বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে রিকশার গ্যারেজ লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করায় ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান বুলবুলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড সরিয়ে মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে বুধবার (২০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত বুলবুল ওই এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে বুলবুলের রিকশার গ্যারেজে লুটপাট চালায় সিফাতের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ ঘটনায় শেখ সিফাতকে প্রধান আসামি করে বন্দর থানায় মামলা করেন বুলবুল। মামলা দায়েরের পর থেকেই সেটি প্রত্যাহারের জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ স্বজনদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে একা পেয়ে শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সিফাত ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বুলবুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই বুলবুলকে মামলা তুলে নিতে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ওই বিরোধের জেরেই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
“হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার রাতেই বন্দরে বিক্ষোভ করেন ইসলামী যুব আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা সড়ক ও বন্দর রেললাইন অবরোধ করেন।
ইসলাম আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বুলবুল হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ তাদের আশ্বস্ত করেছিল যে, জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের পর তারা রাতের অবরোধ তুলে নেন।
তিনি বলেন, রাত প্রায় ২টা থেকে ৩টার দিকে একজন আসামি গ্রেপ্তারের খবর পেলেও তার পরিচয় ও ছবি নিয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। গ্রেপ্তার ব্যক্তি দুর্ধর্ষ ক্যাডার বলে জানতে পারেন তারা। এ কারণে সকালে আবারও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর অংশে অবরোধ করেন তারা।
মুফতি মাসুম বিল্লাহ আরও বলেন, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং গ্রেপ্তার আসামির ছবি দেখিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশের আশ্বাসের পর তারা অবরোধ তুলে নেন।
নারায়ণগঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, বুলবুল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। তবে পুলিশ রাতেই এ মামলায় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি শেখ সিফাতও রয়েছেন।
তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেছে যে, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানার পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নেন। পরে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা ও আশ্বস্ত করার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা ব্যারিকেড সরিয়ে মহাসড়ক ছেড়ে চলে যান। এতে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ৯ আসামির বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার হত্যা মামলা রুজু করা হবে। মামলার কার্যক্রম শেষে দুপুরের পর তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামীম শেখ বলেন, বন্দর থানায় একজন ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা মদনপুর এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে অবরোধ শুরু করে প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা তা তুলে নেন।
তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় তারা সড়ক ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আমরা ঘটনাস্থলে থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং পুলিশ সুপারও মোবাইল ফোনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে তারা অবরোধ তুলে নেন।
ওসি জানান, অবরোধের কারণে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল অব্যাহত থাকে।
এদিকে নিহত বুলবুলের স্বজন ও এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

