বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, আওয়ামীলীগকে পরাজিত করতে পারে এমন কোন শক্তি বাংলাদেশে জন্ম গ্রহন করেনি। আওয়ামীলীগকে পরাজিত করতে একমাত্র আওয়ামীলীগই করতে পারে। আওয়ামীলীগের ভিতরে একদিকে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক আরেকদিকে রয়েছে মোস্তাক মার্কা সৈনিক। আর ঐ মোস্তাকরাই আওয়ামীলীগকে ধ্বংস করতে চায়। জেলা ও মহানগর যুব মহিলালীগ কমিটিকে কেন্দ্র করে কে কি বলছে তা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। গত কয়েকদিন ধরে দলের মধ্যে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তা সাময়িক। আমাদের ঘরের ভিতর দ্ধন্ধ আমরাই সমাধান করব।
সাংসদ শামীম ওসমান আরো বলেন, সিটি নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার বোন আইভীকে নেীকার সমর্থন দিয়েছে। আমার বোনের বিরুদ্ধে দাড়ানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়, কারন আইভী নৌকার প্রার্থী। নৌকার মনোনীত প্রার্থী বিধায় আইভীর পক্ষে কাজ করেছি। আমি মনে করি নাসিকের সফলতায় আমরা গর্ববোধ করি আর ব্যর্থতার দায়ভার আমাদের উপরেই পড়বে। আমরা নৌকার জন্য ভোট চেয়েছি ভবিষত্যে চেয়ে যাবো। সোমবার বিকালে ফতুল্লার অক্টো অফিস এলাকায় অবস্থিত বাংলাভবন কমিউনিটি সেন্টারে ১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক মত বিনিময় সভায় সাংসদ শামীম ওসমান উপরোক্ত বক্তব্য প্রদান করেন।
সাংসদ শামীম ওসমান আরো বলেন, দলের মধ্যে যাকে যোগ্য মনে করেছি তাকে যোগ্যস্থানে সম্মান করতে চেষ্টা করেছি। জেলাওডমহানগর যুব মহিলালীগের কমিটিতে ক্রসফায়ারে নিহত ডেভিডের শয্যাসঙ্গীনীকে কমিটিতে স্থান না দেয়ায় আজকে তারা মনক্ষুন্ন। আমি বলতে চাই, দলের ভিতরে অনেক বেঈমান রয়েছে। খন্দকার মোস্তাক আওয়ামীলীগের সৃষ্টি, আর মোস্তাকের প্রেত্ত্বাতারাই বেঈমানী করছে। আগামি নির্বাচন প্রসঙ্গ সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে যেখানে দিবেন সেটাই আমি মেনে নিব। আমাকে যদি মনোনয়ন দেন তাহলে আমি নির্বাচন করব, অণ্যথায় যাকেই নমি নেশন দিবেন তাকেই নমিনশন দিব। আমাদের কোন্দল আর গ্রুপিংয়ে যদি দল ক্ষমতায় না আসেন তাহলে খালেদাজিয়াও ক্ষমতায় আসতে পারবেন না। কারন বিএনপি আর জামায়াত এক না। সব দলের মধ্যেই মোস্তাক মার্কা লোক ঘুরে বেড়ায়। ওরা সুযোগ পেলে আল্লাহ আকবর ধ্বনি দিয়ে মানুষ খুঁন করতেও পিছপা হবে না।
শামীম ওসমান আরো বলেন, ওরা সবাই এমপি হতে চায়। এমপি হওয়া এত সহজ নয়। মুখ দিয়ে বললা, আর এমপি হয়ে গেলাম তা সম্ভব নয়। সাধারন নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, বিএনপি জামায়াত-শিবির যদি কখনো ক্ষমতায় আসে তাহলে আমাদের মা-বোন তাদের কাছে নিরাপদ নয়। ঘরের ভিতর প্রবেশ করে আমার মা-বোনদের রেডর্ড করবে। কাউকে ওরা ছাড় দিবে না। কারন, শেখ হাছিনার আমলেই পাকিস্তানি শক্তি জামায়াতের ক্যাডারদের ফাসিঁ দেওয়া হয়েছে। ওরা একবার সুযোগ পেলে আমারে নিশ্চিহ্ন করে দিবে। ওরা মুক্তিযুদ্ধকে মানতে চায় না। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে যে কোন মূল্যে ধ্বংস করতে চায়।
নারায়ণগঞ্জের দুটি পত্রিকাকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, নারায়ণগঞ্জে দুটি পত্রিকা আছে। এ পত্রিকাগুলো জামায়াতের অর্থে পরিচালিত হয়। নারায়ণগঞ্জে অরাজকতা সৃষ্টির মিশন নিয়ে ওরা নেমেছে। মুক্তিযুদ্ধের শক্তির বিরুদ্ধে ওরা অবস্থান নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে শক্তিশালি করার লক্ষে যারাই কাজ করছে তাদের চরিত্র হননে নেমেছে। সাংসদ শামীম ওসমান ঐ সকল সম্পাদকদের হুশিয়ারী উচ্চারন করে বলেন, অনেক ষড়যন্ত্র করেছো। আর করোনা, ভবিষত্যে আমার নেতাকর্মীদের চরিত্র হননের চেষ্টা করা হলে ছাড় দেয়া হবে না। শোকের মাস আগষ্টে নারায়ণগঞ্জে বিশাল জনসভা করা হবে। এ জনসভায় আইভীকে দাওয়াত দেয়া হবে। এক সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির বিজয়ের জন্য মাঠে নামবো। বিশাল জনসভার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের মাটি আওয়ামীলীগের দখলে রাখবো। অণ্যকোন শক্তি কিংবা বিএনপি জামায়াত ক্যাডারদের মাঠে থাকতে দেয়া হবে না।
আগামি জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলা হয়েছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলো জনগনের মাঝে তুলে ধরার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিএনপি জামায়াত শিবির ক্ষমতায় এলে সাধারন মানুষের কাছে তাদের ভয়াবহতা তুলে ধরার জন্য প্রতিটি থানার নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসানাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি চন্দনশীল, মহানগর সহ সভাপতি রবিউল হোসেন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুব মহিলা লীগের আহ্বয়াক সুইটি ইয়াসমিন, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য ইসরাত জাহান স্মৃতি, অধ্যক্ষ শিরীন বেগম, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারন সম্পাদক এম শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবর রহমান, সাধারন সম্পাদক হাজ¦ী মোঃইয়াছিন, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মোঃ আবেদ আলী, মহানগর সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধান, জেলা তাতীলীগের সভাপতি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি নাজিমউদ্দিন আহমেদ, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান সজীব, মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান রিয়াদ, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল, যুবলীগ নেতা চঞ্চল মাহমুদ, মহানগর শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্নাসহ জেলা ও মহানগরসহ থানা পর্যায়ের অঙ্গসংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দ।

