বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
কাঁঠাল আমার খুবই প্রিয় একটি ফল, প্রতিবছর নিজের হাতে কিনি(কোন কোন সময় হয়তো গিফট পাই), ভাঙ্গি খাই, তৃপ্ত হই এবং পরের বছরের অপেক্ষায় থাকি। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে কোন বছর কাঁঠাল খাওয়া মিস হয়নাই, অর্থাৎ পরম করুনাময় আল্লাহর কৃপায় প্রতিবছরই কোন না কোন উছিলায় কাঁঠাল রিজিক-এ ছিল। এবছর ছিল সবচেয়ে ব্যাতিক্রম, আমি অভিমান করে কাঁঠাল কিনি নাই, ভাবলাম আমি যাদের জন্য জীবনের সবকিছু বিলিয়ে দিচ্ছি, তারাতো(আমার স্ত্রী পুত্র) আমার জন্য মনে করে একটা কাঁঠাল কিনে আনতে পারে, বলা বাহুল্য আমার পরিবারে একমাত্র আমিই কাঁঠাল পছন্দ করি, বাকিদের কাঠালের কোয়ার বিচি ছাড়িয়ে মুখে তুলে দিলে তবেই তারা খায় এবং প্রতিবার আমার তাই করতে হয়। যাই হোক আমি আমার অভিমান করে থাকলাম, এবং এক পর্যায়ে নিজের অভিমানের কথা প্রকাশ করলাম। এদিকে কাঠালের সিজন চলে যাচ্ছে দেখে আমি আক্ষেপের সাথে বলেই বসলাম, এই বছর বাংলাদেশের কোন গাছে আমার জন্য কোন কাঁঠাল ধরে নাই। এই কথা শুনে আমার ছোট্ট ছেলে বাজারে কাঁঠাল কিনতে গিয়ে ব্যার্থ হয়ে ফিরে এল। আমি আরো নিশ্চিত হলাম যাক এইবার আমার আর কাঁঠাল খাওয়া হলনা। কারন আমি পন করেছি নিজে এবার আর কাঁঠাল কিনবোনা। এর মধ্যে অবশ্য একদিন আমার অফিসের এক কলিগের রুমে একটা কাঁঠাল দেখে খেতে মন চাইছিল, কিন্তু বলিনি। তাঁর পরদিন তাঁর রুমে গিয়েছিলাম একটা কাজে, গিয়ে দেখি দুইটা বাটিতে কাঁঠালের কোয়া ভর্তি, দুষ্টামি করে বললাম ভাই একটা কিন্তু আমার চাই, আমার বন্ধুবর কলিগ হাসতে হাসতে বললেন, ” এগুলা আমার বউয়ের জন্য, বুঝলেন আপনার ভাবি কাঁঠাল খুব পছন্দ করে” সেই যাত্রায়ও আমার কাঁঠাল খাওয়া হলনা।
এইতো গত কয়েকদিন আগে পরিবার নিয়ে রাজেন্দ্রপুর ব্রাক সিডিএম এবং সাফারি পার্কে গিয়েছিলাম। সাফারি পার্কে যাওয়ার সময় আমার চোখ পড়ল রাস্তার পাশের একটা বাড়ির উঠানে বসে এক গ্রাম্য রমনি কাঁঠাল ভাঙ্গছে, দেখে মনে হল যদি একটু খেতে পারতাম! যেই ভাবা সেই কাজ, ড্রাইভারকে বললাম যাও গিয়ে বল তোমার স্যার কাঁঠাল খেতে ছেয়েছে, যথারীতি ড্রাইভার গিয়ে ব্যার্থ মনোরথে ফেরত এলো। কি ব্যাপার জানতে চাইতেই জানাল, স্যার ঐ কাঁঠালটা ওরা ওদের গরুকে খাওয়ানোর জন্য ভেঙ্গেছে, তাই খাওয়াতে পারবেনা। হায়রে দুনিয়া, গরুর ভাগ্যেও কাঁঠাল আছে কিন্তু আমার জন্য নাই। যাই হোক ড্রাইভার গাড়িতে উঠতে যাবে এমন সময় একজন কালো মতন ছোট খাট মানুষ এসে জিজ্ঞেস করলো “কাঁঠাল কে খাইতে চাইছে?” আমি গাড়ির ভেতর থেকে বললাম “আমি, আমি খেতে চেয়েছি” “ও স্যার আপনে খাইতে চাইছেন?, আসেন বাসায় আসেন” আমি নেমে তাঁর বাসায় গেলাম, আমার সাথে আমার পরিবারের সবাই পিছু নিল, ঘটনা কি দেখার জন্য, তাঁর পরের ঘটনা ভাষায় প্রকাশ করার মত না, সেই সাধারন মানুষটি একটি অসাধারণ কাজ করলেন। তিনি নিজে একটি কাঁঠাল এনে আমার সামনে মাটিতে রেখে বললেন “স্যার নেন মন ভইরা খান” আমি আমার আবেগ নিয়ন্ত্রন করে কাঁঠাল খেতে লাগলাম, আর সাথে আমার স্ত্রী পুত্র, ড্রাইভার ও। কিন্তু কাঁঠাল খেতে খেতে অগনিতবার শুধু আল্লাহর দরবারে শুকর গোজার করছিলাম এই ভেবে যে, আল্লাহ অসীম দয়ালু, এবং করুনাময়, আমি, আমরা হয়তো আল্লাহকে ভুলে যাই, কিন্তু তিনি আমাদের সর্বদা মনে রাখেন, এবং আমাদের মনবাসনা পুরন করেন। মহান আল্লাহ্ পাক রিজিকে যা রেখেছেন তা যেকোন উছিলায়ই হোকনা কেন আমাদের ভাগ্যে থাকলে আমাদের নিকটে আসবেই বা আমরা কোন না কোন উছিলায় সেই স্থান, কালে বা বস্তুর সন্নিকটে চলে যাব। সেই অতিসাধারন মানুষটিকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করার সাহস আমার নাই, কারন আমার মনে হয়েছে এ যেন দয়ালু ঈশ্বর নিজে সেই সাধারন মানুষ রূপে তাঁর রহমতের ভান্ডার নিয়ে আমার মনের অতৃপ্ত বাসনা নিবারনের জন্য হাজির হয়েছেন। শুকর্ আলহামদুলিল্লাহ…আমিন
