বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজামের জন্মদিন আজ। ৩ অক্টোবর ১৯৭২ সালের এই দিনে মুন্সিগঞ্জ জেলায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে জন্মগ্রহন করেন তিনি। তার পরিবারের প্রায়ই ১২ জনই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তারা বাবা শাহ নূর উদ্দিন মুন্সিগঞ্জ জেলার শীলই ইউনিয়ন পরিষদের ৭ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তার বাবা। পরিবার থেকে মুক্তিযোদ্ধের চেতনা ও বাবার কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আসেন শাহ নিজাম। নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক পাটের ব্যবসা ও নিজেদের বাড়ি থাকায় বার একাডেমী স্কুলে লেখাপড়া শুরু করেন তিনি। তখন থেকেই বর্তমান সময়ের আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা সাংসদ একে এম শামীম ওসমানকে দেখে তার রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা জাগে।আর তার থেকেই শুরু হয় তার রাজনৈতিক পথ চলা। ১৯৮৫ সালে নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমী স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন জেলা ছাত্রলীগের সর্বকনিষ্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। তখন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ছিল (সু-র)। সেখান থেকেই শুরু হয় তার ছাত্র রাজনীতি। ১৯৮৬ সালে এসএসসি পাশ করার পর তোলারাম কলেজে এইচএসসি তে ভর্তি হয় নিজাম। সহযোদ্ধাদের অনুরোধে তোলারাম কলেজ সংসদ নির্বাচনে সমাজকল্যান সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন তিনি। দলীয় সকল কর্মসূচিতে ভূমিকা ও তার মেধা দেখে সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন ছাত্রলীগের তৃনমূল। এরপর ১৯৮৮ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হন এই শাহ্ নিজাম।যুুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে তিনি মহানগর আওয়ীমীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
দীর্ঘ ৩৪ বছরের রাজনৈতিক জীবনে একবারের জন্য হলেও জননেতা শামীম ওসমান কাছ থেকে পিছু হটেন নি এই শাহ নিজাম। শামীম ওসমানের দিক নির্দেশনায় আজও দলের নেতাকর্মীদের সু সংগঠিত করতে কাজ করছেন তিনি। তাইতো সাংসদ শামীম ওসমানের আস্তাভাজন সেনাপতি হিসেবে বেশ পরিচিত তিনি।
বিগত ২০০১ সালে বিএনপি জামাত ক্ষমতায় আসার পর কোনঠাসা হয়ে পরে আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সহ অঙ্গ সংগঠন। দলের দুঃসময়ে রাজপথ ছাড়েনি শাহ নিজাম। জনগনের অধিকার আদায়ে আন্দোলনের ডাক দেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ডাকে সারা দিয়ে ঢাকায় দলীয় ও জাতীয় সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন এই নেতা। ওইসময় বর্তমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ও তার দিক নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জের ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে সু-সংগঠিত করে ঢাকার রাজপথ প্রকম্পিত করেন শাহ নিজাম। তার নেতৃ্ত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকার সকল কর্মসূচিতে ভূমিকা রাখতো সেইসময়।
ছাত্রজীবনে শুধু রাজনীতিতে নয় এক সময় তুখোড় ক্রিকেটার হিসেবেও নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় বিভিন্ন ক্লাবে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন এই নেতা। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও নিজেকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন তিনি। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে গড়ে তুলেছেন বায়ান্ন নামে একটি ব্যান্ড। ‘এ কেমন বর্বরতা’ নামে একটি গান তার লেখা ও পরিকল্পনায় রচিত হয়। সম্প্রতি বিএনপি-জামাত জোটের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের বিরুদ্ধে সেই গানটি বিটিভিতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঞ্চালনায় পরিবেশন হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে নিয়ে ‘ধন্য পিতা’ নামে আরেকটি গান পরিবেশন করেন। এই গানটি ইউটিউবে ব্যাপক ঝড় তুলে।
বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নারায়ণগঞ্জে ইতিহাস করে রাখতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এর মাথায় ‘ধন্য পিতার ধন্য মেয়ে’ নামে একটি স্থাপনা তৈরি করেন তিনি। বর্তমানে এই স্থাপনাটি আজকের নারায়ণগঞ্জকে ভিন্নভাবে বাংলাদেশে পরিচিতি লাভ করিয়েছে। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সাইন বোর্ড এলাকাটি ‘ধন্য পিতার ধন্য মেয়ে’র স্থাপনা হিসেবে পরিচিত লাভ করতে শুরু করেছে।
এত ব্যস্ততার মাঝেও নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেন তিনি। ১৯৯৪ সালে টেকনো প্রিন্টার্স নামে একটি প্রিন্টিং ব্যবসা করেন নিজাম। এরপর ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজনীতি আর ব্যবসা তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।
রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীক জীবনের বাইরেও তিনি একজন সফল প্রেমিক পুরুষ। তাইতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তুলির প্রেমে পড়েন তিনি। আর তাকে ভালবেসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন নিজাম। তার স্ত্রী তুলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্নালিজম নিয়ে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছেে। অতন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিলেন তিনি। বর্তমানে সে একটি টিভি চ্যানেলের সংবাদ উপস্থাপিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বৈবাহিক সুখি জীবনে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। নাম তার জাওয়াদ। বর্তমানে তার ছেলে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে লেখাপড়া করছে।
শাহ নিজাম সব সময় স্বপ্ন দেখতেন ভিন্ন কিছু করার। ভাবতেন জনগনের দুঃখ কস্টের কথা। একসময় খান সাহেব ওসমান আলী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পূর্বপাশে ছিল ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। যার দুর্গন্ধে মানুষের চলাচল করতে উঠতো দীর্ঘ নাভিশ্বাস। এছাড়া সেখান ঘটতো ছিনতাই, হত্যা ও ধর্ষণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। জনগনের কস্ট লাঘোবে স্বপ্ন দেখেন ময়লা স্তূপে ফুল ফোটানোর। তারই ধারবাহিকতায় দীর্ঘ ১৬ মাসের কঠোর পরিশ্রমে সেই জায়গার চেহারা পাল্টে দিয়েছেন শাহ নিজাম। ময়লার-আবর্জনার স্তুপে গড়ে তোলেন একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন পার্ক। বর্তমানে সেই দুর্গন্ধ ও অপরাধের জায়গা এখন নিরাপদ বিনোদন পার্কে পরিনত। যা নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুঁড়িয়েছে।

