বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বন্দরে নগর মাতৃসদন যেন গলাকাটা সেবা কেন্দ্র। এখানে দরিদ্র মানুষের সেবা পাওয়া দুস্কর। মায়ের স্বাস্থ্য সেবা হাতের নাগালে পাওয়া ও অল্প টাকায় বা বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য সেবা দানের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এ মাতৃনদন নির্মাণ করেন। এখানে নবজাতক ও মায়ের সেবা নিতে আসা রোগীদের ঘুনতে হয় সর্বনিন্ম ১০ হাজার টাকা। নগর মাতৃসদরন রোগী গেলে তাদের প্রথমে বলা হয় ওয়ার্ডে থেকে সেবা নিতে হলে ৮ হাজার টাকা, কেবিনে ১০ হাজার টাকা ও এসি কেবিনে ১২ হাজার টাকা দিতে হবে। অনেকে সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হতে হয়। গতকাল রোববার বন্দরের সালেহ নগর এলাকার নবীল মিস্ত্রীর মেয়ে নাসরীন বেগম সন্তার প্রসব করতে নগর মাতৃসদনে ভর্তি হন। তার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা রাখা হয়। সে অতি দরিদ্র হওয়ার ফলে স্থানীয় কাউন্সিলর সুলতান টাকা কম রাখার সুপারিশ করেন এবং সিটি মেয়রের পিএসও সুপারিশ করেন কিন্তু তাদের সুপারিশ মাতৃসদন কর্তৃপক্ষে কর্ণপাত হয়নি।
এ ব্যপারে নবীল মিস্ত্রী বলেন, তার মেয়ের সন্তান প্রসব করার জন্য বন্দর নগর মাতৃসদনে ভর্তি হয়। চিকিৎসা শেষে তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। সে কাউন্সিলর ও পিএসএর সুপারিশ দেখালেও কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেননি। ওয়ার্ডে থাকায় তার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা রেখে রোগী রিলিজ দেয়া হয়। এখানে ৮ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে আর এ সেবাই বন্দর বাজারে ছায়ানূর ক্লিনিকে আরও কম টাকায় সেবা নেয়া যেত।
এ ব্যপারে বন্দর নগর মাতৃসদনের প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. দিল আফরোজা সোবহান বলেন, মেয়র এ মাতৃসদনে কিছু লাল কার্ডধারী রোগী নির্নয় করে দিয়েছেন যারা অল্প খরচে সেবা পাবেন। এর বাইরে সবাইকে ১০ হাজার টাকাই ঘুনতে হবে। যদি কোন কাউন্সিলর সুপারিশ করেন তা বিবেচনা করে দেখা হেবে। আর এখানে কোন ডাক্তার নেই। রোগী ভর্তি হলে সিজার করতে বাইরে থেকে টাকা দিয়ে ডাক্তার আনতে হয়। তাই আমরা টাকা বেশি নেই। নগর মাতৃসদন সরকারি কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনের আওতাভ’ক্ত এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ের অধিনে।
২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার বলেন, নগর মাতৃসদনে সেবা ফ্রি নয় তবে যারা অতি দরিদ্র তারা লাল কার্ড প্রাপ্ত হয়ে বিনা মূলে চিকিৎসা পাবে। এ সেবা কেন্দ্রটি পরিচালনা করছেন আরবান হেল্থ নাকম একটি এনজিও। তাই টাকা দিয়েই সেবা নিতে হয়। বন্দরের অতি দরিদ্র এলাকা বেশীভাগ নারীই গার্মেন্স কর্মী তাদের পক্ষে ১০ হাজার টাকা দিয়ে সেবা নেয়া সম্ভব নয়। এ জন্য এ মাতৃসদনে সেবা খরচ কমানো উচিত।
