বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ জেলার চাষাঢ়া- সাইনবোর্ড সড়কের নাম হবে “একেএম সামসুজ্জোহা সড়ক”, খানপুর-ইপিজেড সড়কটির নাম হবে “বেগম নাগিনা জ্জোহা সড়ক” ও নারায়ণগঞ্জের তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নাম হবে “নাসিম ওসমান সেতু”। গত ২৫ মে (মঙ্গলবার) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয় থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নাৰায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন সাইনবাের্ড-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়ক অব-১১১) এর নারায়ণগঞ্জ জেলায় সাইনবোর্ড (চেইনেঞ্জ ০+০০) হইতে চাষাঢ়া (চেইনেঞ্জ ৮+১০০) আঞ্চলিক মহাসড়কটি স্বাধীন পদক প্রান্ত (মরণােত্তর) ভাষা সৈনিক একে, এম সামসুজ্জোহা সড়ক” নামে সরকার নামকরণ করেছেন।
সরক ও জনপথ অধিদপ্তরের নাৱায়ণঞ্জ সড়ক,
বিভাগাধীন নবায়ণগঞ্জ জেলার খানপুর হইতে
হাজীগঞ্জ গোদনাইল হইয়া ইপিজেড পর্যন্ত (চাষাড়া-খানপুর-হাজীগঞ্জ-গােদনাইল-আদমজী ইপিজেট সড়ক আঃ-১১৫) এর চেইনেঞ্জ ০+০০০ হইতে ৬-২০০ পর্যন্ত) আঞ্চলিক মহাসড়কটি ভাষা সৈনিক “বেগম নাগিনা জ্জোহা” নামে সরকার নামকরণ করেছেন।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন মদনপুর-মদনগঞ্জ-সৈয়দপুর (আর-১১৩) আঞ্চলিক মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মাণাধীন ৩ শীতলক্ষ্যা সেতুটি নাম বীর মুক্তিযােদ্ধা “একে, এম নাসিম ওসমান সেতু” নামে সরকার নামকরণ করেছেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সড়ক ও জনপথের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ গোলাম জিলাশী স্বাক্ষরিত জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্য হইৰে।
ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক একেএম সামসুজ্জোহা ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে প্রথম বাংলাদেশ বেতারে ভাষণ প্রদান করেন এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) প্রথম বাঙালি হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ঢাকা-৩০ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় চার নেতাকে জেলখানায় হত্যার সময় তিনি শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সাথে একই সেলে বন্দি ছিলেন। এছড়াও তার স্ত্রী বেগম নাগিনা জোহা ছিলেন একজন ভাষাসৈনিক। ভাষা আন্দোলনে তিনি প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। তার বড়ছেলে প্রয়াত নাসিম ওসমান ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আপাদমস্তক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। তিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধই করেননি, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে অংশ নিয়েছিলেন প্রতিরোধ যুদ্ধেও। আশির দশকের শুরুতে নাসিম ওসমান যোগ দেন এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে। তিনি আমৃত্যু জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তিনি যথাক্রমে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে মোট ৪ বার জাতীয় পার্টি ও মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

