বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সিদ্ধিরগঞ্জে বিসমিল্লাহ কেমিক্যাল নামক একটি ভেজাল ঔষধ কারখানায় অভিযান চালিয়েছে র্যাব-১১’র সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) বিকাল ৫টায় মহানগরের ২নং ওয়ার্ডের মিজমিজি মৌচাক মাদ্রাসা রোড এলাকায় র্যাব-১১’র সিপিএসসি’র কোম্পানী কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুস সাকিবের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান যৌন উত্তেজক সিরাপ, ট্যাবলেট ও কেমিক্যাল জব্দসহ কারখানার মালিক রাসেল মোল্লা এবং ম্যানেজার সহ ৪ জনকে আটক করেছে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, র্যাব-১১’র সহকারী পরিচালক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জসিম উদ্দিন চৌধুরী, পিপিএম, নারায়ণগঞ্জ ড্রাগ সুপার কামাল হোসেন।
মেজর তালুকদার নাজমুস সাকিব জানায়, আপনারা জানেন যে ভেজাল এবং অবৈধ খাদ্য দ্রব্য ও ঔষধের বিরুদ্ধে আমাদের র্যাবের জিরো ট্রলারেন্স রয়েছে এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রাখি এবং আমরা গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি যে বিসমিল্লাহ কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানে ইতিপূর্বে তাদের একটি ঔষধের অনুমোদন ছিল কিন্তু সেই ঔষধটি ভেজাল ভাবে তৈরী করার কারণে ঔষধ অধিদপ্তর তাদের জিনসিন সিরাপটির অনুমোদন বাতিল করে। সেই সিরাপটির অনুমোদন বাতিল করার পরও ঔষধ প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা সেই জিনসিন সিরাপ দুই বছর যাবৎ উৎপাদন এবং বাজারজাত করে আসছে এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা অভিযান চালাই। আমরা ড্রাগ সুপারকে সাথে নিয়ে আসার কারণে তার কাছ থেকে সহায়তা পাই এবং বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে পারি। তারা সরকারী নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই জিনসিন সিরাপ তৈরী এবং বাজারজাত করছে একইসাথে আরো অনেক অনুমোদনহীন ঔষধ ও ট্যাবলেট উৎপাদন করে আসছে যার কোন অনুমোদন তারা দেখাতে পারেনি। তাই প্রতিষ্ঠানটির মালিক, ম্যানেজার এবং আরো দুইজনসহ সর্বমোট ৪ জনকে আমরা আটক করেছি। আমরা অত্যন্ত বিষ্মিত হয়েছি যে এখানে ঔষধ তৈরী হচ্ছে অথচ কোন কেমিস্ট নেই। এখানে একজন নিজেকে হাকিম পরিচয় দিলেও তার কোন অস্তিত্ব আমরা খুঁজে পাইনি। এমতাবস্তায় আমরা ৩ হাজার বোতল সিরাপসহ আরো অনেক ট্যাবলেট জব্দ করেছি। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে।
এ ব্যাপারে ড্রাগ সুপার বলেন, জিনসিন একটি ইউনানী শাস্ত্রীয় ঔষধ কিন্তু তারা ভেজাল করে এ জিনসিন সিরাপটি তৈরী করার কারণে ঔষধ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বাতিল করা হয়েছে। তারপরও তারা তা অব্যাহত রাখায় র্যাবের অভিযানে ধরা পরেছে। এখানে অনেক কেমিক্যাল জব্দ করা হয়েছে যা তাদের ইউনানী শাস্ত্রে অনুমোদন নাই। এসব কেমিক্যাল ব্যবহারের মাত্রা তারা জানে না ফলে এগুলো মানুষ অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার করার কারণে যৌন সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আর প্রাথমিক ভাবে যদি কারো হার্টের সমস্যা অথবা উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাহলে হার্ট এ্যাটাক হতে পারে এবং কিডনীতে অনেক বেশি সমস্যা করে।

