বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন ৭টি স্কুলে স্বাভাবিক পাঠদানের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা চালুর ব্যাপারে জোর দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। প্রয়োজনে স্কুলের মেধাবী দুর্বল শিক্ষার্থীদের মায়েদেরকেও কারিগরি শিক্ষা প্রদান শেষে ৭’শ মাকে একটি করে সেলাই মেশিন ও ৫ হাজার টাকা করে চলতি মূলধন প্রদান করার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলেছেন। তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে নির্মাণাধীন ৭টি স্কুলই নয় উপজেলার সব গুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমান ভাবে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বন্দর উপজেলার মদনপুর ও ধামগড় ইউনিয়নে নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয় এবং শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজের অর্থ প্রদান ও এলাকাবাসীর সাথে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মদনপুর ইউনিয়নের বাগদোবাড়িয়া এলাকায় নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চেক প্রদান ও এলাকাবাসীর সাথে মত বিনিময় অনুষ্ঠানে যখন অন্য বক্তারা বক্তব্য রাখছিলেন তখন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান তার পাশের চেয়ারে বসিয়ে একের পর এক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য গ্রহণ করেন।
পরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে সেলিম ওসমান বলেন, আমার শেষ বয়সে এসেও আমি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। কিন্তু আমি এই পরিশ্রমটা আমার নিজের বা পরিবারের জন্য করছি না। এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করছি। সেই অর্থ দিয়েই আমি বিভিন্ন জায়গায় উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছি। যাতে করে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুন্দর একটি নারায়ণগঞ্জ গড়ে দিতে পারি। বঙ্গবন্ধুর দেখা স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ে দিয়ে যেতে পারি।
মঞ্চে বসে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার উদ্বৃত্তি দিয়ে বলেন, আমি মঞ্চে আমার পাশের চেয়ারে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। তারা শুধু স্কুলের উন্নয়নের কথাই আমাকে বলেছে। কিন্তু আমি তাদের কাছ থেকে তাদের পরিবারের তথ্যও জেনেছি। তাদের মধ্য থেকে একজনের বাবা প্রতিদিন মদ পান করে মাতাল থাকে। তার নানী তাকে লেখাপড়া করাচ্ছে। একজনের সামান্য বেতনে ঢাকার সাভারে কাজ করে। মাসে একবার এসে পরিবারের সাথে দেখা করে যায়। অপর একজনের ইতোমধ্যেই বিয়ে হয়ে গেছে। সে তার লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে বলা হচ্ছে। তাদের কথা গুলো শুনে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। আমরা যারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রয়েছি তাদেরকে শুধু উন্নয়ন কাজ নিয়ে পড়ে থাকলেই চলবে না। উন্নয়নের পাশাপাশি এই সকল সামাজিক দিক গুলোও খেয়াল রাখতে হবে। এমন শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়াঁতে হবে যাতে তারা অকালে জড়ে না পড়ে যায়।
মাদ্রাসা শিক্ষা ও এতিমখানা সম্পর্কে তিনি বলেন, বন্দর উপজেলায় দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে মাদ্রাসা ও এতিমখানা তৈরি হচ্ছে। কোন কোন এলাকায় এসব মাদ্রাসা ও এতিমখানা নির্মাণ নিয়ে প্রতিযোগীতা সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে এই সকল প্রতিষ্ঠানের সঠিক মনিটরিং সম্ভব হচ্ছে না। আমি সকলের কাছে অনুরোধ রাখবো প্রয়োজনে ৩/৪টি মাদ্রাসা একত্রে করে পরিচালনা করা যেতে পারে। অথবা বন্দরে সেন্ট্রাললি মাদ্রাসা ও এতিমখানা নির্মাণ করা যেতে পারে এতে করে মনিটরিংয়ে সুবিধা হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে লাঙ্গলবন্দের জন্য ১২০ কোটি টাকা একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ সহ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। অনেকেই বিনাবেতনে পড়ালেখা করার সুযোগ করে দিতে বলছেন। কিন্তু একজন ব্যক্তির পক্ষে সব কিছু সম্ভব নয়। কিন্তু বর্তমান সরকার এখন বছরের প্রথম দিনেই দশম শ্রেনী পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ করে বই উৎসব পালন করছে। একটা সময় আসবে সরকার উন্নত হলে তখন আর বিনা বেতনে পড়ার দাবি করতে হবে না এমনিতেই সরকার বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ করে দিবেন। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জে সৈয়দপুর-মদনগঞ্জ দিয়ে শীতলক্ষ্যা সেতুর টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। দেখা যাবে যে কোন দিন সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু ওই সেতুটি বন্দর এলাকার শিল্প-বাণিজ্যের জন্য বেশি সুবিধা পাবে। আমার বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য আমি সেন্ট্রাল খেয়াঘাট, ৫নং খেয়াঘাট অথবা নবীগঞ্জ ঘাট দিয়ে আরো একটি পূর্ণাঙ্গ সেতুর জন্য ডিও দিয়েছি। ইতোমধ্যে সেতু ও যোগাযোগ মন্ত্রী যেকোন একটি ঘাট দিয়ে আরেকটি পূর্ণাঙ্গ সেতু নির্মাণের ব্যাপারে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। আগামী দুএকদিনে মধ্যেই আমি ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে গিয়ে দেখা করবো। তখন দেখা যাবে বন্দরের মানুষ আর গুদারা করে নয় পায়ে হেটে অথবা গাড়িতে করে বন্দর থেকে শহরে যাতায়াত করতে পারবে। লাঙ্গলবন্দে একটি আধুনিক পার্ক নির্মাণ হবে। বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের পাশেও একটি পার্ক নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছি। এসকল কাজ সম্পন্ন করার জন্য আমি এলাকার জনপ্রতিনিধি সহ সকল মানুষের সহযোগীতা কামনা করছি।
সবশেষে তিনি বলেন, আগামী আমি নির্বাচন করবো বা আপনারা আমাকে ভোট দিবেন কোন অবস্থাতেই এমন চিন্তা নিয়ে আমি উন্নয়ন কাজ গুলো করছি না। আমি বন্দরকে নিয়ে দেখা অসম্পূর্ন আমার দাদা, বাবা এবং আপনাদের প্রিয়নেতা আমার বড় ভাই নাসিম ওসমানের স্বপ্নকে সম্পন্ন করার জন্য কাজ গুলো করে যাচ্ছি। আগামীতে আমি নির্বাচন করার চিন্তাও করবো না যদিনা আমি সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার কাজ গুলো সম্পন্ন করতে না পারি।
নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাপ হোসেন এবং শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা গুলোতে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য আবুল জাহের, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আব্দুল মালেক, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, জাতীয় পার্টি নেতা শাহ আলম, কামাল হোসেন, বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদ সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

