বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ডাকে সাড়া দিয়ে মোটা চাল ও মোটা বস্ত্রের জন্য মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে ছিলাম। সেদিন আমাদের সাথে কোন বন্ধু-বান্ধব সঙ্গী হয়নি। তখন বাংলাদেশের মানুষ ছিল মাত্র সাড়ে ৭ কোটি। আর এখন আমরা বঙ্গবন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বস্ত্র রপ্তানিতে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে আমরা এখন বিদেশে চাল রপ্তানির কথা চিন্তা করছি। মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার সময় কোন বন্ধু বা মুক্তিযোদ্ধাদের মা-বাবা কেউ সাথে যায়নি। মুক্তিযোদ্ধারা নিজেরা যার যার অবস্থান থেকে একাই দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে ছিলাম। তাই আমি বলবো যদি তোমার ডাক শুনে কেউ না আসে তাহলে একাই চলবে। যদি তুমি অন্যকে চালানোর চেষ্টা করো তাহলে তুমি নিজেই চলতে পারবে না। একে তো আমরা এখন বুড়ো হয়ে গেছি, তারপর নারায়ণগঞ্জে এখন এতো অপরাজনীতি! আমরা আর পারবো না। আগামীতে তোমাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে। এখন সময় এসেছে তোমাদের উঠে দাড়ানোর। তোমরা ভবিষ্যত প্রজন্ম যদি উঠে দাড়াঁতে না পারো তাহলে যে আমরা মরেও শান্তি পাবো না।
রোববার ১২ ফেব্রুয়ারী বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, তোমরা মেয়ে বলে ভবিষ্যতে নিজেদেরকে শুধু একজন গৃহিনী হিসেবে গড়ে তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তোমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা একজন মহিলা। উনি যেমন দেশ চালান ঠিক তেমনি নিজের সংসারও চালান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, তোমাদেরকে শুধু মুখস্ত বিদ্যায় শিক্ষিত হলে চলবে না। মুখস্ত বিদ্যা দিয়ে কিছু হবে না। পরীক্ষায় শুধু এ প্লাস পাওয়া মানেই সুশিক্ষিত হওয়া না। তোমাদেরকে মেধার বিকাশ ঘটাতে হবে। আর মেধার বিকাশ ঘটাতে হলে তোমাদেরকে লেখাপড়ার পাশাপাশি আউটনলেজ রাখতে হবে। আর এর জন্য তোমাদের মন খুলে হাসতে হবে। আনন্দ করা শিখতে হবে। আনন্দ করতে হবে। আমি চেয়ে ছিলাম আজকে তোমাদের অনুষ্ঠান হবে শামসুজ্জোহা স্টেডিয়ামে। কিন্তু তোমাদের কলেজ তোমাদেরকে এখানে বন্দী করে রেখে দিলো। অনুষ্ঠানে এসে আমার কাছে মনে হয়েছে এটা একটা বদ্ধ মুরগির খোয়ারের মত। কলেজের ৯ হাজার শিক্ষার্থী এই খোয়ারের মত জায়গায় আনন্দ উৎসব করার মত পর্যাপ্ত নয়।
তিনি আরো বলেন, তোমাদেরকে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তাতে করে বাংলাদেশে পোশাক খাতের পর দ্বিতীয় বৃহৎ আয়ের খাত হবে আইটি সেক্টর। তোমাদের সেই ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। এডিবির অর্থায়নে আমরা বিকেএমইএ থেকে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন কোর্সে প্রশিক্ষন দিয়ে যাচ্ছি। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্রগ্রামে আমাদের শাখা অফিস থেকে প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে। প্রতি ব্যাচে আমরা ৩৫০ জনকে প্রশিক্ষন দিতে পারি। কিন্তু আমাদের কাছে প্রায় ৪৫ হাজার আবেদন জমা পড়ে আছে। কিন্তু আপসোসের বিষয় হচ্ছে এই ৪৫ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে ৪৫ জনও আমাদের নারায়ণগঞ্জের ছেলে মেয়ে নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে তারা প্রশিক্ষন নিয়ে চাকরি করছে। কিন্তু আমাদের নারায়ণগঞ্জের ছেলে মেয়েরা আবেদন করে না। এটা খুবই দু:খজনক।
সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধক্ষ্য প্রফেসর শাহিন সুলতানা, সরকারী মহিল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর শিরীন বেগম, আঞ্জুমান আরা আকসির প্রমুখ।

