বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সাব্বির নামে এক মাদরাসায় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালানোর ঘটনায় গ্রেফতার তিন শিক্ষককে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ওই ছাত্রের লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত শিক্ষকরা হলেন- শওকত হোসেন সুমন, জোবায়ের আহম্মেদ ও আব্দুল আজিজ। সোমবার দুপুরে তাদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে শুনানি শেষে তিনজনের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক মিল্টন হোসেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই এএসএম শাহীন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ১০ মার্চ শিক্ষক জোবায়ের নিহতের পরিবারকে জানান সাব্বির রসুলবাগ মাঝিপাড়ার রওজাতুল উলুম মাদরাসার ছাদে ওঠার সিঁড়ির পাশে রডের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে স্বজনরা পুলিশে কোনো অভিযোগ না দিয়ে লাশ নিয়ে রূপগঞ্জে নিজ এলাকায় দাফন করেন। কিন্তু দাফনের আগে গোসলের সময় নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এ ঘটনায় শুক্রবার মামলা করেন নিহতের বাবা। পরে মাদরাসার তিন শিক্ষক ও নিহতের চার বন্ধুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, মারধর করে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচারণা চালানোর অভিযোগ ওই মাদরাসার তিন শিক্ষক ও চার ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত লাশ তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলেই জানা যাবে এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা।
নিহত সাব্বির হোসেনের বাবা জামাল হোসেন বলেন, ১০ মার্চ সকালে মাদরাসার শিক্ষক জোবায়ের আমার স্ত্রীকে কল দিয়ে বলে- ‘সাব্বির আত্মহত্যা করেছে, দ্রুত মাদরাসায় আসেন।’ আমরা সেখানে যাওয়ার পর আলাদা রুমে বসিয়ে ওই শিক্ষক বলে- ‘তোমরা যদি নিজেরা ফাঁসতে না চাও তাহলে নিজের ছেলের লাশ গোপনে নিয়ে যাও। লাশ গোপনে দাফন করবা, এমন কিছু করবা না যাতে মাদরাসার ক্ষতি বা বদনাম হয়।’ এ কথায় আমি ও আমার স্ত্রী ভয় পেয়ে তার কথায় রাজি হয়ে যাই।
তিনি আরো বলেন, লাশ বাড়িতে এনে গোসল করানোর সময় আমরা সাব্বিরের মাথায়, চোখের উপরে কপালে, ঠোঁঠে, থুতনির নিচে, গলায় ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। আমার ছেলের শরীরটা থেতলানো ছিল। তা দেখে সবাই বলে- এটা আত্মহত্যা না।

