বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও এসবি ক্যাবলস এর মালিক আব্দুল করিম বাবু ছাত্রলীগ নেতা শুভ রায় ও শান্ত খানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ডিসের কাটার অভিযোগ তুলেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন অনলাইন ও স্থানীয় লোকাল পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। যার প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে শুভ রায় বলেন, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও অন লাইন নিউজে যে সংবাদ উপস্থাপন হচ্ছে তার জন্য আমি লজ্জা বোধ করছি এর সাথে পুরো ঘটনা না যেনে এমন নিউজ করায় প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কেননা আমি এবং আমার বন্ধু শান্ত কোন সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজ না। এছাড়া নিকটস্থ থানায় আজও পর্যন্ত আমাদের নামে এমন কোন অভিযোগ নেই। প্রকৃত অর্থে আমি একজন থান কাপড় ব্যবসায়ী এবং শহরের উকিল পাড়াতে আমার নিজস্ব দোকান ও রয়েছে এবং আমার বন্ধু শান্ত সেও আমার সাথে একই ব্যবসা করে! উল্লেখ্য তোলারাম কলেজে অর্নাস পরিক্ষা দেওয়ার পর পারিবারিক আর্থিক সমস্যাজনিত কারনে ছাত্রজীবনের সমাপ্তি ঘোষনা করে বিদেশ যাই এবং দীর্ঘ পাঁচ বছর পর দেশে এসে উপার্জিত অর্থ দিয়ে থান কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি আর সে ব্যবসার সাথে কিছুদিন পর বন্ধু শান্তও যুক্ত হন ! একসময় আমার বাবা স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেই সময় পুরো পরিবারের হাল নিজ কাদে নিতে হয় বিদায় কিছু টাকা সাইড ব্যবসা হিসেবে বাংলাবাজার মুক্তার ক্যাবল এর মালিক মোঃ মুক্তার মিয়ার সাথে ব্যবসায়ীক পাটনার হই, কেননা মুক্তার মিয়াও সে সময় আর্থিক সমস্যায় ছিলেন। অতঃপর মাস শেষে বিনোয়গের উপর ভিত্তি করে কিছু লভ্যাংশ দেওয়া হত যা দিয়ে আমার সংসারের খরচ কিছুটা স্বচ্ছল হতো! যদিও আমি নিজে সেখানে সময় দিতাম না। কারন মুক্তার ক্যাবল দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত সেই এলাকায় সুনামের সহিত সার্ভিস দিয়ে আসছিলো। এমতাবস্তায় কিছুদিন পূর্বে মুক্তার ক্যাবল এর লাইন ছেড়ে দেবার জন্য নারায়ণগঞ্জ ১৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু (ওরফে ডিশ বাবু) জানান লাইন ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে। সে সময় নির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না থাকার পরেও জানান লাইন ছেড়ে দিতে। অন্যথায় লাখ দশেক টাকা অগ্রীম বাবদ পুনরায় দিতে। সে সময় মুক্তার মিয়া পাটনার হিসেবে আমাকে অব্যাহত করেন তারপর আমি আমার বন্ধু শান্তকে নিয়ে আব্দুল করিম বাবু কাউন্সিলারের অফিসে যোগাযোগ করি। শান্ত’র সাথে উনার সু-সম্পর্ক থাকায় শান্ত আমার সাথে উনার অফিসে যান এবং তাদের মধ্যে চাচা ভাতিজা সম্পর্কের জের ধরে লাইন বিষয়ে অনুরোধ জানান। তারপর আমিও বাবু চাচার নিকট বিনয়ের সাথে নিজ পরিবারের সমস্যা জানাই এবং লাখ দুয়েক টাকা অনেক কষ্ট করে ব্যবস্থা করে এনেছি আর কয়েকটা মাস সময় দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। আর আমার বাবা কিছু দিন পূর্বে ইন্তেকাল করেছে তাই অনেক সমস্যায় জর্জরিত আছি বলে তার কাছে বিশ্লেষন করি, তারপর বাবু চাচা টাকা ফেরত দিয়ে সময় নেন এবং তিনি ভেবে জানাবেন বলে আমাদের আশ্বাস দেন। অন্যথায় আমি যদি ২০ লাখ টাকা দিতে পারি তাহলে এই এলাকা বাদ দিয়ে পুলিশ লাইনে ১৫০০ লাইনের এক এরিয়া আছে তা নেওয়ার জন্য প্রস্তাব করেন! কিন্তু আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত