বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। বন্দর উপজেলা থেকে অনলাইনে মোট ৭৫ জন মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করে ছিলেন। এছাড়াও সরাসরি মন্ত্রনালয়ে আবেদন করে ছিলেন আরো ১৯জন। যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে অনলাইনে আবেদনকৃত ৭৫জনকে সাক্ষাতকার গ্রহণের জন্য ডাকা হয়ে ছিল। যার মধ্যে ৫১ জন আবেদনকারী উপস্থিত হয়ে কমিটির কাছে তাদের সাক্ষাতকার প্রদান করেছেন। বাকী ২৪ জন ছিল অনুপস্থিত। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী অনুপস্থিত থাকা বাকীদের সহ সরাসরি মন্ত্রনালয় হতে প্রেরিত ১৯ জনের সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হবে।
সোমবার ১৪ ফেব্রুয়ারী সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আবেদনকারীদের মধ্যে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের সবার সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাই কমিটির প্রধান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান সহ কমিটির অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, জেলা কমান্ডের সহকারী কমান্ডার(ক্রীড়া) মোহর আলী, সহকারী কমান্ডার(দপ্তর) মো: দিলওয়ার হোসেন, উপজেলা কমান্ডার আব্দুল লতিফ, মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদ, মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি ভূইয়া, সদস্য সচিব বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মৌসুমী হাবিব। যুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হোসেন প্রধান।
জানা গেছে, বন্দর উপজেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা অর্ন্তভুক্ত হতে আবেদনকারীদের সাক্ষাতকার গ্রহণকালে বার বার বিরক্ত হয়েছে যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যরা। আবেদনকৃতদের মধ্য থেকে বেশির ভাগই ভারতের কোন প্রশিক্ষন ক্যাম্প থেকে কোন প্রকার প্রশিক্ষন গ্রহণ করেননি। আবার অনেকে কোথায় যুদ্ধ করেছেন, কি কি অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, কোন অস্ত্র দিয়ে প্রশিক্ষন গ্রহণ করেছেন, যুদ্ধকালীন কমান্ডার কে ছিলেন তার সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেননি। অনেক আবেদনকারী তাদের পক্ষে সাক্ষী হিসেবে নাম উল্লেখ করা ৩ জনের মধ্যে কাউকেই উপস্থিত করতে পারেননি। যার ফলে তাদের সাক্ষাতকার গ্রহণ কালে বার বারই বিরক্ত হয়েছে যাচাই বাছাই কমিটি।
বন্দর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান জানিয়েছেন, যারা আবেদন করেছেন তাদের মধ্য থেকে অনেকের কমিটির সদস্যদের করা প্রশ্নের সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেননি। অনেকে আবার তাদের পক্ষের সাক্ষীদের হাজির করতে পারেনি। সরকারী বিধান অনুযায়ী আমরা যাচাই-বাছাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হলে আমরা সরকারের কাছে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে সঠিক মুক্তিযোদ্ধার পরিসংখ্যান প্রেরণ করবো।
প্রসঙ্গত সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আবেদন কারীকে বলতে হবে-কোন কমান্ডারের অধীনে কত দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা কোন সন্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তারও তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে হবে। এর পর সহযোদ্ধাদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ক্ষেত্রবিশেষ সম্পূরক প্রশ্নের মাধ্যমেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আরও তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। এ কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে জামুকা বরাবরে আপিল করা যাবে।
জানাযায়, মৃত মুক্তিযোদ্ধা-আবেদনকারীর বিষয়ে বলা হয়েছে, সহযোদ্ধাদের মতামতের ভিত্তিতে খোঁজখবর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপিলের বিষয়ে বলা হয়েছে, কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে জামুকা বরাবরে আপিল করা যাবে। সংখ্যা বিবেচনায় জামুকা কবে কোথায় সংশ্লিষ্ট আপিলের শুনানি করবে তা জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে এসব কারণে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশে বাধা দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া একাত্তরের ৩০ নভেম্বর যাদের বসয় ১৩ বছর, তাদেরকেই যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে।
যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় যারা: নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা, লাল মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত তালিকার মুক্তিযোদ্ধার যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হবে না। তবে লাল মুক্তিবার্তা তালিকায় অর্ন্তভুক্ত কোন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা রয়েছে, তাদেরকে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হবে।
