বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
অবশেষে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে শহরের অন্যতম বৃহৎ নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট যাত্রী পারাপারে টোল ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে সেলিম ওসমান পহেলা মার্চ থেকে ঘাট টোল ফ্রি করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও রোববার ২৬ ফেব্রুয়ারী সকালে নবীগঞ্জ খেয়াঘাটের মাঝি ও এলাকাবাসীর সাথে আলোচনার মধ্য দিয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ঘাটটি টোল ফ্রি কার্যকর করেন। এ সময় আলোচনা সভায় উপস্থিত সকলেই তার এমন উদ্যোগে উল্লাস প্রকাশ করেন।
এরআগে শনিবার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যার্টায়ার্স লিমিটেড এর কার্যালয়ের ঘাটের ইজারাদারদের সাথে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন সেলিম ওসমান। রোববার সকালে ঘাটে চলাচলকারী মাঝি ও এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা করে ঘাটের টোল ফ্রি কার্যকর করেন। এদিকে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে কিছু নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন তিনি। তিনি মাঝিদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ রেখেছেন যাতে করে খেয়া পারাপারে যাত্রীদের কোন প্রকার হয়রানীর শিকার হতে না হয়। এক্ষেত্রে ঘাটের মাঝিরা যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২টাকা এবং রিজার্ভের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা ভাড়া আদায় করতে পারবে। ঘাটে যাত্রীদের উঠা নামার সুব্যবস্থা রাখতে মাঝিরাই তাদের নিজ উদ্যোগে ঘাটের জেটি মেরামতের কাজ করবে।
এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা সভায় সেলিম ওসমান বলেছেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও আমার দৃষ্টিতে বন্দরের মানুষ পরাধীন জীবন যাপন করে আসছিলো। একটি স্বাধীন দেশে যেখানে নদীর উপর সেতু দেওয়া হয়না সেখানে সাধারণ মানুষকে টোল দিয়ে নদী পারাপার হতে হয়। এটা কোন অবস্থায় মেনে নেওয়ার মত নয়। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করবো সরকারীভাবে নবীগঞ্জ খেয়াঘাট ও বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটটি টোল ফ্রি করে দেওয়ার জন্য। সরকার যদি না দেয় তাহলে আমি যতদিন বেঁচে আছি ততদিন বন্দরের মানুষের সেবা করে যাবো।
নবীগঞ্জ খেয়াঘাটটি টোল ফ্রি করে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, কিছু দিন পূর্বে রাত ১২ টার দিকে পত্রিকায় দেখি নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে ইজারাদারদের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। দেখে সারা রাত আমি ঘুমাতে পারিনি। পরদিন ভোর হতেই নিজেই ঘাটে চলে এসে যাত্রী ও মাঝিদের সাথে কথা বলি। দেখলাম নিউজ আর বাস্তবে মিল। কি করা যায় চিন্তা করলাম। আর আমার দুটি সন্তান কাউন্সিলর আফজাল হোসেন ও দুলাল প্রধান আমাকে জ্বালাতে থাকে ঘাটটি টোল আদায় ফ্রি করতে। অনলাইনের নিউজ আমাকে সরজমিনে আসতে বাধ্য করে আর আফজাল ও দুলাল প্রধান নবীগঞ্জ খেয়াঘট টোল আদায় বন্ধ পূর্বক ঘাট দিয়ে চলাচল ফ্রি করালো। আমার কাছ থেকে আদায় করে নিল। নিজের জন্য নয় জনগনের জন্য তাদের দাবী ছিল। একেই বলে জনপ্রতিনিধি।
তিনি বলেন, সাংবাদিক ভাইয়েরা যদি আমাদেরকে এমন সমস্যার কথা সঠিক তথ্য সহ তুলে সহযোগীতা করেন তাহলে আমাদের কাছ করতে অনেক সুবিধা হয়। কিন্তু যদি কেউ ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে সেক্ষেত্রে সবার মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের ও বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, মহানগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ন কবির মৃধা, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, ২৩ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ, ধামগড় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, ফারুক প্রধান, ২৪ নং ওর্য়াড ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহম্মেদ সুজন প্রমুখ।
এর আগে ২৩ ফেব্রুয়ারী নবীগঞ্জে অবস্থিত কদম রসুল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আগামী মার্চ মাসের প্রথমদিন থেকে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের মত নবীগঞ্জ খেয়াঘাটটিও জনসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সম্পূর্ন টোল ফ্রি করে দেওয়ার আশা প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
উল্লেখ্য, সেলিম ওসমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাধারণের জন্য বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটটি সম্পূর্ন টোল ফ্রি করে দিয়েছেন যা এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। প্রতিমাসে সরকারী ইজারা ও ঘাট পরিচালনা বাবদ তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সাড়ে ৯লাখ ব্যয় করে আসছেন সেলিম ওসমান।

