বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
গত ঈদে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের অর্থায়নে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে শহরকে যানজট মুক্ত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এবার ঈদের পূর্বে নারায়ণগঞ্জের মানুষদের যানজটের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে শহর, পঞ্চবটি ও ফতুল্লা এলাকার প্রতিটি মার্কেটের দোকান গুলোর পক্ষ থেকে রাস্তা যানজট মুক্ত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টিকে ‘দশের লাঠি একের বোঝা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এমপি সেলিম ওসমান।
বৃহস্পতিবার ৮ সেপ্টেম্বর সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঈদের পূর্বে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে মত বিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভার প্রধান অতিথি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান সর্ব সর্ম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত দেন।
সভায় ঈদের পূর্বে শহরে যানজটকে মূল ও প্রধান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ ও সকল কারখানা এক সাথে ছুটি না পর্যায়ক্রমে ছুটির ব্যবস্থা করতে বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমানের দৃষ্টি আকর্ষন করেন শিল্প পুলিশের পরিচালক ও এসপি শামীমুর রহমান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান বলেন, গত কয়েক বছর যাবত গার্মেন্টস মালিকেরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধ করে আসছে। এবারে সেইভাবেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিকেএমইএ ও শিল্প পুলিশ বিষয়টি পর্যবেক্ষন করছে। শ্রমিকদের ছুটিও আলাদা আলাদা দিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সভায় কমিউনিটি পুলিশের নেতৃবৃন্দরা গত বছরের ঈদের এমপি সেলিম ওসমান ও ব্যবসায়ীদের অর্থায়নে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ব্যবস্থা করার বিষয়টি প্রশংসা করে তা অব্যাহত রাখা দাবি জানান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সেলিম ওসমান বলেন, ‘দশের লাঠি একে বোঝা’ প্রতি বছর বিষয়টি আমার উপর চাপিয়ে দিলে বিষয়টি আমার জন্য অসাধ্য কাজ হবে। আমরা কোন কিছু শুরু করে দিতে পারি। সে গুলো অব্যাহ রাখার দায়িত্ব আপনাদের সকলের। আমি গত বছর ব্যবসায়ীদের সহযোগীতা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের জন্য ৩০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেছিলাম। আমরা শুরু করে দিয়ে ছিলাম। এ বছর যদি আপনারা সকল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সহযোগীতা নিয়ে উদ্যোগ নিতেন তাহলে কাজটি অনেক সহজ হয়ে যেতো।
নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে জেলা দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, অন্তত্য বঙ্গবন্ধু সড়কে যেন যানজট মুক্ত রাখা যায় সেই ব্যাপারে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। প্রতিটি মার্কেটের পক্ষ থেকে যদি ৪ জন করে সেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেওয়া হয় তারা মার্কেটের সামনে থেকে রিকশা, ভ্যান, গাড়ি সরিয়ে দিবে রাস্তায় মার্কেটের সামনে কোন রিকশা দাড়াতে পারবে না তাহলে দেখা যাবে যানজট অনেকাংশেই কমে যাবে। আপনারা ইচ্ছা করলে পঞ্চবটি ও ফতুল্লা এলাকার ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করে সম্মিলিত ভাবে উদ্যোগটি গ্রহণ করতে পারেন।
এছাড়াও শিবু মার্কেট থেকে ফতুল্লা পোষ্ট অফিস পর্যন্ত সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাস্তাটির খুব বেহাল অবস্থা। আর সার্বক্ষনিক ট্রাক চলাচলের কারনে যানজট লেগেই থাকে। এর আগে রমজান মাসে আনসার নিয়োগ দিয়ে ট্রাক চলাচলে সময় বেধে দিয়ে ছিলাম তখন ওই রাস্তায় কোন যানজট ছিল না। এই উদ্যোগটি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বছর জুড়ে নেওয়া হলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে।
এ সময় নিরাপত্তা এবং পুলিশকে সহযোগীতার জন্য এমপি সেলিম ওসমান, জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল আহম্মেদ শহরের প্রতিটি মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যাপারে জোরারোপ করেন।
জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল আহম্মেদ এর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, শিল্প পুলিশের পরিচালক শামীমুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন, মাসুদুজ্জামান, মতিয়ার হোসেন, ফোরকান আহম্মেদ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বিকেএমইএ সহ সভাপতি(অর্থ) জিএম ফারুক, আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান মতি, সুলতানা উদ্দিন নান্নু, গম আড়ৎদার মালিক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান, বন্দর থানার ওসি কালাম হোসেন, ফতুল্লা থানার ওসি কামাল হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ওসি সরাফত সহ প্রশাসন ও ব্যবসায়ী অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

