বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের সাহা পাড়ায় গৃহবধু বৃষ্টি চৌধুরী হত্যার অভিযোগে তার স্বামী ব্যাংক কর্মকর্তা সুদীপ রায় ও তার শ্বশুর সুদের ব্যবসায়ী সুভাস চন্দ্র রায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। টানবাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করেন সদর মডেল থানা পুলিশ।
শনিবার দুপুরে আটককৃতদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালত প্রেরন করেন সদর মডেল থানা পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের টানবাজার সাহাপাড়ার গিয়াস উদ্দিনের বাড়ির ৭ম তলায় অচেতন অবস্থায়
পাওয়া যায় গৃহবধুু বৃষ্টিকে। এরপর তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে(ভিক্টোরিয়া) নেওয়া হয়।এসময় তাকে দেখে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নূরুজ্জামান মৃত ঘোষণা করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ডা. নূরুজ্জামান বলেন, মৃত বৃষ্টি চৌধুরীর গলায় দাগ পাওয়া গেছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে বৃষ্টির মৃত্যু টি স্বা০ভাবিক না।
সুদিপের দাবি, আমার স্ত্রী দরোজা বন্ধ করার পর অনেক ডাকাডাকি করার পর কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে কালীরবাজার থেকে তালা ভাংগার মিস্ত্রী ডেকে নিয়ে দরোজা ভেঙ্গে বৃষ্টির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’তার স্ত্রী পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে আত্মহত্যা করেছে।
নিহতের আত্মীয়দের দাবি, ‘বৃষ্টির ননদ ডেইজি, স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি বৃষ্টিকে নানাভাবে নির্যাতন করতো।কারণ বিয়ের সময় ১৫ লাখ টাকা যৌতুক নেওয়ার পর আরো যৌতুক দাবি করে আসছিলো সুদ ব্যবসায়ী সুভাষ, তার ছেলে সুদীপ ও তার বোন ডেইজি। সকালেও ডেইজি সাহাপাড়ার বাবার বাড়িতে এসে নির্যাতন করেছে বলে খবর পেয়েছি। এরপর বৃষ্টির মৃত্যুর পর পালিয়ে যায় ডেইজি সাহা। বৃষ্টির মৃত্যুর জন্য দায়ী স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের বিচার চাই।’
চিকিৎসক মৃত ঘোষনার পর গৃহবধূ বৃষ্টির লাশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠায় পুলিশ।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আজাদ আসামী ডেইজকে রাতের আধারে সদর মডেল থানার পিছনে গেইট দিয়ে বের করে দিয়ে আসেন। পরে ডেইজির স্বামীর গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেন নিহতের পরিবার। তারা দাবি করে আরো বলেন, আমরা এত রাত অব্দি থানায় থাকার পরেও পুলিশ পিছনে গেইট দিয়ে মামলার আসামীকে ছেড়ে দেয়। একজন আসামীকে কিভাবে ছাড়ে তারা।
ঘটনার বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, টানবাজার সাহাপাড়ায় নিহত গৃহবধূ বৃষ্টির পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার স্বামী ও শ্বশুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃতদের রিমান্ড চেয়ে আদালত প্রেরন করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত গৃহবধূর মৃত্যুর সঠিক কারণ আপাতত বলা যাচ্ছে না।
ডেইজি প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, মামলার তদন্তে যাদের অভিযুক্ত পাওয়া যাবে তাদের সবাইকে আটক করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইননগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডেইজিও যদি এই মামলায় অভিযুক্ত হয় তাহলে তাকেও আটক করা হবে। তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
