ফতুল্লা প্রতিনিধি
ফতুল্লা থানা থেকে ফতুল্লা মডেল থানায় পরিনত করা হলেও তা শুধু মাত্র নামেই মডেল রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক গত ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিলে ফতুল্লা থানাকে ফতুল্লা মডেল থানায় রূপান্তরিত করলেও তার বিন্দু পরিমান সেবা পাচ্ছে না ফতুল্লাবাসী। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সাধারন মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল পুলিশের সহযোগিতা প্রার্থনায় সাধারন দর্শনার্থীরা ফতুল্লা মডেল থানায় আসলেও তাদের পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে। দর্শনার্থীদের জন্য ওয়েটিং রুমে বসার জন্য চেয়ারগুলোও চাহিদার তুলনায় অনেকটাই কম। তাছাড়া সাধারন দর্শনার্থীরা প্রকৃতির ডাকে ফতুল্লা মডেল থানার বাথরুমে প্রবেশ করলেও অনেকটা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগতে হয়। নিরাপত্তাহীনতার মূল কারন হচ্ছে থানায় অবস্থানরত বাথরুমের প্রতিটি দরজার লক নষ্ট ও বিকল হয়ে পড়েছে। বাথরুমের ভিতরে অবস্থানরত সাধারন দর্শনার্থীদের মধ্যে নারী কিংবা পুরুষদের পড়তে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে। ফতুল্লা মডেল থানায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার মত বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই লক বিহীন বাথরুমে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সারতে হচ্ছে। এছাড়া জেলা পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে গরীব ও সাধারন মানুষের সরকারী খরচে আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য বিলবোর্ডটি দর্শনার্থীদের চোখের নজরে না রেখে থানার পাশেই একটি পরিত্যক্তস্থানে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। শিল্পাঞ্চলখ্যাত গুরুত্বপূন বিশাল জনবহুল এলাকায় অবস্থিত ফতুল্লা মডেল থানার হালচিত্রের অবস্থা এমন দেখে হতবিহম্ব হয়ে পড়েছে ফতুল্লার সাধারন মানুষ। ফতুল্লাবাসী মনে করেন, ফতুল্লা মডেল থানা শুধু মাত্র নামেই মডেল নামকরন করা হয়েছে। এ থানায় আগত দর্শনার্থীরা মডেল থানার কোন সুযোগ সুবিধাই পাচ্ছে না। থানার কর্তা থেকে শুরু করে প্রতিটি ষ্টাফ ব্যস্ত থাকে সামারি বানিজ্যে। দীর্ঘদীন ধরে চলে আসা ফতুল্লা মডেল থানার এমন করুন পরিনতির দিকে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নজর বিন্দু পরিমানও না পড়ায় স্থাণীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গতকাল রোববার বিকালে ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করতে আসা আগত এক মহিলা প্রকৃতির ডাকে থানার বাথরুম ব্যবহার করার জন্য যান। এ সময় বাথরুমের দরজার লক না দেখে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন কখন কে এসে পরে। তারপরেও কোন উপয়ান্ত না দেখে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়া প্রয়োজনীয় কাজ সমাপ্ত করার জন্য তিনি বাথরুমে অবস্থান করেন। এর একটু পরেই প্রকৃতির ডাকে এক পুরুষ মহিলা অবস্থানরত বাথরুমের দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে ফেলে। এর ফেলে বাথরুমের ভিতর থাকা মহিলার পাশাপাশি পুরুষটিকেও বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। অনেক লজ্জার মধ্য দিয়েই জিডি না করেই থানা ত্যাগ করেন মহিলাটি। অপরদিকে সরকারী খরচে গরীব ও সাধারন মানুষ আইনগত সেবা পাওয়ার জন্য জেলা পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে লিগ্যাল এইড অফিসের সাইনবোর্ড টিও থানার একটি কোনায় পরে থাকতে দেখা যায়। ফতুল্লা মডেল থানার মত থানায় যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে কি আর কোন মন্তব্য করার কিছু আছে? ফতুল্লাবাসী মনে করেন, স্থাণীয় পুলিশ প্রশাসন অন্ধ নয়, সবকিছুই তাদের নজরে পড়েন। শুধু মাত্র তাদের খামখেয়ালী পনার কারনেই উক্ত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয় না। তবে বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারের নজরে আসলে উক্ত সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার জরুরী ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা ফতুল্লাবাসীর।

