বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
এবার নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন চক্রান্ত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল স্কুলটির সুনাম নষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছে। ভূয়া ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে বলে দাবী করেছেন স্কুলটির প্রধান শিক্ষক কমল কান্তি সাহা। “নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলে কোচিং এর টাকা স্কুলে জমা হয় না” এ ধরণের প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১২ সালে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সকল বিদ্যালয়ে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত ক্লাশ নেয়ার বিধান চালু করে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সে নির্দেশনা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলে পঞ্চম, অষ্টম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ক্লাশের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাশ নেয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রনালয় জেলা শহরগুলোতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য প্রতি বিষয়ের অতিরিক্ত ক্লাশের জন্য প্রতি মাসে দুইশত টাকা নির্ধারণ করে দেয়। নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলে পঞ্চম শেণীতে ছয়টি, অষ্টম ও দশম শ্রেণীতে দশটি বিষয়ে অতিরিক্ত ক্লাশ নেয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রনালয় অতিরিক্ত ক্লাশের জন্য প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ বারোশত টাকা আদায়ের নির্শেনা দিলেও নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে এর অর্ধেক অর্থাৎ মাত্র ছয়শত টাকা নিয়ে থাকে। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত ক্লাশের টাকা পূবালী ব্যাংকের কালির বাজার শাখায় এবং রূপালী ব্যাংকের এস কে রোড শাখায় স্কুলের একাউন্টে জমা করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী এ টাকার শতকরা দশ শতাংশ বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা এবং নিয়য়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে শিক্ষকদের মধ্যে বন্টন করা হয়। অবশিষ্ট টাকা ব্যাংকের একাউন্টে জমা আছে। উল্লেখ্য, অতিরিক্ত ক্লাশে অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী কোন প্রকার টিউশন ফি ছাড়াই (ফুল ফ্রি) ক্লাশ করছে। পূবালী ও রূপালী ব্যাংকের হিসাবটি স্কুলের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এবং অধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালনা করা হয়। এখান থেকে অধ্যক্ষ বা পরিচালনা পরিষদের কোন সদস্যের পক্ষে কোন প্রকাশ অর্থ উত্তোলন বা ব্যয় করার কোন সুযোগ নেই। প্রতিটি টাকার স্বচ্ছ হিসাব স্কুলে রয়েছে। স্কুলের অন্য কোন খাতে এ টাকা খরচ করার কোন অবকাশ নেই। আরো উল্লেখ্য যে, যেহেতু অতিরিক্ত ক্লাশের ফি বিদ্যালয়ের অন্য একটি পৃথক একাউন্টে জমা থাকে সেহেতু বিদ্যালয়ের প্রচলিত রশিদের বাইরে অন্য একটি রশিদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফি আদায় করা হয়ে থাকে।
প্রধান শিক্ষক কমল কান্তি সাহা দাবী করেন, প্রকাশিত সংবাদে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যেভাবে অর্থ আদায়ের বর্ণনা দেয়া হয়েছে তা মোটেও সত্য নয়। উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে এ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। যা স্কুলের সুনাম ক্ষুন্ন করেছে। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের পরিচালনা পরিষদসহ সকল শিক্ষক সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম থেকে শুরু করে সকল কাজ পরিচালনা করছে। এ ব্যাপারে কোন প্রকার অনিয়ম ও অনৈতিক কাজ হচ্ছে না বলে আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল এই শহরের একটি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি ও অভিভাবকদের মধ্যে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বিগত দশ বছর আগে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের কি অবস্থা ছিল এবং বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে কোন অবস্থায় উন্নীত হয়েছে তা সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ অবগত আছেন। এতে খুব সহজেই প্রমানিত হয় যে, একটি মহল হিংসাত্বক মনোভাব নিয়ে স্কুলটির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
