বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকা দুই পাশে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিন ব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্বদেন সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান ফারুকী।
এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আলিউল হোসেন, হাইওয়ে পুলিশের গাজিপুর রিজিওনের পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম, সোনারগাঁ উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা বিএম রুহুল আমিন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় পরিচালক শাহারিয়ার আলম, হাইওয়ে পুলিশের সার্কেল আকতারুজ্জামান, কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম আলী সরদার, তদন্ত ওসি আলী রেজাসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সোনারগাঁয়ে সড়ক ও জনপদের অভিযান ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনার মধ্যে ছিল, সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবৈধভাবে গড়ে তোলা স্বপ্নচূড়া মার্কেট, ফলের দোকান, মিষ্টির দোকান, কাপড়ের দোকান, চায়ের দোকান, জুতার দোকান, কনফেকশনারী, কসমেটিকসের দোকান, ঔষধের দোকানসহ মুদি মনোহারির দোকান।
এক পথচারি ক্ষোভের সাথে এ প্রতিবেদককে জানায়, বিভিন্ন ঘটনা ও নানা অজুহাতে সহাসড়কে উচ্ছেদ। সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। মার্কেট মালিকদের মনে আনন্দ। সহাসড়কের উচ্ছেদের কয়েক দিনের মাথায় আবার চড়া দামের বিনিময়ে দোকান নিয়ে ব্যবসা শুরু হয়। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হয় ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত আর মার্কেট মালিকদের পোয়া বারো।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বপ্নচূড়া মার্কেটটি আমাদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে এককালীন অগ্রিম টাকা দিয়ে প্রতি মাসে নিদিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা করে আসছি। হঠাৎ করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ আমাদের ১২ ঘন্টার সময় দিয়ে মার্কেটটি গুড়িয়ে দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, যতবার দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে ততবারই সওজের কর্মকর্তা ও পুলিশকে দেয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে অবৈধ দখলদাররা অগ্রীম বাবদ টাকা নিয়েছেন। বার বার অগ্রীম টাকা দিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলী হোসেন, মাজহারুল ইসলাম জানান, সড়ক ও জনপদের লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে দোকান পাট উচ্ছেদের পরপরই আবারও অবৈধ দখলদারেরা দোকানপাট নিমার্ণ করে ফেলেন। তারা আরও জানান, যতবার দোকান ভাঙ্গা হয় ততবারই আমাদের অগ্রিম দিতে হয়।
সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান ফারুকী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও জনপদের জমি দখল করে প্রভাবশালী শ্রেণির লোকজন দোকান ঘর নির্মাণ করে অবৈধভাবে ভাড়া তুলে আসছিল। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলের বিঘœ হয়। এতে করে মহাসড়ক সংকোচিত হয়ে যানজটে পরিণত হয়। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য এ অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি কাইযুম আলী সরদার বলেন, আমরা যানজট নিরসনের সর্বাত্মক ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তাদের হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করছি।

