বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ আলোচিত ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহা হত্যা মামলায় পিন্টুকে ফাঁসি ও রত্নাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। এ মামলার অপর আসামী আব্দুল্লাহ আল মামুন মোল্লাকে খালাস দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক উম্মে সরাবর তহুরা এ রায় প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান।
এ মামলার রায়ে পিন্টু ও রত্নাকে আরো সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে ছয় মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন আদালত।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী পিন্টু দেবনাথ কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানার চন্দনপুর গ্রামের সতীশ দেবনাথের ছেলে। যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আসামী রত্না রানী চক্রবর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা মাসদাইর এলাকার রঞ্জন চক্রবর্তীর স্ত্রী। খালাস পাওয়া আসামী আব্দুল্লাহ আল মামুন মোল্লা নারায়ণগঞ্জের আমলাপাড়া এলাকার মৃত মহসিন মোল্লার ছেলে।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহাকে ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের কোন এক সময় হত্যা করা হয়। ২০১৮ সালের ১৬ জুলাই স্বপনের বড় ভাই অজিত সাহা বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় পিন্টু দেবনাথম, রত্না রানী চক্রবর্তী ও আব্দুল্লাহ আল মামুন মোল্লাকে আসামী করা হয়। পরে ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠান।
আসাদুজ্জামান আরো জানান, এ মামলায় পুলিশের তদন্ত ও স্বাক্ষী প্রমানের ভিত্তিতে পিন্টুকে মৃত্যুদন্ডাদেশ ও রত্নাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেয় আদালত। সেই সাথে অপর আসামী মামুনকে এই মামলায় খালাস দিয়েছে আদালত।
নিহত স্বপনের বড় ভাই অজিত সাহা জানান, ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর বিকেলে নিতাইগঞ্জের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে আমার ভাই নিখোঁজ হয় । পরে তাকে খোঁজাখোজি করে না পেয়ে দুই পর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। এরপর তার দুই বছর সন্ধ্যান মেলেনি। পিন্টু দেবনাথ আমার ভাই স্বপন ও প্রবীর এরা বন্ধু ছিল। মিডিয়ার মাধ্যমে পিন্টু প্রবীরকে হত্যা করেছে সেই বিষয়টি জানতে পারি। আমাদের সন্দেহ হয় আমার ভাই স্বপন নিখোঁজের পিছনে পিন্টু রয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে অবগত করলে তারা পিন্টুর জবানবন্দী নেয় সে এবং রত্না মিলে আমার ভাইকে হত্যা করে। সে কথা তারা স্বীকার করেন। পরে রত্না ও মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৮ সালের ১৬ জুলাই সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলাম। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমার ভাই যেহেতু নিখোঁজ ছিল সেক্ষেত্রে এর মধ্যে কোন একদিন হত্যা করে ঘাতকরা।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৯ মে নারায়নগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষ হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি পিন্টু দেবনাথকে ফাঁসির আদেশ প্রদান করা হয়। পিন্টু জবানবন্দীতে প্রবীর হত্যার দায় স্বীকার করেন। ২০১৯ সালে একই আদালতে স্বপন হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় ঘাতক পিন্টু। জবানবন্দীতে পিন্টু জানায় ঘুমের ঔষধ খাইয়ে রত্না চক্রবর্তী ফতুল্লার মাসদাইরের বাসায় স্বপনকে হত্যা করে। এরপর স্বপনকে সাত টুকরো করে বাজারের ব্যাগ করে পৃথক পৃথকভাবে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে আসে। একই দিনে পিন্টুর বান্ধবী রত্না ও মামুনও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন।

