বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ বন্দরে এক মাদরাসার ছাত্রীর লাশ নানার বাড়িতে ফেলে পালিয়েছে বাবা। বুধবার দুপুরে কামতাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছাত্রীর নাম আখি আক্তার (১৩)। সিদ্ধিরগঞ্জ সানারপাড় এলাকার ভাড়া বাড়িতে আতœহত্যার ঘটনা ঘটে। এ লাশ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে বন্দর থানার পুলিশ। বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ দুই থানা লাশ নিয়ে টানাটানিতে জেলা পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের নিদের্শে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ছাত্রীর মামা মাসুম মিয়া জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দক্ষিণ সানারপাড় আনু মিয়ার বাড়িতে ভগ্নিপতি আলমগীর ওরফে আলম তার মেয়ে আখি আক্তার ও ছেলে মামুনকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। আলমের ছেলে মেয়ে দুই জনই মাদরাসায় লেখা পড়া করে। গতকাল বুধবার দুপুরে আলম টেক্সিক্যাব দিয়ে তার মেয়ে আখির লাশ বাড়িতে নিয়ে এসে স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে লাশ রেখে চলে যায়। পরে নিরুপায় থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সে আতœহত্যা করে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারনা করে। পরে পুলিশ নিহত ছাত্রীর ভাই মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামুন পুলিশকে জানায়, গতকাল বুধবার সকালে নাস্তা আনতে বাইরে যায় সে। নাস্তা এনে দেখে তার বোন আখি আক্তার ঘরের ফ্যানের রডের সঙ্গে ঝুলে আছে। এরপর তার বাবাকে ফোন করে। তার বাবা বাড়িতে এসে লাশ নামিয়ে নানার বাড়িতে নিয়ে আসে।
নিহত মাদরাসা ছাত্রী আখি আক্তারের পিতা আলমগীর ওরফে আলম জানান, সকাল বেলা মাদরাসা না যাওয়ার জন্য মেয়ে বায়না ধরে। এসময় মাদরাসায় যাওয়ার জন্য চরধাপ্পর ও গালাগালি করে কাজে চলে যাই। পরে ছেলে মামুন ফোন করে জানায় আখি ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে। পরে কোন উপায় খুজে না পেয়ে লাশ শশুর বাড়িতে নিয়ে আসি। লাশ রেখে দাফন কাফনের জন্য টাকা ম্যানেজ করতে লাশ রেখে চলে আসতে হচ্ছে।
কামতাল তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ ইনপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ দক্ষিণ সানারপাড় এলাকায় ভাড়া বাড়িতে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আখি গলায় ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করে। পরে কামতাল নানার বাড়িতে মেয়ের লাশ ফেলে রেখে পিতা পালিয়ে যায়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ মর্গে প্রেরন করা হয়।

