বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
র্যাবের অভিযানে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের শরিয়াহ বোর্ডের আমীর শায়েখ মামুনুর রশিদ@শায়েখ মামুন ঢাকার ডেমরা এলাকা হতে গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার (১২ জুন ২০১৭)সকাল সাড়ে ৭টায় ঘটিকায় ঢাকার ডেমরা এলাকা হতে শায়েখ মোঃ মামুনুর রশিদ ওরফে শায়েখ মামুন (৩৪), জেলা-শরিয়তপুর কে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, শায়েখ মামুনুর রশিদ ওরফে শায়েখ মামুন বর্তমানে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের শরিয়াহ বোর্ডের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কারণেই সে এ দায়িত্ব পেয়েছিল। সে ২০০২ সাল হতে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মালিবাগ চৌধুরী পাড়ার একটি মাদ্রাসায় দাউরা হাদিস সম্পন্ন করে। অতঃপর সে ২০০৪ সাল হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ভারতের উত্তর প্রদেশে দেওবন্দে দারুল উলুমে পড়াশুনা সম্পন্ন করে। পড়াশুনা শেষ করে সে ২০০৭ সাল হতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মিরপুর হযরতপুর ১২ নং পল্লবীতে হাদিস বিষয়ক গবেষণা করে। সে কোরআনে হাফেজ, হাদীস বিষয়ে অত্যন্ত পারদর্শী এবং একজন দক্ষ অনুবাদক। শায়েখ মামুন পেশায় একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। সে বিগত ২০১০-২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ০৭ বছর বায়তুন নুর মাদ্রাসা, সায়েদাবাদ, ঢাকায় শিক্ষকতা করেছে। ২০১৬ সাল থেকে অদ্যাবধি সে মারকাজুল হিকমা ওমর ফারুক কওমী মাদ্রাসা, ডেমরা, ঢাকায় ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে শায়েখ মামুন জানায় যে, সে ২০১৪ সালে জনৈক জেএমবি-সদস্য তৌহিদ ও ইমাম ওরফে দারা-কুতনি এর মাধ্যমে প্ররোচিত হয়ে জেএমবিতে অন্তর্ভূক্ত হয়। ২০১৫ সালে সে জেএমবির সারোয়ার-তামীম গ্রুপে যোগদান করে এবং শরিয়াহ বোর্ডের সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করে। পরবর্র্তীতে তার কর্মদক্ষতার কারনে সে ২০১৬ সালে জেএমবির সারোয়ার-তামীম গ্রæপের শরিয়াহ বোর্ডের আমীর নির্বাচিত হয়। শরিয়াহ বোর্ডে ১০/১৫ জনের একটি দল কাজ করে। এই বোর্ডের কাজ মূলতঃ বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত ম্যাগাজিন, বই, লিফলেট এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন উগ্রবাদী মতাদর্শকে বাংলায় অনুবাদ করে জেএমবির সারোয়ার-তামীম গ্রুপের আলেম বোর্ডের মাধ্যমে সকলের কাছে প্রচার করা। আলেম বোর্ডের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে সুযোগ-সুবিধা বুঝে এসকল অনুবাদকৃত মতাদর্শ সমূহ বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদ, মজলিশ ইত্যাদি স্থানে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রচার করে থাকে। এছাড়াও অনুবাদকৃত মতাদর্শের নথি দাওয়াতের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
শায়েখ মামুন শরিয়াহ বোর্ডের কর্মকান্ড সম্পর্কে জানায় যে, জাহিদ, তৌহিদ এবং ইমাম বিভিন্ন দেশী বিদেশী উৎস ও মাধ্যম হতে মুলত: আরবী ভাষার উগ্রবাদী মতাদর্শের নথিপত্র গুলি শায়েখ মামুন এর নিকট নিয়ে আসত এবং অনুবাদ শেষে তারা সেগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যেত। ইতিপূর্বে ১০-১১ জুন ২০১৭ তারিখে র্যাব-১১ এর অভিযানে গ্রেফতারকৃত জেএমবির কেন্দ্রীয় দাওয়াত বিষয়ক বোর্ডের শুরা সদস্য ইমরান আহমেদও উক্ত নথিপত্রের অন্যতম একজন উৎস ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। এছাড়া জেএমবির সারোয়ার-তামীম গ্রæপের শুরা সদস্য ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী সাজিদ প্রায়শই জেএমবির আমীর আবু মুহারিবের পক্ষে শরিয়াহ বোর্ডের কাজ তদারকির জন্য শায়েখ মামুন এর সাথে সাক্ষাত ও গোপন বৈঠক করত। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

