বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০১৬ তে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জয়ী করায় নারায়ণগঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ জানিছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সহযোগিতার জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। আইভীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীকেও ধন্যবাদ জানান।
সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানাই। কারণ তারা সবাই তো আমার নির্দেশ চায়। আমার একটা নির্দেশ ছিল যে, নির্বাচন হতে হবে শান্তিপূর্ণ অবাধ নিরপেক্ষ। সাধারণ মানুষ যেন ভোটটা সঠিকভাবে দিতে পারে। আমার বিশ্বাস ও আস্থা ছিল জনগণের প্রতি বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের ভোটরদের প্রতি, যে তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। আইভীকে ভোট দেবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে আমি একটা কথা বলব, আজকে তারা কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছে না। কী বলবে, মানে কোথায় কী আছে। আবার দেখলাম জুডিশিয়াল ইনকোয়ারিও চাচ্ছে। মানে যখন কিছু না পায় তখন তো একটা কিছু বলতে হবে। এখানে আমার একটা প্রশ্ন, সেটা হলো- বিএনপির জন্মটাই হচ্ছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে। তাদের ইতিহাসই হলো নির্বাচনে ভোট কারচুপির।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে ক্ষমতাটা জিয়াউর রহমান দখল করেছিল সংবিধান লংঘন করে, মার্শাল ল জারি করে। সেনাপ্রধান থেকেও সে নিজেকে, অস্ত্র ঠেকিয়ে, তখন সায়েম সাহেব ছিলেন রাষ্ট্রপতি, সেই বঙ্গভবনে গিয়ে সায়েম সাহেবকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিয়াকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দিতে বাধ্য করেছিল। এভাবে যে রাষ্ট্রপতি হলো অবৈধভাবে। ক্ষমতায় এসে হ্যাঁ-না ভোট।
তিনি বলেন, ’৭৮ সালে তারা দিল হ্যাঁ-না ভোট। এরপর ’৭৯ সালে এসে হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। শতভাগের ওপর ভোট চলে গেল। যত ভোটার তার চেয়ে বেশি ভোট পেয়ে তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নমুনা দেখাল! কারচুরি নমুনাটা কোথা থেকে শুরু হলো! তারপর এলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সে নির্বাচনও ছিল একবারে ছকবাঁধা নির্বাচন! আওয়ামী লীগকে কয়টা সিট দেবে সেভাবে কারচুপি করে নির্বাচন!’
কারচুপি, ভোট চুরি এবং ইলেকশন ম্যানুপুলেশনের মধ্য দিয়ে বিএনপির যাত্রা শুরু বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখছি ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাদের নির্বাচন, তার পূর্বে মাগুরা নির্বাচন। মাগুরা নির্বাচনের কথা নিশ্চয়ই কেউ ভুলে যায়নি। একেবারে জোর করে ভোট কারচুপি করে তারা আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারালো। রি-ইলেকশন হলো মিরপুরে। মিরপুরে সেই সময়ে বোমাবাজি করে ভোটারদের না যেতে দিয়ে নির্বাচনের রেজাল্ট পাল্টে দিলো। ঢাকায় তেজগাঁয়ে যে নির্বাচন হলো, মিরপুরে খালেককে যেভাবে জেতালো ঠিক সেভাবে ফালুকেও। ফালুকে জেতানোর জন্য কোনো ভোটার তো ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেনি। বাসে করে একেক দল নিয়ে গেছে। তারা সিল মেরে এক সেন্টার থেকে আরেক পোলিং সেন্টারে গেছে সিল মারতে। তারপর ঘোষণা দিয়েছে। কোনো প্রার্থীর এজেন্টও থাকতে দেয়নি।’
দেশের সম্পদ বিক্রির মুচলেকা দিয়ে অন্যের সহযোগিতা নিয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি- এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘তারা ক্ষমতায় এসে জামায়াতের দুজনকে মন্ত্রী বানায়। খালেদা জিয়া যাদের মন্ত্রী বানালেন তারা হলেন যুদ্ধাপরাধী। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তাদের বিচার হয়েছে। জাতির কাছে এরা মুখ দেখায় কীভাবে, এটাই আমার প্রশ্ন।’
বিএনপির বিভিন্ন দুর্নীতি ও নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তারা ক্ষমতায় এলে উন্নয়নগুলো স্থবির করে শুধু নিজেদের উন্নয়ন করে, চুরি করে, দুর্নীতি করে, মানুষ খুন করে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদেকে উস্কে দেয়। আবার বিরোধী দলে থাকলে আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারে। এদের ভোট চাওয়ার কি অধিকার আছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা কেন হবে না- এমন প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
নাসিক নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান সরকারের অধীনে প্রতিটা নির্বাচনই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যাকে ভোট দিয়েছে তারাই জয়ী হয়েছে। বিএনপি তো ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল। আওয়ামী লীগের আমলে যদি ভোট কারচুপি হয় তাহলে ৫টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে তারা জয়ী হলো কীভাবে। জনগণ যে রায় দিয়েছে সেটাই আমরা মেনে নিয়েছি। কাজেই তারা এত দিন যে অভিযোগ করে আসছিল, সেই অভিযোগের একটা উপযুক্ত জবাব নারায়ণগঞ্জবাসী দিয়েছে।
আইভীর দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সারাদেশের উন্নয়ন করছি। এখানে কোনো দাবিও করা লাগবে না, বলাও লাগবে না। উন্নয়ন যাতে আরো ভালোভাবে হয় আমরা সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। আইভী যে ব্রিজের কথা বলেছে ওটাও প্রক্রিয়াধীন আছে। আইভী নির্বাচিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের ধারা থাকবে। আমি মনে করি আইভীর জয়ে নারায়ণগঞ্জের জন্য একটা ভালো হলো। উন্নয়নের কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে আরো উন্নতি হবে।
