বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তিনি বলেছেন, আপনারা সবাই নিজেদের মধ্যকার বিভেদ ভুলে গিয়ে একত্রিত থাকবেন। সম্মিলিতভাবে আপনাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান গুলো আনন্দ উদ্দীপনার সাথে উদযাপন করবেন। যখনই প্রয়োজন মনে করবেন আমাদের ডাকলে আমরা উপস্থিত থেকে সকল প্রকার সহযোগীতা করবো। আশা করছি এবারের মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ পূর্ণ্য¯œানেই তার প্রতিফলন ঘটবে এবং আপনারা সকলের মিলে সম্মিলিতভাবে ¯œান উদযাপন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পালন করবেন।
মঙ্গলবার ৬ মার্চ রাত সাড়ে ৮টায় নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের ৪র্থ তলায় ক্যাফেটেরিয়ায় মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা সভায় তিনি এ আহবান রাখেন।
তিনি আরো বলেন, এই শহরটির নাম নারায়ণগঞ্জ। নদীর নাম শীতলক্ষ্যা। এই নাম গুলো কখনো বদলে যাবে না। নারায়ণগঞ্জের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের যে সকল মহান ব্যক্তিদের অবদান রয়েছে তার স্বীকৃতি দিয়ে তাদেরকে সম্মানিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। অধ্যক্ষ খগেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, জীবন কানাই চক্রবর্তী, রনদা প্রসাদ সাহা মত অনেকেই আছেন যারা নারায়ণগঞ্জের জন্য অবদান রেখে গেছেন। তাদের জন্য আপনারা প্রতি বছর বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করতে পারেন। তাদের অবদানের কথা তুলে ধরতে হবে যাতে করে ভবিষ্যত প্রজন্মও তাদেরকে সম্মান করেন।
লাঙ্গলবন্দের উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৪ বছর আগে ১০জন মানুষের প্রাণহানি ঘটার মধ্য দিয়ে আজকে লাঙ্গলবন্দে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। লাঙ্গলবন্দের উন্নয়নের জন্য আপনাদের চাহিদা মোতাবেক আমি সরকারকে ডিও প্রদান করেছি। কিন্তু ধর্ম মন্ত্রনালয় থেকে আমাদের চাহিদার থেকেও অনেক বেশি দিয়েছেন। ইতোমধ্যে লাঙ্গলবন্দে ৫টি ঘাট নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারনে ¯œানের পরে সেই নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে আরো উন্নয়ন করা হবে। লাঙ্গলবন্দকে আপনারা বছরে শুধু মাত্র ২ দিন ব্যবহার করেন। কিন্তু আমি চাই লাঙ্গলবন্দে নিদিষ্ট একটি স্থান করা হোক যেখানে শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই প্রবেশ করতে পারবেন। আর সেটি আপনারা বছর জুড়েই ব্যবহার করবেন। সেখানে ¯œান উৎসবের পাশাপাশি বিভিন্ন পূজা পার্বন, শিশুদের অন্নপ্রাসন, ছাড়াও ধর্মীয় অন্যান্য সকল অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন। তবে সবার আগে আপনাদের নিজেদের মাঝে বিরোধের অবসান ঘটাতে হবে।
এ সময় এমপি সেলিম ওসমান কমান্ডার গোপি নাথ দাস এবং অ্যাডভোকেট খোকন সাহার বিরোধের অবসান ঘটিয়ে দুজনকে আলিঙ্গন করান।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে অনেকেই আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গটি টানলে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, আগামীতে আমি নির্বাচন করবো কি করবো না সেটি আগামী ৩০ জুন সবার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো। গত ৪ বছরে আমার কর্মকান্ড দিয়ে আপনাদের কতটুকু সন্তোষ্ট করতে পেরেছি সেটির উপরেই নির্ভর করবে আমার নির্বাচনে অংশ নেওয়া।
তিনি আরো বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা আমি মার্কা বা দলের থেকেও উন্নয়ন কর্মকান্ডে বেশি বিশ্বাসী। আগামীতে যদি আমি নির্বাচন করি তাহলে আমার প্রতীক নৌকা হবে নাকি লাঙ্গল হবে, নির্বাচন সেলিম ওসমান বনাম খোকন সাহা হবে নাকি এর উল্টা হবে সেটি যখন সময় হবে তখন দেখা যাবে। আপাতত আমি উন্নয়ন নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই।
লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদযাপন পরিষদের সভাপতি সরোজ কুমার সাহার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন,নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, কমান্ডার গোপি নাথ দাস, বিষেঁর বাশি পত্রিকার সম্পাদক সুভাষ সাহা, ¯œান উদযাপন পরিষদের সভাপতি সরোজ কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুজিত সাহা, ¯œান উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা পরিতোষ কান্তি সাহা, শংকর সাহা, শ্যামল সাহা, শহর যুব সংহতির সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন ভাওয়াল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সুজন সাহা, মহানগর শাখার সভাপতি দিপক সাহা, সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার শিখন প্রমুখ।
