বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া অংশগ্রহন করলে তার মুক্তির আবেদন মিথ্যা বলে প্রমানিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জের আদালতপাড়ায় জেলা আইনজীবী সমিতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সেলিম ওসমান বার ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার সমাবেশে অংশগ্রহন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপির নেতারা বলছেন খালেদা জিয়াকে দিয়ে ১০ ডিসেম্বর সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়াবেন। যে ২ টি শর্ত দেওয়া হয়েছে সেই দুটি কিন্তু ওনি রাজনীতি করতে পারবেন সেটি নাই। কিন্তু একটা কথা । ওনাদের যে আবেদন ছিল সেই আবেদনে কিন্তু পরিস্কারভাবে লেখা ছিল তার শারীরিক অবস্থা এতই খারাপ যে তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। যে তাকে অবশ্যই মুক্তি দিয়ে তারাতারি চিকিৎসা করাতে হবে। তাহলে যদি কেউ ১০ তারিখে সমাবেশে যায়। যদি বেগম খালেদা জিয়া ১০ তারিখে যান তাহলে ওই যে দরখাস্তে লেখা ছিল তাহলে মুক্তির আবেদন মিথ্যা বলে প্রমানিত হবে।
খালেদা জিয়ার মামলা ও মুক্তির বিষয়ে আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ২০০৭ সাল ও ২০০৮ সালে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটির অধিক দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত করা হয়, এফআইএর হয় ও চার্জশীট হয়। এই রকম প্রত্যেকটা সময় কিন্তু খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে শরনাপন্ন হয়। তারা নিম্ন আদালতে থেকে যেতে যেতে আপিল বিভাগ পর্যন্ত গেছেন। এই মামলা থেকে শেষ করার জন্য। সেখান থেকে বলে দিয়েছে এই মামলা বিচারক আদালতে গিয়ে শেষ করতে হবে। মামলা বিচারিক আদালতে বিচার হয়েছে। সাজা হয়েছে পুনরায় আপিল করেছেন। সেটা আবার হাইকোর্টে রায় হয়েও সাজা দিয়েছেন। আরেকটা বিচােরিক আদালতে সাজা হয়েছে। আমার এগুলোর বলার কারন আছে সেজন্যই আমি বলছি।
তিনি আরো বলেন, তারপরে খালেদা জিয়া জেলে গেছেন। জেলে থাকা অবস্থায় তার পরিবার থেকে দরখাস্ত করা হয়েছে। যে তার শরীর খারাপ। অত্যন্ত শরীর খারাপ তাকে যদি জেল থেকে যে কোনভাবে ছাড়া হয় তার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার মহানুভবতায় ৪০১ ধারায় দন্ডাদেশ স্থগিত রেখে ২ শর্তে তাকে মুক্তি দিয়েছেন।
আমি শুনি বিএনপি এখনো বলে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। আরে মুক্ত মানুষকে কিভাবে আদালত মুক্তি দেয়। তাকে তো অলরেডি জেলখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাকে আবার মুক্ত করার কি আছে। কালকেউ খবরের কাগজে দেখেছি বিএনপি নেতারা বক্তৃতায় বলছেন ওনাকে মুক্তি দিতে হবে। আরে ওনি তো মুক্ত। ওনি ওনার বাসায় আছেন। প্রায় সময় চিকিৎসা নেওয়ার জন্য হাসপাতালে যান। চিকিৎসা নেন আবার বাসায় আসেন সুস্থ্য হয়ে। ওনাকে মুক্তি দেওয়ার কি আছে।
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড হাসান ফেরদৌস জুয়েলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এড. রবিউল আমীন রনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে এসময় আরো বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল এড. এ এম আমিন উদ্দীন ও আইন মন্ত্রনালয়নের সচিব গোলাম সারোয়ার সহ অন্যান্যরা।

