বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হোসিয়ারি শ্রমিক রাসেল (১৭) হত্যা মামলায় কার্যক্রম আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার বাদী ও নিহত রাসেলের বাবা পিন্টু রহমান এবং প্রত্যক্ষদর্শী দেওভোগ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ সাক্ষ্য দেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, আদালত দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। সাক্ষীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শামীম ওসমান তাঁর দলবল নিয়ে রাসেলকে গুলি করে হত্যা করেছেন। মামলার রায়ে ছেলের হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন তাঁর বাবা।
মামলার শুনানির সময় আদালতে সাতজন আসামি উপস্থিত ছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ২৭ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান বলেন, আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে এজাহারনামীয় আসামিদের সঙ্গে রাসেল হত্যার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। জেরার সময় মামলার বাদী স্বীকার করেছেন, পুলিশের লেখা এজাহারে তিনি শুধু স্বাক্ষর করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ মার্কেটের সামনে গুলিবিদ্ধ হন হোসিয়ারি শ্রমিক রাসেল। পরে ২২ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ২৭ জুলাই রাসেলের বাবা পিন্টু রহমান নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। রাসেল নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ মার্কেটের একটি হোসিয়ারি কারখানায় অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি নওগাঁর মান্দা থানার কশব ভোলাগাড়ী গ্রামে।

