বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
প্রয়োজন হলে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হতেও পারে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। চাঁদাবাজ,সন্ত্রাসীসহ অপরাধী গ্রেফতারে প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে। এখনো কেউ নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ করেনি। রোববার নারায়নগঞ্জ ক্লাবে অনুষ্ঠিত নাসিক নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই পর্বের শেষদিনে রিটার্নিং অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার এ কথা বলেন।
তিনি মেয়র প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,আপনার আমার প্রতি আস্থা রাখুন। আমি নজিরবিহীন নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করবো। আর এই জন্য আমি আপনাদের সহযোগীতা চাই। আমার কাছে কোন কেন্দ্রই ঝুকিমুক্ত নয়, আমি সব কেন্দ্রকেই সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকি।
নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, আমাকে নিরপেক্ষ থাকার ব্যাপারে যদি কোনরূপ সন্দেহ পোষণ করে থাকেন তাহলে নির্ধিদ্বায় বলবেন আমি চলে যাবো। প্রথমে আমার প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে, তাহলেই আমার কাজ আপনাদের সন্তুষ্ট করবে।
রবিবার সকালে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভি বাদে সকল প্রার্থীর উপস্থিতিতে বাছাই পর্বটি সম্পন্ন হয়। এ সময় আইভির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তার মনোনয়পত্রের প্রস্তাবক আবদুর রাশেদ রাশু, মেয়রের ভগ্নিপতি জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির। এসময় আইভীর প্রস্তাবকারী মো. আবদুর রাশেদ রাশু বলেন, আমি মনে করি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনীর কোন প্রয়োজন নেই। গতবারের নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে এবারের নির্বাচনও সুষ্ঠ হবে।
বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠ করার জন্য লেভেল ফিল্ড চাই। নারায়ণগঞ্জে অনেক অস্ত্র রয়েছে যেগুলো এখনো উদ্ধার করা হয়নি। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার জন্য এই অস্ত্রগুলোর ব্যবহার হতে পারে। এছাড়া অনেক অবৈধ অস্ত্রও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জনগণের আস্থা কমে গেছে। সুষ্ঠ নির্বাচনে স্বার্থে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার জন্য আমি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানাই।
ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, এড. সাখাওয়াতের বক্তব্যের সাথে আমিও একমত। এছাড়াও প্রশাসনের মধ্যে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশ কল্যান পার্টির মনোনীত প্রার্থী রাশেদ ফেরদৌস বলেন, ভোটাররা সকলেই সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশ চাই। তাই সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের মনোনীত প্রার্থী মুসলেম উদ্দিন বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে সুষ্ঠ করার লক্ষে যে সময় যে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন নির্বাচন কমিশন তাই নিবে। আর সেনাবাহিনী মোতায়েন করার বিষয়টি সময়েই বলে দিবে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত প্রার্থী এড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, যে কোন কারণেই হোক না কেন নারায়ণগঞ্জকে সবাই সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবেই চিনে। অনেক ভোটারেরই প্রশ্ন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে কিনা। ইসলামী ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী মুফতী ইজহারুল হক বলেন, সুষ্ঠভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক আমরা সবাই চাই।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের আহবান জানাই তিনি যেন একটি সুষ্ঠ নির্বাচন উপহার দিতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ নভেম্বর মনোনয়ন জমাদানের পর ২৬ ও ২৭ নভেম্বর ছিল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন। প্রথমদিনে ১ থেকে ১৮ নং ওয়ার্ডের ১২৫ কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের প্রার্থীতা বাতিল ঘোষনা করেন রিটার্নিং অফিসার আর মহিলা সংরক্ষিত আসনের ৩৩জনের মধ্যে ১ জনের প্রার্থীতা বাতিল হয়। পরের দিন সকালে মেয়র প্রার্থীদের বাছাইপর্বে সকল প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এড. সুলতান মাহমুদের বৈধতা বাতিল হয়ে যায়। এ ছাড়াও ১৯ থেকে ২৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে বন্দরের যুবদল নেতা শাহেনশাহ সহ মাত্র ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। এদের সবাইকে আগামী ৩০ নভেম্বর তারিখের মধ্যে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে আপিল করার পরামর্শ দেয়া হয়।
