বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল উদ্দিনকে টাকা দিলে সব কিছুই করানো সম্ভব এমন অভিযোগ ভূক্তভোগীদের। তাদের মতে, টাকা পেলে তিনি মরা মানুষকে নতুন জীবন দান ছাড়া সব কিছুই করতে পারেন। স্থানীয় কয়েকজন খুচরা নামধারী বিশেষ পেশার লোককে মাসোহারা দিয়ে তাদেরকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে চালাচ্ছেন এই সামারি বানিজ্য। থানার অফিসার ইনচার্জের এধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডে নাখোষ কর্মরত এসআই, এএসআইসহ পুলিশ সদস্যরা। থানা এলাকা থেকে বিভিন্ন অভিযোগে আসামী গ্রেফতার করা হলেও রাতের আঁধারে কিংবা সকালে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে অফিসার ইনচার্জের বিরুদ্ধে। মোটা অংকের টাকা নিয়ে আসামী ছেড়ে দিলেও অভিযোগ মাথায় নিয়ে বেড়ান কর্মরত এসআই ও এএসআইরা। তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে গত ১২ অক্টোবর রাতে ফতুল্লা মডেল থানার নতুন কোট সংলগ্ন আদর্শ চাষাঢ়া এলাকায়। ব্যবসায়ী হাজী আব্দুল ওহাব ভূঁইয়া বাদি হয়ে রেজাউল করিম, সামছুল হক ও ফয়সালের বিরুদ্ধে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং ৪৪। তারিখ ১২.১০.১৭খ্রী.) গত ১৪ অক্টোরব রাত ৩টার দিকে ফতুল্লা থানার সিভিল টিমের এসআই সাফিউল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মামালার তিন আসামীকে গ্রেফতার করেন। আসামী গ্রেফতার করার পর শহরের দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকা থেকে আসামী রেজাউলের আত্মীয় পাগলা মহিউদ্দিন কয়েকজন বিএনপির ক্যাডার নিয়ে নতুন কোট সংলগ্ন আদর্শ চাষাঢ়ায় এসে পুলিশের সামনেই মামলা বাদী হাজী আব্দুল ওহাব ভূঁইয়াকে গুলি করে হত্যার হুমকী দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে পাগলা মহিউদ্দিন তাকে পিস্তল নিয়ে ধাওয়া করলে তিনি দৌড়ে তার বাড়ির ভেতরে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরদিন সকাল ১০টার দিকে অফিসার ইনচার্জ তার কক্ষে আসলে পাগলা মহিউদ্দিন ও ওয়ালি মাহমুদ খানসহ কয়েকজন তার সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। মোটা অংকের টাকা লেনদেনের পর থানায় আটক আসামীদের ছেড়ে দিতে বলেন তিনি। তার নির্দেশ মত হাজতে আটক তিন আসামীকে ছেড়ে দেয়া হয়। বিষয়টি গত রবিবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেন ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ কামালউদ্দিন। এসময় তিনি জানান, আসামী আমি ছেড়েছি এসআই সাফিউল নয়।
অফিসার ইনচার্জ কামালউদ্দিনের কাছে স্থানীয় এমপি শামীম ওসমান কিংবা জেলা পুলিশ সুপারসহ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের তেমন কোন দাম নেই। তাদের আদেশ নির্দেশ তিনি তেমন আমলেও নেন না বলে অভিযোগ। তার রাজ্যে তিনি যেন রাজা!
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরফুদ্দিনের কারনে তিনি থানায় দেদারছে অপকর্ম করতে পারেন না, তাই তাকে অশ্লীলভাষায় গালমন্দ করতেও শোনা যায়।
এদিকে, ফতুল্লা থানায় কর্মরত কয়েকজন এসআই জানান, মামলার এজাহারভূক্ত আসামী ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে এসআই সাফিউলের কোন হাত নেই। পুরো কাজটিই করেছেন অফিসার ইনচার্জ কামালউদ্দিন।
তল্লা এলাকার ওয়ালি মাহমুদ খান থানা থেকে গ্রেফতারকৃতদের তার জিম্মায় নিয়ে বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসা করে দেবেন বলে জানান। এদিকে, গতকাল সোমবার গোপনে আসামীদের আদালতে হাজির করে জামিন করানোর চেষ্টা চালান তিনি। আদালতে আসামীদের হাজির করার পর যখন তারা বুঝতে পারলেন তাদের জেলে দিয়ে দেয়া হবে ঠিক সেই মুহূর্তেই আসামীরা আদালত থেকে পালিয়ে যান। এঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট চরম ক্ষুব্দ হন। এদিকে, ফতুল্লা থানা হাজত থেকে টাকা বিনিময়ে মামলার এজাহারভূক্ত আসামী ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় পুলিশের উর্ধ্বতন মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানাগেছে, গত ০৮ অক্টোবর ফতুল্লা থানার নতুন কোট সংলগ্ন আদর্শ চাষাঢ়য়া এলাকার হাজী আব্দুল ওহাব ভূঁইয়া তার বাড়ির দেয়াল নির্মান করছিলেন। এসময় রেজাউল করিম, সামছুল হক ও ফয়সাল গিয়ে রাজমিস্ত্রিদের কাজ বন্ধ করতে বলে। এসময় রাজমিস্ত্রিরা বাড়ির মালিক হাজী আব্দুল ওহাব ভূঁইয়াকে ডাক দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালে অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রাজমিস্ত্রি ও তার সহকারীকে আহত করেন। এসময় হাজী আব্দুল ওহাব ভূঁইয়া ও তার স্ত্রী তাদের থামাতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও মারধর করে আহত করে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় আহতদেরকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। বর্তমানে আহতরা স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে গত ১২ অক্টোবর রাতে হাজী আব্দুল ওহাব ভূঁইয়া বাদি হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

