বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ফতুল্লার বক্তাবলীর গোপালনগরে গৃহবঁধু ফাতেমা আক্তার মনিকে আত্মহত্যায় প্রয়োচনা দেয়ার অভিযোগে, ফতুল্লা মডেল থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন নিহত মনির ভাই আহম্মদ উল্লাহ । স্বামী আশিক চাঁন, শ্বশুর আওলাদ হোসেন,শ্বাশুড়ী ফেরদৌসী বেগম ও দেবর আরমানকে মামলায় আসামী করা হয়েছে(মামলা নং-৫১)। এখনো পর্যন্ত মামলার এজাহাভূক্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
বিয়ের মাত্র ৫ মাস যেতে না যেতেই অকালেই এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে বক্তাবলীর মধ্যনগরের হোসেন আলীর মেয়ে ফাতেমা আক্তার মনিকে। পর নারীর প্রতি স্বামীর আসক্তি ও মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনই গৃহবঁধূ মনির জীবনে কাল হয়েছিল। বক্তাবলীর উত্তর গোপালনগরের আওলাদ হোসেনের বখাটে ছেলে আশিক চাঁনের সাথে বিয়ে হয়েছিল মনির। বিয়ের পর মনি জানতে পারে তার স্বামী একজন মাদকাসক্ত এবং পর নারীর প্রতি আসক্ত। এ নিয়ে মনির সাথে আশিকের প্রায় সমই কথা কাটাকাটি হতো। বিভিন্ন সময় স্বামীর সাথে শ্বশুর আওলাদসহ বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা মনিকে মারধরও করতো। এ নিয়ে মনির পরিবার আশিকের পরিবারের সাথে কয়েক দফা শালিসও করেছিল। আশিককে অনেক বুঝিয়েছিল নিহত মনির পরিবার । কিন্তু আশিক মাদক সেবন ও পরনারীর প্রতি আসক্তি ছাড়তে পারেনি। গত ৫ অক্টোবর সকালে মনিকে তার স্বামী শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন মনিকে বলে যে, হয় স্বামীকে তালাক দাও নয়তো আত্মহত্যা করো। শ্বশুর বাড়ির লোকজনদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে উল্লেখিত দিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা নাগাদ মনি ঘরের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সাথে ওড়না প্যাচিয়ে আত্মহত্যা করে। ঘটনার ১০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও মনিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়া স্বামী আশিক, শ্বশুর আওলাদসহ মামলার অপর আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

