বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নির্বাচন নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নাই। আমার মায়ের নির্দেশে আমি নির্বাচন করেছি। আমি নারায়ণগঞ্জের মানুষের গোলামী করতে এসেছি। খান সাহেব ওসমান আলী, শামসুজ্জোহা ও নাসিম ওসমানের স্বপ্ন গুলো বাস্তবায়ন করতে এসেছি। সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই আমি অসহায় মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছি। কেউ যদি মনে করেন আমি এগুলো ভোটের জন্য করি তাহলে আমি বলবো আপনারা ভুল ভাবছেন। আমি মনে করি মানুষ মানুষের জন্য এবং এটাই আমাদের দায়িত্ব হওয়া উচিত।
শনিবার ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থিত পালকি কমিউনিটি সেন্টারে শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকার আওতাধীন সিটি কর্পোরেশনের ১৭টি ওয়ার্ড ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৭৪টি পূজা মন্ডবে আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করেছেন। প্রতিটি মন্ডবে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক হিন্দু নেতৃবৃন্দের হাতে তুলে দিয়েছেন। এছাড়াও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নতুন পালপাড়া সার্বজনীন দূর্গা পূজা মন্ডরে উন্নয়নের জন্য আরো ১০ লাখ টাকার চেক মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের হাতে তুলে দিয়েছেন এমপি সেলিম ওসমার।
তিনি বলেন, আমি আমার কোন ব্যানার পোষ্টার লাগাই না। অনেকে আছেন ব্যানার পোষ্টার লাগায়। উনারা করেন কন্ট্রাকটরি আবার ব্যানার পোষ্টার লাগান এমপি হওয়ার জন্য। উনারা যদি এমপি হয়ে যান তাহলে কন্ট্রাকটরিটা করবে কে? নারায়ণগঞ্জের একজনের হাতে এই মুহুর্তে ২৪টা কন্ট্রাকটরি এখন। উনিও বড় বড় ব্যানার পোষ্টার লাগিয়েছেন। মনে রাখবেন সময় মত বোয়ালের ডিমটা কিন্তু বোয়ালেই ভাঙ্গায়। এতো লম্ফ জম্ফ করার কিছু নাই। আসেন একটু ধৈর্য্য ধরি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দিবেন আমরা সবাই তাকেই জয়ী করবো। আমাদের উচিত ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে আবারো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানানো। আমাদের উন্নয়ন আরো বাকি রয়েছে। এখনো অনেক সময় বাকী আছে। কাজ করতে অসুবিধা কোথায়? সময় হলে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিবেন। যাকেই মনোনয়ন দিবেন আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। উনি যদি আমাকে নির্বাচন করতে বলেন তাহলে খোকন সাহাও আমার নির্বাচন করবেন এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই।
হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই শহরের নামটা এখনো নারায়ণগঞ্জ। নদীটার নাম শীতলক্ষ্যা। ইস্ট ইন্ডিয়ার কাছ থেকে লক্ষ্মী নারায়ণ বাবু নারায়ণগঞ্জকে কিনে নিয়ে ছিলেন। তারপর এটা মহকুমা হয়েছে সেই থেকে নারায়ণগঞ্জ কিন্তু নারায়ণগঞ্জই রয়ে গেছে। অতত্রব এই শহর আপনাদের। নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের নাম আমি আরপি সাহা মেডিকেল করার জন্য নাম প্রস্তাব করেছি। আগামী ১৩ অক্টোবর লাঙ্গলবন্দ তীর্থস্থানের নতুন ৫টি ঘাট নির্মাণের কাজ শুরু হবে। আমি এটাকে সম্পূর্ণ একটি তীর্থস্থানের রূপ দেওয়ার প্রকল্প মন্ত্রনালয়ে জমা দিয়েছি। আপনারা সবাই আমাকে সহযোগীতা করুন।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর পরিচালক প্রবীর কুমার সাহার সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় আরো অংশ নিয়েছেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলী, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, হিন্দু বৌদ্ধ খিস্ট্রান ঐক্য পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি কমান্ডার গোপি নাথ দাস, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম.এ রশিদ, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, ১৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি রবিউল হোসেন বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, মেট্রো গার্মেন্টের স্বত্তাধিকারী অমল পোদ্দার, ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদযাপন পরিষদের সভাপতি আহবায়ক সরজ কুমার সাহা, হিন্দু ধর্মীয় ট্রাস্টি পরিতোষ কান্তি সাহা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি শংকর কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুজন সাহা, মহানগর কমিটির সভাপতি দিপক কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার, রিপন ভাওয়াল, বিশ্বজিত দাস, সুশীল রায়, উত্তর কুমার সাহা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।
উল্লেখ্য ২০১৪ সালে উপনির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকে এমপি সেলিম ওসমান হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দূর্গা উৎসবে ২০১৪ সালে ৫৫টি পূজা মন্ডবে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫লাখ ৫০হাজার টাকা, ২০১৫ সালে ৬৩টি পূজা মন্ডবের প্রতিটিতে ১৫হাজার টাকা করে মোট ৯লাখ ৪৫হাজার টাকা, ২০১৬ সালে ৬০টি পূজা মন্ডের প্রতিটিতে ২০ হাজার টাকা করে মোট ১২লাখ টাকা, ২০১৭ সালে ৬৪টি পূজা মন্ডের প্রতিটিতে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ১৬লাখ টাকা দিয়ে সহযোগীতা করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালেও ৭৪টি পূজা মন্ডবের প্রতিটিতে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ১৮লাখ ৫০হাজার টাকা দিয়ে সহযোগীতা প্রদান করা হয়েছে। গত ৪ বছরে পূজা মন্ডব গুলো মোট আর্থিক সহযোগীতার পরিমান ৬১লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