থাকায় আমি আর একমত হতে না পেরে চলে আসি তার অফিস থেকে তারপর বেশ কিছুদিন তার অফিসে একই অনুরোধ নিয়ে গিয়ে গিয়ে ব্যার্থ হই। এক সময় পাশের বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী লোকজন আমার লাইন এরিয়াতে এসে দখলদারির মতন যুক্ত হতে থাকে, এবং নানা হুমকি ধমকি দিতে থাকে, এক পর্যায় শুনি উনাদের কাছে নাকি বাবু চাচা লাইন বিক্রি করছে। এমতাবস্তায় অনেকটা চিন্তিত হয়ে বাংলাবাজার কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ বাদল এর কাছে সব ঘটনা নিয়ে স্বরনাপন্ন হই। তিনি সব শুনে তিনি এর মিমাংসা করে দিচ্ছেন বলে আশ্বাসও প্রদান করেন। কিন্তু সেই রাতেই বাবু চাচার কন্ট্রোল রুম থেকে বাংলাবাজার এর লাইন সুইচ অফ করে দেওয়া হয়। প্রায় চার পাচ দিন বাংলবাজার এলাকাবাসী ডিশ লাইন বিচ্ছিন্ন থাকে। তখন তার সাথে বার বার যোগাযোগ করতে গিয়েও আমরা ব্যার্থ হই। এই ভাবে চার-পাঁচ দিন ডিশ লাইন বিচ্ছিন্ন থাকে উক্ত এরিয়ায়। বাবু চাচার সাথে আমাদের কারোই কোন ব্যাক্তিগত দন্ধ ও শত্রুতা নেই এবং সে একজন একটি ওয়ার্ডের সন্মানিত কাউন্সিলর ও জনপ্রতিনিধি। তাই তাহার সন্মানের দিক বিবেচনা করে আমরা কোন আইনী অভিযোগ বা বেয়াদবি হয় এমন কিছুর দিক চিন্তা না করে বিভিন্ন ময় মুরুব্বিদের নিকট নিজেদের সমস্যার দিক বিবেচনা করে বাবু চাচার একটু সুনজর কামনা করি। যাতে আমাদের পরিবারের পেটে লাথি না পড়ে। কিন্তু বাবু চাচা বয়সে ও সব দিক দিয়ে আমাদের অনেক সিনিয়র। তাই উনার সন্মানে আঘাত আসার মতন এমন কোন কাজের সাথে জড়িত হবো বলে কখনো ভাবিও নেই! এখন কিসের উপর ভিত্তি করে এই অভিযোগ করছেন তা সঠিক বলতে পারবো না। আর আমি নিজে এবং শান্ত কোন ক্যাবল নেটওয়ার্কেও তার কাটার সাথে সম্পৃক্ত নই। সেই সাথে তরুন প্রজন্মের অহংকার অয়ন ওসমান সাহেবের নাম বিক্রি করার প্রশ্নই আসে না, কেননা তিনি নারায়ণগঞ্জের হাজারো ছাত্র জনতার আইডল হিসেবে পরিচিত তিনি! আর বাবু চাচা নিজেও নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী কাউন্সিলরদের মধ্যে একজন এবং তার কাছে লাইসেন্স কৃত অস্ত্রও আছে নিজ নিরাপত্তার জন্য তাও অনেকের জানা। সেইদিক বিবেচনা করে শুধু আমি কেনো কারোই চাঁদা দাবি করে হুমকি ধমকি দিতে সাহস হবে বলে আমি মনে করি না! তাই প্রকাশিত সংবাদের নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিক ভাইদের সঠিক তথ্য জেনে সত্য ঘটনা প্রকাশ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে শান্ত খান বলেন, আমি এই ধরনের প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দীর্ঘদিন যাবৎ আমি আওয়ামীলীগের একজন কর্মী হিসেবে রাজনীতি করে আসছি। পাশাপাশি আমি ব্যবসা করি। সর্বদা ন্যায়ের পথে চলেছি। অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ করিনি। কখনো কোন খারাপ কাজের সাথে জড়িত ছিলাম না। নিজেদের ন্যায্য অধিকার চাওয়াতে আমাদের আজকে হয়রানী করা হচ্ছে। অপরাধ না করেও আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে। এর আগেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে কিছু কুচক্রি মহল ফুটপাতের বিদ্যুৎ চুরি নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন। যা খুবই দুঃখজনক। আমার বসবাসরত এলাকা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন আমি কেমন লোক। যদি বিন্দুমাত্র কোন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত পান তাহলে আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। না হয় এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করা হোক।
