বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বুধবার বিকাল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে রি-রোলিং মিলস্ শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জামাল হোসেন এর সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি এম.এ. মিল্টন, রি-রোলিং মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস.এম. কাদির।
নেতৃবৃন্দ বলেন, রি-রোলিং ও স্টিল মিলস্ শ্রমিকরা খুবই বিজজ্জনক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন। কিন্তু এখানে শ্রম আইনের কোন বাস্তবায়ন নেই। শ্রম আইনের ৫ ধারায় প্রত্যেক কারখানায় পরিচয়পত্র, নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রি-রোলিং স্টিল মিলে শ্রমিকদের তা দেয়া হয় না। মালিকরা যখন তখন শ্রমিক ছাঁটাই করে। শ্রমিক কাজ করার পর ছাঁটাই হলে নিয়োগপত্র পরিচয়পত্রের অভাবে শ্রম আইনের আশ্রয় নিতে পারে না। তার আইনানুগ প্রাপ্য পাওনা থেকে মালিক তাকে বঞ্চিত করে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শ্রমিকরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। একই সমস্যার কারনে তারা চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের নামমাত্র মজুরী দেয়া হয়। কিন্তু শ্রমিকরা এর কোন প্রতিবাদ করতে পারে না। প্রতিবাদ করলেই চলে ছাঁটাই নির্যাতন। শ্রমিকদের এই বর্বরোচিত বঞ্চনা ও অত্যাচার থেকে রক্ষার জন্য প্রশাসন, শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমেই প্রশাসনকে দাবি কার্যকর করতে বাধ্য করা যাবে এবং শ্রমিকরা তার অধিকার আদায় করতে পারবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন- ২০০৭ সালে বাতিল হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬(২) ধারায় শ্রমিক ফ্রন্ট নেতা সৌমিত্র কুমার দাস, আহম্মেদ জীবনসহ শ্রমিক নেতাদের এক মাস যাবৎ কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। খেয়াল রাখা দরকার দমন-পীড়ন চালিয়ে অতীতেও কখনও বেশিদিন কন্ঠরোধ করে রাখা যায় নি এবারও সেটা সম্ভব হবে না। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে কারারুদ্ধ শ্রমিক নেতাদের মুক্তির দাবী জানান, তা না হলে সারাদেশে গার্মেন্টস সেক্টরে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে।

