বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকেরচর গ্রাম। স্বজন হারানোর বেদনায় স্তব্ধ পুরো এলাকা। দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনের মধ্যে এই গ্রামেরই তিনজন—ফাহিম সরকার, আপন আহমেদ ও নুর মোহাম্মদ। একই ইউনিয়নের তৈলখিরা চরের আরেকজন ফয়সাল। প্রিয়জন হারানোর খবর পাওয়ার পর থেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।
দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্সটাউনে আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন মেম্বারের ভাই রতনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জন নিহত হন।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতের প্রথম প্রহরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তদন্ত শুরু করে। নিহতদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকেরচরের ফাহিম সরকার, আপন আহমেদ, নুর মোহাম্মদ, তৈলখিরার চরের ফয়সাল, ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগরের শাহিন এবং মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার কালিন্দিপাড়ার রাজিক রয়েছেন। তারা সবাই দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাস জীবন কাটাচ্ছিলেন।
৫৫ বছর বয়সী নূর মোহাম্মদ দীর্ঘ আট বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। তার খালাতো ভাই আবুল জানান, আগুনে নিহতদের মরদেহ পুড়ে কঙ্কালসার হয়ে গেছে। নিহত শাহিনও তাদের স্বজন।
মাত্র ১৯ বছর বয়সী আপন পাঁচ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন বাবা আলী মিয়া। সকালে ফোনে তিনি এই দুঃসংবাদ পান। আপনের চাচা জানান, আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকানটি ছিল ভবনের নিচতলায়। আর নিহতরা দোকানের ওপরের দ্বিতীয় তলায় ঘুমিয়ে ছিলেন। দোকানের অন্যান্য কর্মীরা বাইরে থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যান।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিবার, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের দাবি, দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা।
এদিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক রতনের ভাই রওশন আলী ইউপি মেম্বার জানান, কোটি টাকার ক্ষতির চেয়েও তার কাছে বড় কষ্ট হলো—একসঙ্গে ছয়জন কর্মীকে হারানো। নিহতদের পরিবারের কাছে কী জবাব দেবেন, সেই আক্ষেপই এখন তাকে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজউদ্দিন বলেন, “দক্ষিণ আফ্রিকার অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজনের বাড়ি আলীরটেকে এবং একজনের বাড়ি বক্তাবলীতে।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করা হয়েছে। সরকারিভাবে যে সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানা যাবে।” নিহতের মরদেহ যাতে দ্রুত আনা যায় সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রবাসে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকে স্তব্ধ নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়ন। এখন স্বজনদের একটাই অপেক্ষা—প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষ বিদায় জানানোর।
