বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামীলীগের সম্পর্ক বিভাজন হচ্ছে এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল। বিগত দিনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিলেও এবার ক্ষমতাশীন দল আওয়ামীলীগ কোন ছাড় দিতে রাজী নয়। এবার নেতৃবৃন্দরা ৫টি আসনের নৌকার মাঝি দেয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছেন। দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ আ’লীগ ক্ষমতার স্বাদ থেকে বঞ্চিত তাই তারা আর লাঙ্গলে ঘানী টানতে চান না। এবার তারা নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে নৌকার প্রার্থী চান।
এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির এমপি বেশ সংশয় প্রকাশ করছেন বলে জানা গেছে। বিগত দিনে আ’লীগের অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন সমাবেশে জাতীয় পার্টির এমপি সাংসদ সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান ২ ভাই আ’লীগ থেকে মনোনয়ণ প্রত্যাশীদের ইঙ্গিত করে বলে গেছেন যারা মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা তারা নাকি এমপি নির্বাচন করবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
জানা গেছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমানকে আ’লীগ ছাড় দেয়। প্রথমে বীনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হলেও কয়েক মাস পরেই নাসিম ওসমানের মৃত্যু হলে তার শুন্যস্থানে তারই অনুজ সেলিম ওসমান উপ নির্বাচনে পুণঃনির্বাচিত হয়। কিন্তু এবার একাদশ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে কোন ছাড় বিনা বলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা। তারা এবার ৫টি আসনেই নৌকা প্রার্থী দেয়ার ঝড় তুলেছেন। এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসন থেকে আ’লীগ সমর্থিত মনোনয়ণ প্রত্যাশীরা হচ্ছেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ,নারায়ণগঞ্জ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ বাদল,সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান,মহানগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খোকন সাহা,নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান দিপু,নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদিরসহ আরো কয়েকজন ক্ষমতাতাসীণ দল থেকে প্রার্থীতা আশা করছেন। আর এ আসনে তারা জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থীকে আর কোন ছাড় দিতে নারাজ পোষন করেন। এবার তারা যে কোন মূল্যে আ’লীগের প্রার্থীকে জয়ী করতে আদা-জল খেয়ে মাঠে নামবেন বলে জানা যায়। এখন আওয়ামীলীগ ও জাতীয়পার্টির জোট মহাজোটে আগুন লাগার অবস্থা। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই লাঙ্গলকে ছাড় দেয়া যাবেনা বলে বেকে বসেছেন আওয়ামীলীগের নেতারা।
আ’লীগের তৃনমুল নেতাকর্মীরা জানান,দলীয় এমপি না থাকলে কর্মীদের দুঃখের কোন সীমা থাকেনা। আর যদি সে এমপি হয় সেলিম ওসমানের মতো তাহলে তো কথা বলাই দুর্লভ হয়ে পড়ে। তিনি কখন কি বলে বসেন সে ভয়ে আমরা তার দারস্থ্য হই না। আমাদের কোন কথা যদি এমপির সাথে বলতে যাই সে বলে জাতীয় পার্টি নেতা জাহের ভাইয়ের কাছে যেতে বলে। কার কাছে গিয়ে বলব যে কিনা তার নিজের এলাকায়ই জনবিচ্ছিন্ন। কিছু কিছু নেতার কারনে সাংসদ সেলিম ওসমানের কাছে সাধারণ মানুষ যেতে ভয় পায়। যাই হোক,দলীয় এমপি হলে সবকিছুই নির্ধিধায় বলা যায়। আমরা এবার পরিবর্তন চাই। নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে নতুন নেতৃত্ব চাই।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা আ’লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, ‘ছাড় দিবেন অন্য জেলায় দেন নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৫টি আসনে নৌকা দিতে হবে। লাঙ্গলের প্রার্থী হওয়ায় এসব আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা অবহেলিত। তাদের দুঃখ কষ্ট শোনার কেউ নেই। তাই আগামীতে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকা প্রার্থী দিতে হবে। জাতীয় পার্টিকে স্থান দেওয়া যাবে না।’
আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলও নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দাবি করে বলেছেন, ‘কোন গার্মেন্টেস এ বসে আর কাউকে লাঙলের প্রার্থী দেওয়া যাবে না। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী দিতে হবে।’
বন্দর থানা আ’লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ জানান,যেহেতু আমি বন্দর থানা আওয়ামীলীগের অভিভাবক সেহেতু দলীয় এমপি তো আশা করতেই পারি। এবার জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের দাবী থাকল নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে আ’লীগের মধ্যে যাচাই বাছাই করে যাতে একজন যোগ্য প্রার্থী দেখে প্রার্থীতা দেয়া হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা যে প্রার্থীকেই নির্ধারন করবেন আমরা নির্বিঘেœ তাকেই জয়যুক্ত করব ইনশাআল্লাহ।
