বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে আরেকটি সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট ও নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে ফেরি সার্ভিস চালু করার জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রী কাছে জোরালো দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। সেই সাথে আসন্ন রমজান মাসের আগেই ফেরি সার্ভিস চালু করার দাবি রেখেছেন তিনি। পরিপ্রেক্ষিতে নৌ-পরিহন মন্ত্রী শাহজাহান অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘাট গুলোতে ফেরি সার্ভিস চালু করার আশ্বাস প্রদান করেছেন।
শুক্রবার ২৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ ৫নং খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক সদ্য সংগৃহিত নৌ-পথ সংরক্ষন সহায়ক ২০টি নৌযানের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেলিম ওসমান নৌ পরিহন মন্ত্রী শাহজাহান খাঁনের কাছে এ দাবি রাখেন।
বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান কমডোর মোজাম্মেল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) ছরোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ব্যানারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির নাম উল্লেখ থাকলেও তারা কেউ উপস্থিত হননি।
সেলিম ওসমান শুরুতেই তার বক্তব্যে বলেন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খাঁন আমার বড় ভাইয়ের মত। আমি গত ২৫ বছর যাবত উনার সাথে কাজ করছি। আর এই ২৫ বছরই আমি উনার কাছ থেকে চেয়ে আসছি এবং উনি আমাকে দিচ্ছেন। এরজন্য আমি উনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
শীতলক্ষ্যা সেতু প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জবাসীকে উপহার হিসেবে একটি শীতলক্ষ্যা সেতু দিয়েছেন। যার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে এটি নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপক সহায়ক ভূমিকা রাখবে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ এবং বন্দরের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য আরেকটি সেতু প্রয়োজন। ইতোমধ্যেই নবীগঞ্জ দিয়ে আরেকটি সেতু নির্মাণের জন্য আমি ডিও প্রদান করেছি এবং সেতু ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে সেতু নির্মাণের জন্য আশা প্রদান করেছেন। আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যে নবীগঞ্জে সেতু নির্মাণের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সম্প্রতি নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে ট্রলার ডুবির ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ২৫ এপ্রিল রাতে নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে যায়। আমরা আশঙ্খা করে ছিলাম হয়তো একজনকেও বাঁচানো সম্ভব হবে না। কিন্তু ট্রলার ডুবার সাথে সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বন্দর ও সদর থানার ওসি, নৌ পুলিশের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, খেয়াঘাটের মাঝি সহ স্থানীয় জনগনের সহযোগীতায় প্রত্যেককেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর জন্য আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
নৌ মন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষন করে সেলিম ওসমান বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও আমার বন্দরের মানুষ পরাধীন হয়ে বেঁচে আছেন। সেই সিরাজদৌলার আমল থেকে তাদেরকে ঘাটে টোল দিয়ে নদী পার হতে হয়। কিছু পূর্বে আমি পত্রিকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের সংবাদ দেখে নিজ উদ্যোগে বন্দর খেয়াঘাটের মত নবীগঞ্জ খেয়াঘাটটি টোল ফ্রি করে দিয়েছি। এতে সাধারণ মানুষের কিছুটা উপকার হচ্ছে। কিন্তু খেয়া পার হতে তাদেরকে প্রচন্ড দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নারায়ণগঞ্জ একটি শিল্প এলাকা। দেশের রপ্তানি আয়ের ৩৫ শতাংশ এই নারায়ণগঞ্জের নীট শিল্প থেকে আসে। এই বন্দর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষ নদী পার হয়ে কর্মস্থলে যায়। যার মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ নারী শ্রমিক। মাননীয় মন্ত্রী আপনি একজন শ্রমিক নেতা। আপনি শ্রমিকদের ভালোবাসেন। আমি চাই নদী পারাপার হতে গিয়ে আমার বন্দরবাসীদের আর একজনেরও যেন প্রাণ হানি না ঘটে। তাই আমি আপনার কাছে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এবং নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে ফেরী সার্ভিস চালু করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। দুটি ঘাটে অন্তত ৬টি ফেরির প্রয়োজন। নৌ-মন্ত্রনালয় অথবা সড়ক ও জনপথ বিভাগের ফেরী দিয়ে আপনি আসন্ন রমজান মাসের পূর্বে আমার বন্দরবাসী ফেরী দিয়ে নদী পাড় হতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দিবেন।
সেলিম ওসমানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খাঁন বলেন, সেলিম ওসমান যখন দাবি করেছেন তখন সেই দাবি না রেখে আমি পারবো না। তবে আমাদের নৌ মন্ত্রনালয়ে যে ফেরী রয়েছে সেই ফেরী গুলোর অনেক বড় আকারে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ফেরী গুলো ছোট আকারে আমি চেষ্টা করবো সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে ফেরী নিয়ে এখানে ফেরী সার্ভিস চালু করতে। যদি সেটা না পারি তাহলে আমরা নৌ- পরিবহন মন্ত্রনালয় থেকে ছোট আকারের ফেরী নির্মাণ করে বন্দরবাসীর জন্য নদী পারাপারের সুব্যবস্থা করে দিবো।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিআইডব্লিউটিএ এর নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ন পরিচালক এ.কে.এম আরিফ উদ্দিন।
