বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ চেষ্টার শিকার নারী সাংবাদিক সহ কর্মরত আহত সাংবাদিকদের দেখতে আসেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন এমপি।
সোমবার (২৯ জুলাই) বিকেলে শহরের একটি ক্লিনিকে নির্যাতনে আহত নারী সাংবাদিক সেলিনা আক্তার সোনালীকে দেখতে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয়। এসময় তার সাথে আহত অপর দুই নারী সাংবাদিক নিশাত ও এ্যামির খোজ খবর নেয় ফরিদা আক্তার। এর আগে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আহত দৈনিক কালবেলা ও দীপ্ত টিভির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি গৌতম সাহা, জাগো নিউজের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি শ্রাবন ও ফটো সাংবাদিক সবুজ সহ অন্যান্য আহতদের দেখে খোজ খবর নেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আরিফ আলম দিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সভাপতি আব্দুস সালাম সহ সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা আক্তার নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে পৃথক ভাবে মতবিনিময় করেন।
এসময় ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, কোটা আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছিলো তাদের অন্যতম টার্গেট ছিলো সাংবাদিক। রাজধানী ঢাকাসহ প্রতিটি জেলায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে সাংবাদিকরা। এতে ৪ জন সাংবাদিক নিহতসহ হতাহতের সংখ্যা অনেক।
ফরিদা ইয়াসমিন আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ৩ জন নারী সাংবাদিককে মারধর ও যৌন হেনস্তা করা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৭/৮ জন সাংবাদিক আহত হয়েছে। আমি তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। পেশাগত দায়িত্ব পলনকালে সাংবাদিকরা তাদের (নাশকতাকারী) টার্গেট ছিলো। আইন-শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি সাংবাদিকদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে সোনালী আক্তার নামে নারী সাংবাদিককে পিটিয়ে তার পড়নের কাপড় খুলে অর্ধনগ্ন করা হয়েছে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছি।
তিনি বলেন, আমাকে দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে। এ নারী উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা কাজ করছেন। তিনি নানা জায়গায় নারীকে ক্ষমতায়ন করার চেষ্টা করছেন। তিনি নারীকে বিমানবাহিনী, নৌ বাহিনী ও পুলিশ বাহনীসহ সব জায়গায় যেখানে এক সময় নারীদের প্রবেশাধিকার কঠিল ছিল প্রধানমন্ত্রী এসব জায়গায়ও নারীদের কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। সেখানে এই সময়ে রাস্তায় নারীদেরকে বিবস্ত্র করে এমনভাবে নির্যাতন বাংলাদেশের কোন সভ্য মানুষ করতে পারে না। আমি এতে ধিক্কার জানাই, নিন্দা জানাই ও তীব্র ক্ষোভ জানাই। এ ঘটনায় আমি এক সংবাদ কর্মী হিসাবে সাংবাদিকদের একজন নেতা হিসাবে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
তিনি সম্প্রতি সহিংসতায় নিহত ৪ সাংবাদিক ও আহতদের পরিবারে প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, শত শত সাংবাদিক আহত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সাংবাদিকদের সকল প্রকার সহযোগিতা দেয়া হবে । তারা যেন আবার কাজে ফিরে আসতে পারে। তাদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হবে। যে সকল সাংবাদিক মারা গেছে তাদের সহায়তা দেয়া হবে। শুধু সাংবাদিক নয়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,দলমত নির্বিশেষ সকলের চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হবে। এই আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন তারা নিহত হয়েছে তাদের পরিবারকে সহায়তা করা হবে। আপনারা দেখেছেন যে প্রধানমন্ত্রী অনেক পারিবারের সঙ্গে কথা বলে সাক্ষাৎ করতে আসাদের তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন ।
তবে তিনি বলেন, কিন্তু পরিবারের হারিয়ে যাওয়া মানুষ এটার কিন্তু কোন ক্ষতিপূরণ হয় না। কোনভাবেই এর শান্তনা হয় না। আমরা আশা করি যারা মানুষের মৃত্যু ও এই ধরণের ধ্বংসযজ্ঞে উৎসাহ দিচ্ছে বা উস্কানি দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা সাংবাদিকদের টার্গেট করে হামলা করেছে। এ জন্য আমরা সবাই এই দূর্বত্ত ও অপশক্তির বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করবো ও লড়বো।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কোটা আন্দোলনের সময় কর্মরত অবস্থায় নারায়ণগঞ্জে ৭/৮ জন সাংবাদিক আহত হয়। এসময় দু:স্কৃতিকারীরা তিন নারী সাংবাদিককে নির্যাতন ও লাঞ্ছনা করে।

