বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জান্নাতুল নামের (৯) মাসের কন্যা সন্তানকে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে তারই বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৪ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহত জান্নাতুলের নানী সাজিয়া বেগম বাদী হয়ে ৩জনকে আসামী করে সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। শুক্রবার থেকে পাষন্ড বাবাসহ বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়।
সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের পাকুন্ডা গ্রামের মর সিকম আলীর ছেলে বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি জহিরুল ইসলামের সাথে কুমিল্লা চান্দিনা উপজেলার কেশেরা গ্রামের আব্দুল মালেকের কন্যা কুলসুমের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর তাদের সংসারে মেয়ে সন্তান জন্ম নেওয়ায় বাবা জহিরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এ নিয়ে পরিবারে দ্বন্ধ দেখা দেয়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিচার শালিস করে কুলসুম স্বামীর বাড়ি পাকুন্ডায় মেয়ে সন্তান জান্নাতুলকে নিয়ে আসেন। গত ৩০ জুলাই রোববার রাত সাড়ে ১১টায় তার স্বামী জহিরুল ইসলাম ঘরে এসে পরিকল্পিতভাবে ৯ মাসের কন্যা সন্তান ঘুমের মধ্যে জান্নাতুলের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় মা কুলসুম আগুন থেকে তার সন্তানকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে আহত হন। শিশু জান্নাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাস্তা থেকে ফিরিয়ে এনে বাড়িতেই কবিরাজি চিকিৎসা করায় তার পরিবার। পরে ৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টার দিকে জান্নাতুলের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শেখ মফিজুল ইসলাম ৪আগস্ট শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত জান্নাতের নানী সাজিয়া বেগমের অভিযোগ, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে তার মেয়ে কুলসুমকে বিয়ে দেন। বিবাহের সময় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক হিসাবে দেয় কুলসুমের পরিবার। পরে কয়েক দফায় আরোও ৫০হাজার টাকা নেয় জহিরুল। জহিরুল বর্তমানে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। সে বিভিন্ন সময়ে আমার মেয়ে কুলসুমকে মারধর করে। নিহত জান্নাতুলের মা কুলসুম অভিযোগ করেন, পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর ঘরের ফ্যান চালু করে দেয় পাষন্ড জহিরুল। তার মেয়েকে আগুন থেকে উদ্ধার করার সময় তাকে ঝাপটে ধরে আটক করে রাখে। বিভিন্ন সময়ে সে মাদকাসক্ত হয়ে ঘরে ফিরে তাকে মারধর করতো। সে তার মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবী করে।
সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে।

