বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বন্দরের চাঞ্চল্যকর লিয়ন হত্যা মামলার চাজশীট দাখিল করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিযুক্ত ৫ খুনী যথাক্রমে জুয়েল,মুন্না,আল আমিন,আদম আলী ও আকাশের বিরুদ্ধে ওই চার্জশীট দাখিল করা হয়। এর আগে খুনীরা আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবাবন্দীতে দেষ স্বীকার করে। তারই প্রেক্ষিতেই মামলার চৌকশ তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওই রিপোট দাখিল করেন। নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট অশোক কুমার দত্ত’র কাছে প্রদত্ত জবানবন্দীতে প্রথমে জুয়েল এবং পরে মুন্না হত্যার কথা অকপটে স্বীকার করে। বর্ণণা দিতে গিয়ে জুয়েল ও মুন্না জানায়,মূলতঃ তারা পেশাদার ছিনতাইকারী। ১০ মার্চ দিবাগত রাত ১টায় নেশার টাকার জন্য তারা ৬জনের একটি সংঘবদ্ধ দল রিকশাযোগে ঘোরা ফেরা করে। রত আড়াটার সময় স্ক্রিন্টপ্রিন্ট কারখানার শ্রমিক লিয়ন ব্যাটারীচালিত একটি রিকশাযোগে কল্যান্দী তার নিজ বাড়ি সোনারগাঁয়ের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছামাত্রই জুয়েল ও মুন্নাসহ আরো ৪ ছিনতাইকারী মিলে তার রিকশার গতিরোধ করে। এ সময় তারা লিয়নকে টাকা ও মোবাইল দিয়ে দিতে বলে। লিয়ন দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে এ সময় জুয়েল তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে পিঠে আঘাত করে। কোপাঘাতে লিয়ন ডাক চিৎকার করলে জুয়েল বুকে আরো একটি আঘাত করলে জুয়েল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ছিনতাইকারীরা তার পকেটে রক্ষিত নগদ ৪ হাজার টাকা ও মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়। পরে লিয়ন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। ভোরে তার এলাকার জনৈক মুরগী ব্যবসায়ী বাড়িতে খবর দিলে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে তার লাশ শনাক্ত করে। পরদিন সকালে বন্দর থানা পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে নিহতের ছোটভাই রিয়াদ বাদী ওইদিন বিকেলেই বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং ২৪(৩)২০১৬ইং। ধৃতদের মধ্যে জুয়েল জুয়েল সুদূর বরগুনা জেলা লাউয়াগাছিয়া গ্রামের লাল চান মৃধার ছেলে। ৪ ভাইয়ের মধ্যে জুয়েল তৃতীয়। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান,জুয়েল স্ব-পরিবারে সোনাকান্দা এনায়েতনগর এলাকায় এবাদুল্লাহ মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে আসছে এবং মুন্না সালেহনগর এলাকার মফিজ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত রহিম বাদশার ছেলে।
