বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়নের ত্রিবেনী এলাকায় অবস্থিত শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাবদ ১৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। স্কুলের কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে যে সকল শিক্ষক এমপিও ভুক্ত নয় তাদের বেতন ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে আগামী ৭ মাসের জন্য ওই টাকা প্রদান করা হয়। এর আগে সেলিম ওসমান তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে আগামী ২ বছরের জন্য শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি ফি থেকে শুরু করে যাবতীয় সকল খরচ ফ্রি করে দেন। যার ফলে স্কুলে প্রায় ৪০ জন শিক্ষককে স্কুলের পক্ষ থেকে যে বেতন প্রদান করা হতো সেটি এখন থেকে সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রদান করা হচ্ছে। প্রতি মাসে যার পরিমান প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
রোববার ২৬ ফেব্রুয়ারী দুপুরে শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির হাতে ১৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন সেলিম ওসমান। এছাড়াও তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নির্মাণাধীন নতুন ভবনে দ্রুত সময়ের মধ্যে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, সাইন্সল্যাব ও লাইব্রেরীর কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে চেক প্রদান শেষে তিনি বন্দর ইউনিয়নের পুরান বন্দর চৌধুরীবাড়ি এলাকায় নাসিম ওসমান মডেল হাইস্কুলের কম্পিউটার ল্যাব ও সাইন্সল্যাব স্থাপন কাজ পরিদর্শন করেন। ইতোমধ্যে স্কুলটিতে প্রায় ৫০টি কম্পিউটার দিয়ে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন কাজ শেষ হয়েছে। স্কুলের আধুনিক সাইন্সল্যাব ও লাইব্রেরী নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সেলিম ওসমান বলেন, আমি যখন স্কুলগুলোর নির্মাণ কাজে হাত দেই তখন একটি স্কুলের শিক্ষার্থী আমাকে বলে ছিল তার ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে গেছে। তার স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে ডাক্তার হবে। কিন্তু তার স্কুলে কোন সাইন্সল্যাব না থাকায় সে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়ালেখা করতে পারেনি। তখন থেকে আমি আমার ব্যক্তিগত অর্থায়নে নির্মাণাধীন প্রতিটি স্কুলে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, সাইন্সল্যাব, লাইব্রেরী সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। পর্যায়ক্রমে বন্দরের প্রতিটি স্কুলে এই সকল প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো নিয়ে কাজ অব্যাহত থাকবে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের ও বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, মহানগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ন কবির মৃধা, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, ২৩ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ, ধামগড় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুর রহমান কমল, ফারুক প্রধান, ২৪ নং ওর্য়াড ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহম্মেদ সুজন প্রমুখ।
উল্লেখ্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৭টি ইউনিয়নে ৭টি নতুন স্কুল নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্কুল নির্মাণে ইতোমধ্যেই তিনি ২১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করেছেন। স্কুল গুলোর মধ্যে সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নে কুড়েরপাড় শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, গোগনগর ইউনিয়নে পুরান সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ কোটি ৬৫ লাখ, বন্দর উপজেলার বন্দর ইউনিয়নের পুরান বন্দর এলাকায় নাসিম ওসমান মডেল হাইস্কুলে, ২ কোটি ৯৫ লাখ, মুছাপুর ইউনিয়নের ত্রিবেনী এলাকায় শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার, মদনপুর ইউনিয়নের বাগদোবাড়িয়া এলাকায় নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, ধামগড় ইউনিয়নের হালুয়াপাড়া দশদোনা এলাকায় শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মাধবপাশা এলাকায় আলহাজ্ব খোরশেদুনেচ্ছা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এছাড়াও একই ইউনিয়নের কল্যান্দি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নয়নের জন্য ৫০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন।
