বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সাড়া দেশে এখন জঙ্গি আতংক। একের পর এক হচ্ছে জঙ্গি হামলা। প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি মহল এইসব জঙ্গি হামলা চালাতে সদা তৎপর। সরকার ও প্রশাসনও থেমে নেই এইসব জঙ্গি নিধনে। আজ ১লা জুলাই গুলশান হলি আর্টিজান বেকারীতে জঙ্গি হামলার এক বছর পূর্ন হলো। কিন্তু শেষ হয়নি এখনো তদন্ত। এদিকে তদন্তে হামলায় ২২ জন জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। যাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন ১৩ জন। এদের মধ্যে ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া দেওয়ান বাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭’ নামে অভিযান পরিচালনা করেন। এই অভিযানে নিহত হন আর্টিজান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী সহ তাওসিফ ও ফজলে রাব্বী নামে তিন জঙ্গী। পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে তামিমের লাশের পাশে পরে থাকতে দেখা যায় আব্দুল করিম বাবুর নামে লিখা ঈদ সামগ্রী বিতরণের একটি বস্তা। এই আব্দুল করিম বাবু হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কপোরেশনের ১৭ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা। বস্তার ভিতর ঈদ সামগ্রীর টোকেনগুলো এই আওয়ামীলীগ নেতা নিজের ঘনিষ্ট জনদের মাধ্যমে বিতরণ করেছেন বলে জানান এলাকাবাসী।
জঙ্গি আস্তানার বাড়ির মালিক নূর উদ্দিনের দেওয়া তথ্য মতে, মুরাদ ও রানা নামে একটি ঔষধ কোম্পানির চাকরিজীবী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয় জঙ্গিরা। বাড়ির তয় তলার উত্তর দিকের ফ্লাটে থাকতেন এই জঙ্গিরা। তিনি আরো জানান, ২০১৬ সালের জুলাই মাসের ৫ তারিখে আমি তাদের বাসা ভাড়া দেই।
আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল করিম বাবু ঈদ সামগ্রীগুলো বস্তায় ভরে স্থানীয় জনগনের মাঝে বিলি করেছেন। আর জঙ্গিরা ছিলেন বহিরাগত। অপরদিকে প্রশাসনের নিহত জঙ্গীরা যদি আব্দুল করিম বাবুর পূর্ব পরিচিত নাহতো তাহলে কেনই বা জঙ্গীদের বসবাসস্থল ফ্লাটে ঈদ সামগ্রীর বস্তা পাওয়া গেল এমন প্রশ্নই নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে ঘুর পাক খাচ্ছে। এদিকে ঘটনার ২৭ জুলাই রাত সাড়ে ১১ টায় পাইকপাড়া এলাকা থেকে সোহেল নামে এক শিবির কর্মীকে সদর থানা পুুলিশের হাতে তুলে দেন এই আওয়ামীলীগ নেতা বাবু। সচেতন মহলের মতে, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া জঙ্গি আস্তনার এলাকা থেকে কিভাবে আব্দুল করিম বাবু এই শিবির কর্মীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন। তাহলে কি তিনি আগেই থেকেই জানতেন এই এলাকায় জঙ্গিদের আস্তানা করা হয়েছে? পুলিশও রহস্যজনক কারনে বিষয়টি তদন্ত করেননি বলে তারা মনে করেন।
এই আওয়ামীলীগ নেতা মাউরা বাবু হিসেবে নারায়ণগঞ্জে বেশ পরিচিত। বিগত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন মাউরা বাবু ছিলেন বিএনপির ঘনিষ্ট লোক। হঠ্যাৎ কোন এক অদৃশ শক্তির বলে তিনি রাতারাতি হয়ে যান মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা। এখনো বাবুর বিশাল কর্মী বাহিনীর মধ্যে রয়েছে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী। তাদের নিয়ে পথ চলেন এই মাউরা বাবু।
নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জানান, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের এক দুপুরে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মাউরা বাবুর মা আমেনা বেগম। স্বাধীনতা পক্ষের বিরোধীতা করায় ওই সময়ে তাদের সাথে পাইকাপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের সাথে তেমন কোন সম্পর্ক ছিল না।
জঙ্গি আস্তনায় বস্তা পাওয়ার বিষয়টি তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে তদন্ত করে উদঘাটনের করার দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল।

