বিজয় বার্তা২৪ ডটকমঃ
গুম-খুনের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ক্ষমা হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এই হুশিয়ারি দেন। গুম-খুনের শিকার দলের নেতাকর্মীদের পরিবারের স্বজনদের জন্য এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়া।
ইফতারের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম-খুনের সঙ্গে র্যাব-পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা জড়িত। এই গুম-খুনে জড়িতদের কোনো দিন ক্ষমা করা হবে না। একদিন না একদিন তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
এক পর্যায়ে কান্না জড়িত কন্ঠে খালেদা জিয়া বলেন, স্বজন হারানোর ব্যথা আমি বুঝি। আপনারা দেখেছেন আমি আমার সন্তান হারিয়েছি। অপেক্ষা করুন। শিগগিরই দুনিয়াতেই যেন আওয়ামী লীগের বিচার হয়, মানুষ যেন তা দেখতে পায়। বিএনপি চেয়ারপার্সন অভিযোগ করে বলেন, ২০১৩ সালে বিএনপির আন্দোলন দমন করার জন্য সরকার গুম-খুন শুরু করেছিল। গণতান্ত্রিক অবস্থা ফিরে এলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের খুজেঁ বের করার চেষ্টা করা হবে। যেসব র্যাব ও পুলিশের সদস্য এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের কোনো দিন ক্ষমা করা হবে না। তাদের বিচার বাংলার মাটিতে একদিন না একদিন হবে। গুম হওয়া ব্যক্তিরা ফেরত না এলেও, বিচার পেলে পরিবারের স্বজনেরা শান্তি পাবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে জালেম, খুনি ও ‘গুপ্তহত্যাকারী হিসেবেও অভিহিত করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, তারা (সরকার) যাদেরকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে, তারা জানতো যে, এরা ভালো ছেলে, এরা কাজ করে দলের জন্য। ওরা ভেবেছে যে, এসব কর্মীদেরকে শেষ করে ফেলতে পারলে বিএনপি শেষ হয়ে যাবে। বিএনপি দূর্বল হবে, বিএনপির কিছু হবে না। তারা আজীবন ধরে ক্ষমতায় থেকে এসব কর্মকান্ড চালিয়ে যাবেন। সেজন্য তারা এসব কাজগুলো করেছিলো ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। এর আগেও তারা(আওয়ামী লীগ) এসব করেছিলো, কিন্তু এরকম হয়নি। এবার ক্ষমতায় এসে যা করেছে তা অবর্ণনীয় ও অকল্পনীয়।
আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় হলে নিখোঁজ হওয়া নেতা-কর্মীদের সন্ধান পাওয়া যাবে- এই আশাবাদ ব্যক্ত করে খালেদ জিয়া বলেন, আমরা এখনো আশা করি যে, তারা আছে একদিন ফিরে আসবে। আপনারা দেখে যে, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলেকেও ধরে নিয়ে গেছিলো, কয়েক মাস পর তাকে তার বাড়ির কাছে ফেলে দিয়ে গেছে। এরকম আরেকজন হলো খোকন। আমি আশা করছি, জালেম অত্যাচারি বিদায় হলে দেশে তখন তাদের খোঁজ পাবো, তখন তারা তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাবে। আমরা সেই আশায় আছি।
ইফতারের পূর্বে গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন খালেদা জিয়া। পরে তিনি গুম-খুনের শিকার নেতা-কর্মীদের স্বজনদের ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ইফতার করেন। ইফতার মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও ছাত্রদলের সদ্য নিহত নুরুল আলম নুরুর শিশু কণ্যা উম্মে হাবিবা মীম, সেলিম রেজা পিন্টুর বোন রেহানা পারভীন মুন্নী, সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন আখি, নুরুজ্জামান জনির স্ত্রী মুনিয়া পারভীন, ৩ মাস ১৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর সন্ধান পাওয়া ছাত্র দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনও বক্তব্য রাখেন। পরে মূল মঞ্চে দলের মহাসচিবসহ নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, সাজেদুল ইসলাম সুমনের মা হাজেরা খাতুন, মাহবুব হাসান সুজনের মা রাশিদা বেগম, মো. জহিরের মা হোসনে আরা, এসএম আদনান চৌধুরীর বাবা রুহুল আমিন চৌধুরী, নাজমুল স্ত্রী সাবিরা নাজমুল, সদ্য নিহত চট্টগ্রাম ছাত্র নেতা নুর আলম নুরুর স্ত্রী সুমী আখতারসহ নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া।
ইফতার মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিবর, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
