বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
কখনো চা খাওয়ার দাওয়াত আবার কখনো দেখা করার দাওয়াত দেয়া হয় প্রশাসনের এক পুৃলিশ কর্তার কাছ থেকে। আর এই দাওয়াত পেলেই আঁতকে উঠেন ব্যবসায়িরা অভিযোগ নেতৃবৃন্দের। নানা অজুহাতে এভাবে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়িদের কাছ থেকে নানা কৌশলে চাঁদা দাবির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবসায়িরা প্রতিবাদ সভা করেছে। সভায় ব্যবসায়িদের মূল স্লোগান ছিল “দেখা করার দিন শেষ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ”। ওই সভায় জেলায় এক নতুন পুলিশ কর্মকর্তা যোগ দেয়ার দুই ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলে কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানানো হয়। এছাড়া অসংখ্য ব্যবসায়িদের নানভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ওই সময় ৯টি জাতীয় ভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠন এবং ৩৩ টি স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভাটিতে অংশ নেয়। বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি ভবন প্রাঙ্গনে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, মাদক ব্যবসার সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটুকে ও শিশু সাদমান সাকিকে অপহরণে হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজলকে প্রতিহিংসামূলকভাবে জড়ানোর হয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রশাসনকে এসকল ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য এবং কি কারণে করছে, কারা করছেন তাদের কি উদ্দেশ্য কি তা খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসয়িরা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং আগামি রবিবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবে ব্যবসায়িরা।
প্রতিবাদে সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল। বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি এম সোলায়মান. বিকেএমইএর সহ-সভাপতি (অর্থ) হুমায়ন কবির শিপ্লী, বিকেএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি (অর্থ ) জিএম ফারুক , ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশন ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি এম সোলায়মান, বাংলাদেশ হোসেয়ারি এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি কবির হোসেন, জেলা ডাইল মিলস্ সমিতির সভাপতি এড. সুলতান উদ্দিন নান্নু, বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সেলিম সারোয়ার, বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সেলিম, বাংলাদেশ ক্লথ এসোসিয়েশনের পরিচালক মাহফুজুর রহমান খান, জেলা দোকান মালিক সমিতির সিনিয়র সভাপতি মাসুদুর রহমান খসরু, পাট আড়ৎদার সমিতির সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ লাভলু, জেলা ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি মতিউল্লাহ মিন্টু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. মোহসীন মিয়া, নিউজ পেপার ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফ আলম দিপু ও চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক শাহাদাত হোসেন সাজনু, এহসানুল হাসান নিপুসহ স্থানীয় ব্যবসায়িরা।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্টি’র সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল সভায় প্রতিবাদলিপি পাঠ করে বলেন, শিল্প সমৃদ্ধ ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র বন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। আর এই অবদানের নেপথ্যের শক্তি হচ্ছে শান্তি প্রিয় ব্যবসায়ী সমাজ। ঝামেলামুক্ত থেকে নিরাপদে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতেই বেশি ব্যস্ত থাকে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু নানাভাবে নানা কৌশলে ব্যবসায়িদের হয়রানী করার একটা চক্রান্ত শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভিন্ন কৌশলে সাধারণ ও স্বনাম ধন্য ব্যবসায়িদের ঝামেলায় ফেলে আর্থিক ফায়দা লুটারও একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে একদিকে ওই ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অন্যদিকে সামাজিকভাবে তার সম্মান হানি হচ্ছে। যদিও অতীতে আমরা ব্যবসায়িরা কোন প্রকার হয়রানী বা চাঁদাবাজির শিকার হই নাই। আমরা সব সময় শান্তিপূর্নভাবে ব্যবসা করতে চাই।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতিক সময়ে নতুন এক ট্রেডিশন শুরু হয়েছে। নানাভাবে ব্যবসাায়িদের কথিত চা’এর দাওয়াত দেয়া হচ্ছে। যেমন কাউকে বলছে, এক কাপ চা খেয়ে যেতে, আবার কেউ কেউ সরাসরি আর্থিক সহযোগিতা দাবি করছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে আজ নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ব্যবসায়িরা শঙ্কিত। গত ১ লা এপ্রিল রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা মেরিএন্ডারসন যা বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃক লীজকৃত ভাসমান রেস্তোরায় পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় বিপুল পরিমান দেশী ও বিদেশী মদ উদ্ধার এবং ওই রেস্তোরার স্টাফসহ ৬৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। যা জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে জানা যায়। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে পুলিশ ওই মদ উদ্ধার ও মদ ব্যবসার পেছনে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির তিনবারের সফল পরিচালক তানভীর আহমদে টিটুর নাম জড়ানোর ঘৃণ্য তৎপরতা শুরু করেছে। আমাদের সম্মানিত পরিচালক তানভীর আহমেদ টিটুকে নিয়ে প্রশাসনের বরাত দিয়ে যে সকল সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া, কল্পনাপ্রসূত ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। তানভীর আহমেদ টিটু নারায়ণগঞ্জ জেলায় একজন সফল ক্রীড়া সংগঠক, সফল ব্যবসায়ী ও একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। তিনি একই সাথে ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডের পরপর দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার দুইবারের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তিনি ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সিনিয়র সহসভাপতি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর ও এফবিসিসিআইএর জিবি মেম্বার।
এর আগে বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের সভাপতি, চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাষ্ট্রির পরিচালক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নাজমুল আলমকে একটি শিশু অপহরন ঘটনায় সম্পৃক্ত করার আপ্রান চেষ্টা করা হয়। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ সকল জনপ্রিয় ব্যবসায়ী নেতাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় সকল ব্যবসায়িদের ঐক্যবদ্ধভাবে এর প্রতিবাদ করতেই আজকের এই প্রতিবাদ সভা। এই প্রতিবাদ সভায় একাত্মতা প্রকাশ করেছে জাতীয় ৯টি ও স্থানীয় ৩৩টি ব্যবসায়ি সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আজকে এই প্রতিবাদ সভা থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করছি। এবং অতিদ্রুততার সাথে ব্যবসায়িদের সকল প্রকার হয়রানী থেকে নিরাপদ রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। পরবর্তীতে হয়রানীমূলক কার্যক্রম বন্ধ না হলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দারস্থ হবো। এবং আজ পবিত্র শবে মিরাজ থাকায় আমরা আগামী রবিবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিবো।
আমরা আশা করছি আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ব্যবসায়ি সমাজ সকল প্রকার হয়রানী ও ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকবে।
পরিশেষে বলতে চাই ‘দেখা করার দিন শেষ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’।
