক হয়েছে। কেউ কেউ জাতিসংঘে গিয়ে নেকা কান্না করে আবার কেউবা ভারতে গিয়ে কবিতা আবৃত্তি করে। আন্দোলন করেন ভালো কথা, মানুষরে বুঝাইয়া ক্ষমতায় আসতে পারলে ভালো। কিন্তু ২০১৪ সালের মতো যদি আগুন খেলা খেলে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান, রক্তের শপথ করে বলছি, ঢাকার দরকার নাই, নারায়ণগঞ্জের লাখো জনতা নিয়ে আপনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, আগামীতেও ক্ষমতায় আসবে ইনশা আল্লাহ।
রবিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির অভিষেক ও নতুন ডিজিটাল বার ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেন, বিএনপি ভাইয়েরা এখন শোকরানা মোনাজাত ধরাতে ব্যস্ত। কারণ বর্তমান খন্ড বিএনপিকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা চৌধুরী। যাকে বিএনপি’র লোকেরা মারতে চেয়েছিলেন। তবে এতো খুশি হওয়ার কিছু নাই। বি চৌধুরীর যদি মনে পড়ে যে তারেক জিয়ার কর্মীরাই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেছিল, এটা মনে পড়ার পর যদি দশ তলায় বসে তিন তলা পর্যন্ত বিএনপিকে টেনে তুলে আবার ছেড়ে দেন, তাহলে এমনিতেই তো বিএনপি মাজা ভাঙা, তার উপড় তখন কি অবস্থা হবে কে জানে।
নারায়ণগঞ্জ বারের বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কিছু আইনজীবী আছে, যারা দল করে ভালো কথা, কিন্তু নারায়ণগঞ্জন বারের স্বার্থে আজকে তাদের এখানে থাকার দরকার ছিল না। আইনজীবীদের খুশির দিনে তারা এখানে অনুপস্থিত থেকে এটাই প্রমাণ করলেন যে তারা আইনজীবীদের ভালো চান না। অথচ ভোটের সময় এরাই আপনাদের কাছে যাবে ভোট প্রার্থনা করতে।
উপস্থিত মন্ত্রী, সচিবদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে শামীম ওসমান বলেন, যারা বাংলার স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে, দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে সাদা চামড়ার লোকদের সাথে বসে চক্রান্ত করে, পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধে বাংলাদেশকে চোর হিসেবে প্রমাণ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কি দেশদ্রোহীতার মামলা হয় না! আমি পার্লামেন্টে বিষয়টি উত্থাপিত করতে চেয়েছিলাম। আজ আপনাদের সামনে পেয়ে সেই ক্ষোভের কথাটি জানালাম। আশা করি যারা দেশের খেয়ে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।
এসময় তিনি আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ পন্থী আইনজীবীরা নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে সাধারণ আইনজীবীদের কথা দিয়েছিলাম দুই কোর্ট একত্রে করবো। আশা করি আপনি (আইন মন্ত্রী) বিষয়টি সমাধান দিবেন। নয়তো তাদের প্রতিশ্রুতিদানকারী হিসেবে আমি নিজে খুব লজ্জা পাবো। শুধু বার নয়, যদি মনে করেন নারায়ণগঞ্জের মানুষ আপনাকে অনেক ভালোবাসে, আপনার কাছে আমরা খুব প্রিয়, তাহলে আপনার সাধ্যমতো বাকি সমস্যাগুলোও সমাধান করে দিবেন। একসাথে সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে করবেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোহসীন মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক, যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলী, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আনিসুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া, চিফ জুুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আতিফ বিন কাদের ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন, আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আঃ রশিদ, জিপি এডভোকেট মেরিনা বেগম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, নাসিক ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, শেখ শাফায়েত আলম সানি, বর্তমান সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, সাধারণ সম্পাদক রাফেল প্রধান, মহানগরের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ প্রমুখ ।

