বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের তিন থানায় বিএনপির ৭১ জন নেতাকর্মীর নাম সহ ১২৫ জন অজ্ঞাত উল্লেখ করে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহষ্পতিবার ( ১ ডিসেম্বর) সদর মডেল থানা, ফতুল্লা মডেল থানা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট থানার ওসিগন।
সদর মডেল থানায় বিএনপির ২৯ জন নাম সহ ৩০-৪০ জন আরো অজ্ঞাত উল্লেখ করে এস আই আজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ওসি আনিচুর রহমান জানান, গতকাল চাষাঢ়ায় বিএনপি মশাল মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণ ও সড়কে নাশকতার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটককৃত বিএনপির চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সদর থানার আসামীরা হলেন, বিএনপি নেতা শওকত হোসেন, মো. হারুন, হাসিবুল ইসালম সাঈদ, আশিকুল ইসলাম সাজিদ সহ ২৮ জন ও আরো অজ্ঞাত ৩০-৪০ জন।
এদিকে ফতুল্লা মডেল থানায় বিএনপির ২১ জন নেতাকর্মীর নাম সহ ৪০-৫০ জন অজ্ঞাত উল্লেখ করে এস আই মফিজ মামলা দায়ের করেন। এ ব্যাপারে উক্ত থানার ওসি রেজাউল হক দিপু জানান, ফতুল্লা এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা মশাল মিছিলের নামে সড়কে যে নাশকতা ও শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করেছে। এ ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।
মামলায় উল্লেখ করেন, ফতুল্লায় বিএনপির ও অঙ্গ সংগঠনের প্রায় ৬০/৭০ জন নেতাকর্মী স্বসন্ত্র অবস্থায় হাতে মশাল, লোহার রড, হকিষ্টিক, চাপাতি, ককটেল ইত্যাদি অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া পরিকল্পিত ভাবে রাস্তা অবরোধ করে মিছিল সহ স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে উক্ত আসামীরা রাস্তায় টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ককটেল বিস্ফোরন ঘটায়। বিকট শব্দের মাধ্যমে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে আতংক সৃষ্টি করে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও রাস্তায় চলাচলরত জনসাধারনের বেশ কয়েকটি গাড়ী ভাংচুর করে ক্ষতি সাধন করে। এসময় বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ বিশেষ, বাঁশের লাঠি, লোহার রড, টায়ার উদ্ধার করা হয়।
মামলার আসামীরা হলো, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান খোকা (৫২), যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম টিটু (৪৮), ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মাদবর ওরফে নজু মাদবর (৪৮) সহ ২১ জন। এ ঘটনায় নজু মাদবরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বিএনপি, জামাত ও গন অধিকারের নেতাকর্মীদের ২১ জনের নাম সহ ও অজ্ঞাত ৩০-৩৫ উল্লেখ করে এস আই দেবাশীষ মামলাটি দায়ের করেন। থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ্য করেন, গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী লাঠিসোটা, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নাশকতার উদ্দেশ্যে মহাসড়ক অবরোধ করে মিছিল করে ও স্লোগান দেয়। এসময় তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে। মিছিল থেকে ৩-৪ টি গাড়ি ভাংচুর করা হয় এবং এসময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ৫ টুকরা লাল কসটেপ মোড়ানো বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ বিশেষ, দুটি পোড়া টায়ারের অংশ, মশাল মিছিলে ব্যবহৃত ৭টি লাঠি ও টিনের কৌটা, গাড়ির ১১ টি ভাঙ্গা কাঁচের অংশ।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলার আসামিরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল্লাহ,গণঅধিকার পরিষদের জেলার যুগ্ম আহবায়ক আরিফ ভুঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামের আমীর আব্দুর রহমান সহ ২১ জন ও অজ্ঞাত ৩০-৪০ জন।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু জানান, বিএনপির জনপ্রিয়তায় ঈর্ষানিত্ব হয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের নামে গায়েবী মামলা দেওয়া হচ্ছে। যাতে করে ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশের জনস্রোত বাধাগ্রস্থ হয়। কিন্তু আমি বলতে চাই কোন মামলা ও কোন বাধা দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবিয়ে রাখা যাবেনা। ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে জনস্রোত ঘটবে।

