বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নাঃগঞ্জ থেকে-এবার আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্হা(ইন্টারপোল) এর সাহায্যে ফিরিয়ে আনা হলো ফতুল্লার স্কুল ছাত্রী মোনালিসা (১২) কে ধর্ষন ও হত্যাকারী আবু সাঈদ (২২) কে। রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাই থেকে আটক করে বাংলাদেশ এয়ার লাইসের একটি ফ্লাইটে তাকে নিয়ে বিমানটি সকাল ৮টায় ঢাকার শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরন করেন। এর পরে ইমিগ্রেশন পুলিশ আনুষ্ঠানিক ভাবে আবু সাঈদ কে বুঝিয়ে নিয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের হাতে সোর্পদ করেন বলে নিশ্চিত করে ওসি শাহ্ মোঃ মঞ্জুর কাদের (পিপিএম)। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাই থেকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্হা (ইন্টারপোল) পুলিশ আবু সাঈদ কে আটক করেন, এর পরে সকল ধরনের আইনী প্রক্রিয়া শেষে রোববার তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় বলে জানায় এ মামলার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার এসআই মোঃ দিদার হোসেন। উল্লেখ্য যে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে দুবাই প্রবাসী আবু সাঈদ জন্মভূমি বাংলাদেশের নাঃগঞ্জে ছুটিতে আসেন এবং ইভান আক্তার নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। ছুটিঁতে থাকা কালীন চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় আবু সাঈদ কাশীপুরের বাংলা বাজার এলাকার শাহীন বেপারীর বাড়ীতে প্রবেশ করেন, এ সময় শাহীন বেপারী ও তার স্ত্রী নরসিংদীতে বেড়াতে যাওয়ার তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মোনালিসা একাই ছিলেন।উল্লেখ্য যে লম্পট আবু সাঈদ এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেয়েটির ঘরে প্রবেশ করে এক পর্যায়ে সে মোনালিসা কে ধর্ষন করে এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। অভিযোগ রয়েছে এ হত্যা কে আত্নহত্যা হিসাবে প্রচার করার অপকৌশল হিসাবে আবু সাঈদ এক পর্যায়ে মেয়েটির মরদেহ ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিঁয়ে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং অত্যন্ত গোপনীয়তার মাঝে ওই দিন রাতে আবু সাঈদ বিমান যোগে দুবাই চলে যায়। পরে এ ঘটনায় নিহতের পিতা মোঃ শাহীন মিয়া বাদী হয়ে আবু সাঈদ কে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আবু সাঈদ পশ্চিম দেওভোগ বড় আমবাগান এলাকার মোঃ ইকবাল হোসেনের ছেলে, নিহত মোনালিসা কাশীপুর উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ মোঃ মঞ্জুর কাদের (পিপিএম) বলেন, ফতুল্লার কাশীপুরের বাংলা বাজার এলাকার স্কুল ছাত্রী মোনালিসা কে বাসায় একা পেয়ে জোরপূর্বক প্রথমে ধর্ষন পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা এবং এটি কে আত্নহত্যা বলে প্রচার করতে মরদেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলিঁয়ে পালিয়ে যায় আবু সাঈদ। এঘটনায় মোনালিসার পিতা মোঃ শাহীন বেপারী এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন আর আবু সাঈদ কে এ মামলার একমাত্র আসামী হিসাবে উল্লেখ্য করেন৷ পরে পুলিশ নিশ্চিত হন যে ওই দিন রাতে আবু সাঈদ দুবাই পালিয়ে যায়, পরে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ মোনালিসা ধর্ষন ও হত্যা কারী হিসাবে অভিযুক্ত আবু সাঈদ কে দুবাই থেকে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্হা (ইন্টারপোল) এর সাহায্যে দুবাইতে তাকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। ওসি আরো বলেন এখন স্কুল ছাত্রী মোনালিসা ধর্ষন-হত্যা মামলাটির বিচার কার্য দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে বলে তিনি আশাবাদী। ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মজিবুর রহমান জানায়, ফতুল্লার কাশীপুরের স্কুল ছাত্রী মোনালিসা কে ধর্ষন করার পরে হত্যা করে ওই দিন রাতে ঘাতক আবু সাঈদ গোপনীয় ভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে যায়, এ হত্যা কান্ড টি একটি পূর্ব পরিকল্পিত হত্যা কান্ড বলে তার প্রাথমিক ধারন। তিনি বলেন ঘাতক আগেই বিমানের টিকিট কেটে রেখেছিল বলে ঘটনার পরে বিমান বন্দর দিয়ে সহজে বিদেশে পালিয়ে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা এতো ই বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই যে কোনো অপরাধ করে অপরাধী রেহাই পাচ্ছে না, পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে দ্রুত তম সময়ের মধ্যে অপরাধী কে সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসছে পারে। তিনি আরো উল্লেখ্য করেন যে স্কুল ছাত্রী মোনালিসার ঘাতক আবু সাঈদ কে সুদূর আরব আমিরাত থেকে আটক করে নিয়ে আসতে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্হা (ইন্টারপোল)এর সাহায্য নিলে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইন্টার পোল পুলিশ আবু সাঈদ কে দুবাই থেকে আটক করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন, পরে ইমিগ্রেশন পুলিশ ধৃত আসামী কে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের হাতে সোর্পদ করেন। সুত্রে আরো প্রকাশ যে আবু সাঈদ কে বর্তমানে মামলার তদন্তকারী এসআই মোঃ দিদার হোসেন প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে, প্রয়োজনে মামলার তদন্তের স্বার্থে ধৃত আবু সাঈদ কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হবে। উল্লেখ্য যে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্হা (ইন্টার পোল) এর তালিকায় ইতিমধ্যে কয়েক শত অপরাধীর তালিকা বাংলাদেশ সরকার পাঠালে ও গত কয়েক বছর ধরে প্রায় ৩/৪ জন আসামী কে বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টার গোলের সাহায্যে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি দাড়ঁ করাতে সক্ষম হয়ে এর মধ্যে ফতুল্লার স্কুল ছাত্রী মোনালিসার ঘাতক আবু সাঈদ একজন, আর নাঃ গঞ্জের ইতিহাসে আবু সাঈদ ই সর্ব প্রথম ব্যক্তি যাকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ইন্টারপোল পুলিশের সাহায্যে দ্রুত তম সময়ে আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাই থেকে আটক করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন এবং বিচারের মুখোমুখি দাড়ঁ করাচ্ছেন
