বিজয় বার্ত ২৪ ডট কম
১৪ই ফেব্রুয়ারী স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে প্রগতিশীল ছাত্র জোট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পন, ছাত্র সমাবেশ ও সমাবেশ পরবর্তীতে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শুরুর পূর্বে ১৯৮৩ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারী স্বৈরাচার প্রতিরোধ আন্দোলনে নিহতদের স্বরণে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, বাসদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, নারায়ণগঞ্জ খেলাঘর আসর সহ অন্যান্যরা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রগতিশীল ছাত্র জোট নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মশিউর রহমান রিচার্ড, বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সজীব শরীফ, সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া সেতু, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি আরিফ হোসেন নয়ন। বক্তারা বলেন ১৯৮৩ সালে তৎকালীন স্বৈরশাসক দ্বারা প্রণিত মজিদ খান শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জাফর, জয়নাল, দিপালী সাহা, কাঞ্চন সহ নাম না জানা আরো অসংখ্য শহীদদের আত্মদানের বিনিময়ে শাসক শ্রেণী প্রণিত সংকোচনমূলক গণ বিরোধী শিক্ষানীতি প্রতিহত করেছে। কারণ সেই শিক্ষানীতির মূল কথা ছিল টাকা যার শিক্ষা তার। এখন শাসক পরিবর্তীত হয়েছে কিন্তু একই ধরনের শিক্ষানীতি এখনও বহাল আছে। যার ফল হিসেবে দেখছি সমাজের বৈষম্যের সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে শিক্ষার বৈষম্য। কেউ পড়ছে সাধারণ শিক্ষায়, কেউ বা মাদ্রাসায়, কেউ কিন্ডার গার্টেন বা ইংলিশ মিডিয়ামে। প্রত্যেকটি ধারার উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু, পরিবেশ ভিন্ন ভিন্ন। সবার বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া এই শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নয়। অন্যদিকে শিক্ষার উদ্দেশ্য হয়ে পরেছে টাকা রোজগার করা, মানুষ হওয়া বা জ্ঞান সাধনা নয়। তাই আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি ভালোবাসা দিবসের নামে গোটা যুব সমাজের মধ্যে এক ধরণের উন্মাদনা তৈরী করে দিচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এমনকি আজকে ১৯৮৩ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারী যে ঐতিহাসিক তাৎপর্য তা ছাত্র সমাজকে ভুলিয়ে দিতে চায়। তাই একদল মুনাফাখোর ব্যবসায়ী ভালবাসার নামে ফুল বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা নেওয়ার জন্য এই দিনটিকে এইভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। তাই আমাদেরকে ১৪ই ফেব্রুয়ারীর সেই শহীদ দিপালী, কাঞ্চন, জাফর ও জয়নালদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদেরকে সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে নিয়োজিত করতে হবে।
