বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের উকিলপাড়া পলি ক্লিনিক জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার পারুল আক্তারের ভুল চিকিৎসায় স্বপ্না সাহা (২৮) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
নিহত স্বপ্না সাহা (২৮) বন্দর আমিন আবাসিক এলাকার লিটন সাহার স্ত্রী। তাদের নিজের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বাঞ্চারামপুরে।
নিহতের মা নমিতা সাহার সাথে কথা বলে জানা যায়, পলি ক্লিনিক জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার পারুল আক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী স্বপ্নাকে সন্তান প্রসব করানোর জন্য রবিবার সকাল ১০ টায় ভর্তি করানো হয়। এসময় বেলা ১২ টায় ডাক্তার পারুল নিজে স্বপ্নাকে সন্তান প্রসবের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। স্বপ্নার সিজার অপারেশনের কিছু সময় পর ডা. পারুল ও নার্স এসে বলে মা ও শিশু উভয়ই সুস্থ্য আছে। কিন্তু স্বপ্নাকে দেখতে চাইলে তাদের দেখতে যেতে নিষেধ করে ডা. পারুল। কিছুক্ষন পর দুপুর সোয়া ১ টায় ডাক্তার পারুল ও কর্তব্যরত নার্সদের ছুটাছুটি করতে দেখলে তাদের সন্দেহে হলে তারা অপারেশন থিয়েটার গেলে তারা দেখতে পায় স্বপ্নার নিঃশ্বাস ফিরিয়ে আনতে তার বুকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। ততক্ষনে ডা. পারুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এসময় অন্য ডাক্তাররা স্বপ্না সাহাকে আশাংকজনক বলে পলি ক্লিনিকের দুইজন দালালকে সঙ্গ দিয়ে তাদের সমরিতা হাসাপাতালে নিয়ে যেতে বলে। তাদের সন্দেহজনক মনে হলে নমিতা সাহা তার মেয়েকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দেখে মৃত ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে তারা নিহত স্বপ্নার লাশ নিয়ে পলি ক্লিনিকে বিকেল ৫ টায় নিয়ে আসে। এসময় পলি ক্লিনিক জেনারেল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ও কর্তব্যরত চিকিৎসক কাউকে পাওয়া যায়নি।
পরে তারা নিহত স্বপ্নার লাশ নিয়ে আহাজারি করার সময় গনমাধ্যম কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয় এবং তাদের কাছে ঘটনার কারন জানতে চাইলে নিহতের স্বামী লিটন সাহা আরো বলেন ডাক্তার পারুল আক্তারের ভুল চিকিৎসায় কারনে তার স্ত্রী স্বপ্না সাহা মারা যায়। অপারেশন চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। কিন্তু তারা জেনারেটর চালু করেননি। এসময় তার স্ত্রী স্বপ্নার প্রেসার বেড়ে গেলে তার কোন ব্যবস্থা না নিয়ে অপারেশন চালিয়ে যায় ডাক্তার। অপারেশন চলাকালীন সময়ে স্বপ্না মারা গেলে তাদের ভুল বুঝিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। পরে স্কয়ার হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। পলি ক্লিনিক জেনারেল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের লোকজন নিহতের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাশ নিয়ে তাদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা সদর মডের থানার এসআই মো. তালেব জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পলি ক্লিনিক জেনারেল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ও নিহতের পরিবার কাউকে পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তার ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নিবো।
এ বিষয়ে পলি ক্লিনিক জেনারেল হাসপাতালের মালিক ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ডাক্তার শাহনেওয়াজ চৌধুরী জানান, আমি কয়েকদিন যাবৎ ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছি। আমার বুকে রিং বসানো হয়েছে। বিষয়টি আমি শুনেছি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ডাক্তার পারুল আক্তারের সাথে বিষয়টি জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

