বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
প্রায় আড়াই যুগ পড়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাড়িতে গিয়ে দেখা করলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। ওই সময় আইভী শামীম ওসমান দুজনেই প্রায় ৭-৮ মিনিট কথা বলেন। মঙ্গলবার বিকালে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত মেয়র আইভীর বাড়ি ‘চুনকা কুটির’ গিয়ে সাক্ষাত করেন। এর আগে বিকাল ৪ টায় সদ্য প্রয়াত মমতাজ বেগমের কবর জিয়ারত করেন শামীম ওসমান। কবর জিয়ারত ও দোয়া শেষে শামীম ওসমান ছুটে যান আইভীর বাড়িতে। ওই সময় শামীম ওসমানের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য গত রোববার বিকেলে মেয়র আইভীর মা মমতাজ বেগম ইন্তেকাল করেন। একই দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি। স্ত্রীর চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকায় শামীম ওসমান মেয়রের মায়ের জানাজায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। স্ত্রী লিপি কিছুটা সুস্থ হওয়ায় মঙ্গলবার শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জে ছুটে আসেন এবং মেয়রের প্রয়াত মা মমতাজ বেগমের কবর জিয়ারত করেন। তবে শামীম ওসমান মমতাজ বেগমের জানাজায় উপস্থিত হতে না পারলেও তার বড় ভাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান জানাজায় উপস্থিত হন এবং মেয়র আইভীকে স্বান্তনা দেন।
মেয়র আইভী শামীম ওসমানের কথপোকথন সম্পর্কে জানা যায়,মেয়রের বাড়িতে গিযে শামীম ওসমান কিছু সময় কাটান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের স্বান্তনা দেন। ওই সময় তিনি প্রয়াত মমতাজ বেগমকে নিয়ে স্মতিচারণ করেন। শামীম ওসমান ওসমান মেয়রের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন, চাচী (মমতাজ বেগম) আল্লাহওয়ালা মানুষ ছিলেন। তিনি আমাকে মায়ের মতো আদর করতেন। ৯৬ সালে এমপি হওয়ার পর আমি চাচীর দোয়া নিতে এসেছিলাম। ওই সময় তিনি নিজ হাতে আমাকে খাইয়ে দিয়েছিলেন। ৯৬ সালেই আমি আলী আহাম্মদ চুনকা (মেয়রের বাবা) চাচার বাড়ির সামনের রাস্তাটি ‘আলী আহাম্মদ চুনকা’ সড়ক হিসেবে নামকরণ করি।
শামীম ওসমান আরও বলেন, আমাদের এখন তার জন্য দোয়া করতে হবে। আর এমন ভাবে চলবে হবে যেন তাদের আত্মা শান্তি পায়। আমিও এতিম, আমি বুঝি এতিম হওয়াটা কত কষ্টের সেটা যেই বয়সেই হইনা কেন।
এসময় মেয়র আইভী আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাদ আসর তার প্রয়াত মায়ের জন্য অনুষ্ঠিতব্য দোয়া ও মিলাদে শামীম ওসমানসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে দাওয়াত করেন।
এর আগে ২০১৭ সালে শামীম ওসমান নিজের ছেলের বিয়ের দাওয়াক কার্ড নিয়ে আইভীর বাড়িতে গেলেও সেখানে গিয়ে আইভীর সাক্ষাত পাননি বা তিনি বাড়িতে ছিলেন না শোনা গেছে।
শামীম ওসমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোঃ শহীদ বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, মহানগর যুব লীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মহানগর কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান লিটন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ জুয়েল হোসেন,জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ সহ অন্যান্যরা।

