বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
মহানগর যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক নূর নাহার সন্ধ্যা বলেছেন, শামীম ভাই আমি কি দোষ করেছি । যে আপনি আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলেন । আমিতো আপনার কর্মী ছিলাম । যদি ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনি প্রমাণ দিতে না পারেন তাহলে শামীম ভাই আপনি নারায়ণগঞ্জ বাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে ।
সোমবার বিকেল ৪ টার দিকে শহরের দুই নং রেল গেইটস্থ আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার নিহতের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।
তিনি আরো বলেন, আপনার অনেক ক্ষমতা আছে ইচ্ছে করলে আপনি আমাকে রাস্তায় বের হতে দিবেন না । এমনকি আপনার লোকজন দিয়ে আমাকে মেরে ফেলতে এবং গুম করতে এবং কি আমার লাশ শীতালক্ষার পানি ভাসিয়ে দিতে পারেন । গত পঁচিশ রোজায় এক অনুষ্ঠানে আমি জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবু জাহের চেয়ারম্যান কে বলেছিলাম আগামী নির্বাচনে সদর ও বন্দরে নৌকার প্রার্থী চাই । আমরা মহানগর আওয়ামী যুব মহিলা লীগ সাতাশটি ওয়ার্ডে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালাবো । এর পর থেকেই শামীম ভাই আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলেন ।
তিনি আরো বলেন, প্রথমে লিন্ডা পরবর্তি সময়ে আমাকে নিয়ে এই কথাবার্তা বলা হচ্ছে । শামীম ভাই আমার দুইটি বাচ্চা আছে আমার স্বামী গত বছরের রমজান মাসে মৃত্যু বরণ করে । আপনার উপর আমার মৃত স্বামীর আযাব পড়বে । কারন আপনি আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলছেন । জয়নাল হাজারী মত লোক ক্ষমতা দেখিয়ে বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি । ঠিক আপনিও ক্ষমতা দেখিয়ে বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না । শামীম ভাই আপনি পনের আগষ্টের শোক র্যা লী ও সমাবেশ করেছেন । কিন্তু আপনার সমাবেশে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মহানগরের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ছিল না । ছিলো শুধু সাধারণ জনগণ যাদের কে আপনি টাকার বিনিময়ে সমাবেশে আনছেন । কেউ আওয়ামী লীগের কর্মী না । এই আমরাই আওয়ামীলীগের প্রকৃত কর্মী । যারা বিগত দিনে আপনার নেতৃত্বে রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছিল । তাই আমি বলতে চাই নারায়ণগঞ্জের মাটি শামীম ওসমানের ঘাঁটি হতে পারে না । নারায়ণগঞ্জের মাটি আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহার ঘাঁটি । কারন নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের কান্ডারি থাকলে তারা দুজনই ।
তিনি আরো বলেন, সেইদিন আমি ডেভিডের না শামীম ওসমানের গাড়িতে ছিলাম । কারন আমি আপনার কর্মী ছিলাম । আমি আপনাকে ভয় পাই না । আমি একমাত্র আল্লাহ কে ভয় করি । শামীম ভাই ভয় পাওয়ার রাজনীতি শেষ । সাত খুন ও তক্বী হত্যাকাণ্ডের সাথে কে জড়িত নারায়ণগঞ্জের সকল মানুষ তা জানে । শামীম ভাই আমি আপনাকে পিতার মত সম্মান করতাম । কিন্তু পিতা যখন তার কন্যার চরিত্র নিয়ে কথা বলে তখন কন্যা আর চুপ করে বসে থাকতে পারে না ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এমএ রশিদ, মহানগর কৃষক লীগের আহ্বায়ক শাহজালাল জামাল খোকন, জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফিয়া খাতুন সুমি, প্রচার সম্পাদক রেখা আক্তার, মহানগর মহিলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেনারা বেগম, মহানগর যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মায়ানুর আহমেদ মায়া, শারমিন আক্তার ডলি সহ অনেকেই ।
পরে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার নিহতের আত্মার মাগফেরাত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করা হয় ।
