বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
র্যাপিট একশন বেটেলিয়ান (র্যাব) এর অভিযানে জেএমবির (সারোয়ার গ্রুপ) সক্রিয় দুই সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মিজানুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ ওরফে আব্দুল্লাহ আল মিজান(৩৭) ও ইব্রাহীম খলিল ওরফে ইব্রাহীম ওরফে শাহাজাহান(৩০)। এ সময় তাদের কাছ থেকে জঙ্গিবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার রাতে ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১১’র আদমজী সদর দপ্তর এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শাকিল আহমেদ বুধবার দুপুরে জানান, গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্য মিজানুর রহমান সাভার এলাকার আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক। ২০১৪ সাল থেকে ঢাকার সাভার এলাকার নিজস্ব মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে পরিচালনা করে আসছিল। ২০০৯ সালে জৈনক আবদুর রউফ এর একটি বই পড়ে উগ্রবাদে আকৃষ্ট হয় এবং জসিম উদ্দিন রাহমানির ধানমন্ডির হাতেমবাগ মসজিদে যাতায়াত শুরু করে এবং তার ছাত্র হিসেবে দীক্ষা নিয়ে জসিম উদ্দিন রাহমানির একনিষ্ট ছাত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে জসিমউদ্দিন রাহমানি গ্রেফতার হলে সাভার এলাকায় জেএমবির দাওয়াতি কাজ করতে থাকে। এলাকায় নিজস্ব বলয় তৈরি করে সাভার দাওয়াতি আমির হিসেবে কাজ করে আসছে। এ পর্যন্ত ৬০/৭০ জনকে দাওয়াতের মাধ্যমে জেএমবিতে সম্পৃক্ত করতে পেরেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। সে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার কুতুপালং এলাকায় জেএমবি’র কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে এক রোহিঙ্গা নারীকে এক মাস পূর্বে বিয়ে করে সাভার এলাকায় নিয়ে আসে। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন কুতুু পালং এ যাতায়াত করে জেএমবির সদস্য বৃদ্ধির কাজ করে আসছে। সাভার এলাকায় ৭ সদস্যের দাওয়াতি কমিটির মাধ্যমে জেএমবির (সারোয়ার গ্রুপ) দাওয়াতি আমির হিসেবে কাজ করছে।
অপর গ্রেফতারকৃত ইব্রাহীম খলিল ২০১৬ সাল হতে সাভারের একটি মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছে। ২০১০ সালে তার সঙ্গে আব্দুল্লাহ আল মিজান এর পরিচয় হয় এবং ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে একত্রে জসিম উদ্দিন রাহমানির মসজিদে যাতায়াত শুরু করে। ২০১১ সালে আব্দুল্লাহ আল মিজান এর মাধ্যমে জেএমবিতে যোগদান করে সাভার এলাকায় জেএমবির দাওয়াতি কাজ শুরু করে। ২০১৫ সালে পুনরায় আব্দুল্লাহ আল মিজান এর হাত ধরে জেএমবি (সারোয়ার) গ্রুপে দাওয়াতি কাজ করতে থাকে। ইমামতি পেশার পাশাপাশি ফরিদপুর, কক্সবাজারসহ একাধিক জেলায় জেএমবির দাওয়াতি কাজ এবং সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির কাজ করে আসছে। গ্রেফতারকৃত দু’জনই বন্দর থানায় দায়েরকৃত মামলার পলাতক আসামী। (মামলা নং-৬৯, তারিখ ২২ আগষ্ট’১৭)
