বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
গুলশান হামলার ঘটনায় নিহত শাওনের পরিবারে হাহাকার- ‘ছেলেকেও হারালাম, জঙ্গিবাদের অপবাদও পেলাম’ হোটেলে কাজ করতে গিয়ে জঙ্গীদের হামলার কারনে শাওনের মৃত্যু হওয়ায় সংসারে আয়-উপার্জনের কেউ রইল না। আমাদের এখন খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। গত এক বছরে আমাদের কেউ দেখতে আসেনি। খোঁজ খররও নেয়নি কেউ।’ কথাগুলো কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, গুলশান হামলায় নিহত হলি আর্টিজান বেকারীর শেফের সহকারী নিহত জাকির হোসেন শাওনের মা মাসুদা বেগম। শনিবার শাওন নিহতের ১বছর। শুক্রবার বাদ জুম্মা দক্ষিণ কমতলী জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। আজ আদমজী কবরস্থানে পরিবারের সদস্য কবর জিয়ারত করবেন।
শুক্রবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের কদতমলীস্থ তাদের ভাড়া বাসায় কথা হয় শাওনের পরিবারের সাথে। পরিবারটিতে এখন শুধুই হাহাকার চলছে। ভাড়া বাড়ীতে জলাবদ্ধার কারনে হাটু পানিতে মাড়িয়ে যেতে হয়। সেখানে কথা হয় শাওনের পিতা আবদুস ছাত্তার, মা মাসুদা, একমাত্র বোন সোনিয়া, ছোট দুই ভাই আব্দুল্লাহ ও আরাফাতের সাথে। আড়াই বছর আগে শিশু আব্দুল্লাহ যে বাড়ীতে কাজ করতে সেই বাড়ীর মালিক হলি আর্টিজান বেকারীর মালিক সাজ্জাদ মেহেদী বড় ভাই শাওনকে হলি আর্টিজান বেকরীতে বাবুর্চির সহকরীর কাজ দেয়। নারায়নগঞ্জ বন্দর থানার একরামপুর গ্রামের আবদুস ছাত্তার ছোট বেলা থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জে দিনমুজুরের কাজ করত। বর্তমানে পরিবার নিয়ে বাস করে সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলী এলকায়। ৪ সন্তানের মধ্যে নিহত জাকির হোসেন শাওন (১৭) ছিল সবার বড়। দিনমুজুর বাবা আর ফুটপাতে মায়ের পিঠা বিক্রিতে সংসার চলছিল না। সংসার খরচে বাবা-মাকে সাহায্য করতে শেফের সহকারী হিসেবে শাওন যোগ দেয় হলি আর্টিজান বেকারিতে। তার ইচ্ছা ছিল শেফ হওয়ার। কিন্তু শেফ হওয়া হয়নি তার। এর আগেই জঙ্গীদের হামলায় মিথ্যা জঙ্গীবাদের অপবাদ নিয়ে শাওনকে চলে যেতে হলো না ফেরার দেশে।
শাওনের মা মাসুদা বেগম জানায়, জঙ্গী হামলার পর আমরা শাওনের খুঁেজ পাচ্ছিলাম না। পরে সাংবাদিকের ক্যামেরায় ছবি দেখে হাসপাতালে গিয়ে শাওনকে পুলিশ পাহারায় পাই। হলি আর্টিজানের ষ্টাফরা তাদের জানিয়েছিল জঙ্গী হামলার পর শাওনসহ তারা দুতলার ছাদ বেয়ে পালাতে গিয়ে শাওন পুলিশের হাতে আটক হয়।
বাবা ছাত্তার জানায়, শাওন হাসপাতালে ৫দিন ছিল। চিকিতসা বলতে সালাইন লাগানো ছিল। আমাদের দেখে চিন্তে পারেনি ছেলে। দু এক বার চোখ মেলে তাকালেও শুধু বলেছে স্যার আমাকে আর মাইরেন না, আমি কিছু জানিনা। ছাত্তার অভিয়োগ করেন জঙ্গী সন্দেহে র্যাব পুলিশ শাওনকে মেরে ফেলেছে। শাওন জঙ্গি দলের সদস্য নয়, তা নিশ্চিত হয়ে লাশ আমাদের কাছে হন্তান্তর করে পুলিশ। আমার নিরাপরাধ ছেলের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী সেই প্রশাসনের কেউ একবারও আমাদের খোঁজ নিল না। আজ ১ বছর আমার সন্তান নাই। ১লা জুলাই হলি আর্টিজানে শ্রদ্ধা জানাতে আমরাও যাই। সেখানে শুধু মিডিয়াই আমাদের সাথে কথা বলে।
দুর্ভাগ্যের শিকার শাওনের পরিবারের কান্না থামেনি গত এক বছরেও। এখনো পরিবারে চলছে শোকের মাতম। চলছে হাহাকার। স্বজনরা বলছে, ‘ভুলের’ কারণে জঙ্গির অপবাদ নিয়ে মরতে হয়েছে শাওনকে। জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হলেও পরিবার পায়নি কোনো সাহায্য। এমনকি সহমর্মিতা জানাতেও আসেনি কেউ। জঙ্গীর অপবাদ মুছে পরিবারটিকে সহযোগিতা করতে আবেদন করেছে নিহত শাওনের বাবা-মা।
